kalerkantho


ত্বকের যত্নে জাদুকরী কাঠকয়লা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১২ নভেম্বর, ২০১৭ ১৪:৪৯



ত্বকের যত্নে জাদুকরী কাঠকয়লা

আগেকার দিনের মানুষদের কয়লা দিয়ে দাঁত মাজতে দেখা যেতো। এই যুগের মানুষ তো এসব চিন্তাই করতে পারে না।

কয়লার মতো কালো জিনিস দিয়ে কখনও দাঁত সাদা হয়? আসলে বিজ্ঞানের কথা না জানলে বিশ্বাস করবেন না অনেকে। অ্যাক্টিভেটেড কার্বন বা কাঠকয়লার রয়েছে ময়লা শোষণের বিস্ময়কর ক্ষমতা। অনেকে সক্রিয় কার্বনও বলেন একে।

মূলত কাঠকয়লার সক্রিয় কার্বন তৈরি করা হয়। উচ্চ তাপমাত্রায় কার্বোনাইজেশনের সঙ্গে গ্র্যাজুলেশন, অ্যাক্টিভেশন এবং প্রক্রিয়াকরণের বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় কাঠ সক্রিয় কার্বন প্রস্তুত করা হয়। ভারী শিল্পের এর নানাবিধ ব্যবহার রয়েছে। দ্রাবক পুনরুদ্ধার, বায়ু পরিশোধন, তেল এবং গ্যাস পুনরুদ্ধার, চিকিৎসা ইত্যাদি কাজে কাঠকয়লার ব্যবহার রয়েছে। তবে এখানে এর আরেকটি ব্যবহারের কথা তুলে ধরা হলো।  

অনেক আগে থেকেই কিন্তু রূপচর্চা বা স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিষয়ে ব্যবহৃত হয়ে আসছে কাঠকয়লা।

অনেক গবেষণায় প্রমাণ মিলেছে যে, কয়লার ব্যবহারে বিশেষ করে ত্বকের অনেক উপকার মেলে। এখানে ৫টি কারণ জেনে নিন। প্রতিদিনই কিন্তু আপনি রূপচর্চায় অ্যাক্টিভেটেড কার্বন বা চারকোল বা কাঠকয়লা ব্যবহার করতে পারেন।  

১. ত্বকের বিষ তাড়ানো 
সাধারণত ওষুধের কাজ করে সক্রিয় কয়লা। স্বাস্থ্যর যত্নে খুবই উপকারী। পাকস্থলীতে সমস্যা থাকলে পরিমিত খেতে পারলে পাকস্থলীর বিষাক্ত উপাদান দূর হবে। একইভাবে এটি আপনার ত্বকের বিষাক্ত উপাদান কোনো ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই শুষে নেবে। ত্বক থেকে সহজেই ময়ল ও বাড়তি তেল দূর করে। আর লোমকূপও থাকে পরিষ্কার। পুরনো আমলে থেকেই পাকস্থলীর বিষক্রিয়ায় কাঠকয়লা খেতে তা রীতিমতো ওষুধের মতো কাজ করতো।   

২. ব্রনের চিকিৎসায় 
অ্যাক্টিভেটেড চারকোল একনিপূর্ণ ত্বকের জন্যে খুবই উপকারী। একনি সৃষ্টিকারী জীবাণু দূর করে। ফলে ব্রন ধীরে ধীরে কমে আসে।  

৩. তেলে ভারসাম্য আনয়ন 
কয়লা কিন্তু ত্বকের অতিরিক্ত তেল দূর করে। ফলে ত্বকে ব্রন ওঠার আশঙ্কাও কমে আসে। সেই সঙ্গে ত্বকের ময়েশ্চার ধরে রাখতে তেলের ভারসাম্য বজায় রাখে।  

৪. মৃত ত্বক দূর করে 
কয়লা দিয়ে স্কার্ব বানালে তা ত্বকে নিশ্চিন্তে ব্যবহার করা যায়। এটি দারুণভাবে ত্বকের মৃত ত্বক দূর হয়। কাজেই স্কার্বের জন্যে অ্যাক্টিভেটেড কার্বনকে সেরা মনে করা যায়।  

৫. ত্বকের রং 
কেবল ত্বকের তেলের ভারসাম্যই বজায় রাখে তা নয়, এটি ত্বকের স্বাভাবিক রং ধরে রাখতে সহায়তা করে। সেই সঙ্গে ত্বকের সতেজ ভাব রক্ষা করে।  

আসলে অ্যাক্টিভেটেড চারকোলের বিভিন্ন ধরনের উপাদান ত্বকের ময়লা এবং মৃত ত্বক একেবারে পরিষ্কার করতে সক্ষম। মলিন ত্বকের সতেজ ভাবও চলে আসে খুব দ্রুত। এ কারণেই পৃথিবীর বড় বড় প্রসাধন কম্পানি অ্যাক্টিভেটেড চারকোলের ওপর দারুণ ভরসা রাখে।  
সূত্র : ডন 


মন্তব্য