kalerkantho


হতাশার সঙ্গে গৌরবও আছে বেলজিয়ামের

১২ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



হতাশার সঙ্গে গৌরবও আছে বেলজিয়ামের

২০৩ বছর আগে ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়ন বোনাপার্ট তাঁর শেষ যুদ্ধটি হেরেছিলেন ওয়াটারলু শহরে। ফরাসি সীমান্তঘেঁষা বেলজিয়ান এই শহরে মঙ্গলবার ছিল এ রকম আরেকটি জয় উদ্যাপনের প্রস্তুতি। সেন্ট পিটার্সবার্গে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মুখোমুখি ফ্রান্স আর বেলজিয়াম—উৎসবের প্রস্তুতি নিয়েই বড় পর্দায় ম্যাচটি দেখার আয়োজন করা হয়েছিল।

কিন্তু ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি যে হলো না শেষ পর্যন্ত! ফরাসি জয়রথকে থামানো গেল না, উল্টো হারের বেদনা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হলো ‘লাল শয়তান’দের। ওয়াটারলুর সিটি সেন্টারেও তাই উৎসবের বদলে মরা বাড়ির নিস্তব্ধতা। অ্যালিস করডিয়ার নামে ২৭ বছর বয়সী এক ভক্তের কথা থেকে অনুমান করে নেওয়া যায় পরিবেশটি, ‘আমরা সত্যিই হতাশ। বিশেষ করে ফ্রান্সের কাছে হারটা আরো খারাপ, এটা বেলজিয়ামের জাতীয় দুর্ভাগ্য বলতে পারেন।’

বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী চার্লস মিচেল কিন্তু মোটেই অতটা হতাশ নন। ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছে দল, সেটাই বা কম কিসে? তাঁর টুইট,‘বাহবা রেড ডেভিলদের। সেমিফাইনাল পর্যন্ত তোমাদের পারফরম্যান্স আমাদের আনন্দে ভাসিয়েছে’ ।

সাধারণ ভক্ত আর প্রধানমন্ত্রীর ভাবনার এই যে অমিল, তার পুরোটাই উপস্থিত বেলজিয়ান দলের সদস্যদের মনে। কোচ রবার্তো মার্টিনেজ তো বুঝতেই পারছেন না, আসলে ফলটা ভালো হলো নাকি মন্দ! ‘আমাদের ড্রেসিংরুমটা এখন এক দুঃখময় স্থান। কারণ, ফাইনালে ওঠার সুযোগটাই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য ছিল। কিন্তু আমি মাথা উঁচু করেই ফিরতে চাই। মাথা উঁচু রেখে ফেরাটাই ওদের প্রাপ্য’—ম্যাচ শেষের সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন তিনি। সেটা করার সুযোগ এখনো আছে, তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচটি জিততে পারলেই বিশ্বকাপে নিজেদের সেরা সাফল্যের রেকর্ড নতুন করে লেখা হবে। ৩২ বছর আগের মেক্সিকো বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে সেবারের চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার কাছে হারার পর তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচেও হেরেছিল তারা, সেখানেও তাদের প্রতিপক্ষ ছিল ফ্রান্স। নির্ধারিত সময়ে ১-১ সমতার ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ৪-২ গোলে জিতেছিল লা ব্লুজ। কিন্তু মার্টিনেজ জানেন, আসলে এই ম্যাচটা একরকম গতি-জড়তার ম্যাচ। কোনো রকমে খেলা আর কি! ‘এমন একটা ম্যাচের জন্য দলকে উজ্জীবিত করা খুব কঠিন’ বলেছেন বেলজিয়ামের কোচ।

তাঁকে আরো পোড়াচ্ছে, কারণ ফাইনাল থেকে দূরত্বটা যেন ছিল এক পলকের। ফ্রান্সের সঙ্গে দারুণ লড়াই হয়েছে সেমিফাইনালে। জিততে পারত যে কেউ। কর্নার থেকে স্যামুয়েল উমতিতির গোলটি যে ব্যবধান গড়ে দিয়েছে, মার্টিনেজের চোখে সেটা যেন মসলিন মিহি সুতার মতো, ‘এমন নয় যে ফ্রান্স একেবারে জিতে নিয়েছে ম্যাচটি। দারুণ লড়াই হয়েছে ম্যাচে, এমন অনেকগুলো মুহূর্ত এসেছে যার যেকোনোটিই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিতে পারত। শেষ পর্যন্ত একটা সেট পিস ব্যবধানটা গড়ে দিয়েছে।’

ম্যাচের প্রথম ৪৫ মিনিটে সুষ্পষ্ট প্রাধান্য ছিল বেলজিয়ামের। ওই সময় তাদের আক্রমণ সামাল দিতেই ব্যতিব্যস্ত ছিল ফ্রান্স। সেটা মনে করিয়ে দিয়েছেন মার্টিনেজ, ‘আমাদের পায়েই বল ছিল, কিন্তু ওরা যেভাবে রক্ষণ সামাল দিয়েছে, তাতে ফ্রান্সকে কৃতিত্ব দিতেই হয়। আমাদের যথেষ্ট সম্মান দিয়েছে তারা। কিন্তু আমরাই পারিনি গোলের সামনে একটা ফাঁক খুুঁজে বের করতে।’

পারেননি বলেই বেলজিয়ামের সোনালি প্রজন্মের কাছেও অধরাই রইল বিশ্বকাপ, ছুঁয়ে দেখার দূরত্বেও পৌঁছাতে পারলেন না তারা, থামতে হলো তার এক ধাপ আগেই! এএফপি, রয়টার্স

 



মন্তব্য