kalerkantho


তিন মামলায় হাইকোর্টে খালেদার জামিন আবেদন

শুনানি হতে পারে আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ মে, ২০১৮ ০০:০০



তিন মামলায় হাইকোর্টে খালেদার জামিন আবেদন

নাশকতা সৃষ্টি ও হত্যার অভিযোগে কুমিল্লার দুই মামলা এবং মানহানির অভিযোগে নড়াইলে করা মামলায় হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করেছেন কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। গতকাল রবিবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় ওই তিন মামলায় জামিন আবেদন দাখিল করা হয়। খালেদা জিয়ার পক্ষে তাঁর আইনজীবীরা এ আবেদন দাখিল করেন। আজ সোমবার এ আদালতেই জামিন আবেদনের ওপর শুনানি হতে পারে।

বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি জে বি এম হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চের অনুমতি নিয়ে গতকাল এ জামিন আবেদন দাখিল করা হয়। খালেদা জিয়ার পক্ষে অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, ব্যারিস্টার এ কে এম এহসানুর রহমান ও অ্যাডভোকেট মাসুদ রানা জামিন আবেদন দাখিল করার অনুমতি নেন। এরপর হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় জামিন আবেদন দাখিল করা হয়। জামিন আবেদন দাখিলের পর খালেদা জিয়ার আইনজীবী অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, তিনটি মামলায় জামিনের আবেদন করা হয়েছে। কুমিল্লার মামলায় জামিন আবেদনের শুনানি এগিয়ে আনার আবেদন করা হলেও তা নিষ্পত্তি করেননি আদালত। এ অবস্থায় হাইকোর্টে আবেদন করা হয়।

কুমিল্লায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার হায়দারপুল এলাকায় একটি কাভার্ড ভ্যানে অগ্নিসংযোগ ও গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগে ২০১৫ সালের ২৫ জানুয়ারি চৌদ্দগ্রাম থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে নাশকতার অভিযোগে মামলা হয়। এ মামলায় ২০১৭ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াসহ ৩২ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। মামলাটি বর্তমানে কুমিল্লার বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১-এ বিচারাধীন। মামলায় ২০১৭ সালের ৯ অক্টোবর অভিযোগ আমলে নেন আদালত। এ মামলায় খালেদা জিয়ার জামিনের আবেদন করা হয় গত ২৩ এপ্রিল। আগামী ৭ জুন কুমিল্লার আদালতে এ জামিন আবেদনের শুনানির দিন ধার্য রয়েছে। এ অবস্থায় হাইকোর্টে জামিন আবেদন করা হয়েছে।

কুমিল্লায় হত্যার অভিযোগে আরেক মামলা

বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের অবরোধ চলাকালে ২০১৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ভোরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চৌদ্দগ্রামের জগমোহনপুরে দুষ্কৃতকারীদের ছোড়া পেট্রলবোমায় আইকন পরিবহনের একটি বাসে আগুন লেগে আটজন যাত্রী নিহত হয়। আহত হয় ২০ জন। এ ঘটনায় ওই দিনই চৌদ্দগ্রাম থানায় ৫৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। এ মামলায় খালেদা জিয়া, রুহুল কবীর রিজভীসহ বিএনপি-জামায়াতে ইসলামীর ৭৮ জনের বিরুদ্ধে গত বছরের ২ মার্চ অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। এরপর এ মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন কুমিল্লার আদালত। গত ৫ এপ্রিল এ মামলায় খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে কুমিল্লার আদালতে জামিন আবেদন করেন খালেদা জিয়া। আগামী ৭ জুন শুনানির জন্য রয়েছে। এ অবস্থায় গতকাল হাইকোর্টে জামিন আবেদন করা হয়।

নড়াইলে মানহানির অভিযোগে মামলা

মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা নিয়ে ২০১৫ সালের ২১ ডিসেম্বর বিরূপ মন্তব্য করার অভিযোগে ওই বছরের ২৪ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নড়াইলে মানহানির মামলা করা হয়। স্থানীয় এক মুক্তিযোদ্ধার সন্তান রায়হান ফারুকী ইমাম বাদী হয়ে মামলাটি করেন। ২০১৬ সালের ২৩ আগস্ট খালেদা জিয়াকে সশরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন আদালত। নির্ধারিত সময়ে খালেদা জিয়া আদালতে হাজির না হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এ মামলায় এ মাসেই খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন খারিজ করেন নড়াইল সদর আমলি আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নয়ন বড়াল। এ অবস্থায় এ মামলায় হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করা হলো।

 


মন্তব্য