kalerkantho


সিরিয়া যুদ্ধে বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে আসাদ সরকার

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ১৮:০১



সিরিয়া যুদ্ধে বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে আসাদ সরকার

ফাইল ফটো

সিরিয়া যুদ্ধ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিশ্লেষণ প্রকাশ করছেন রবার্ট ফিস্ক। সর্বশেষ নিবন্ধে তিনি উল্লেখ করেছেন, সিরিয়ায় সম্ভবত বাশার আল আসাদ সরকারের বাহিনী বিজয়ী হতে চলেছে।

দীর্ঘদিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর এ ঘটনা অনেকের জন্যই তাৎপর্যপূর্ণ।

পাঁচ বছর আগে যখন সিরিয়ায় সরকারি বাহিনীর একজন কমান্ডার মোহাম্মদ খাদোরের সঙ্গে দেখা হয় তখন তার অধীনে অল্প কিছু সেনা ছিল। আলেপ্পো নিয়ন্ত্রণকারী সে দলটির ওপর হুমকি আসছিল বিভিন্ন সশস্ত্র সংস্থার পক্ষ থেকে। সে সময় তিনি হারানো কয়েকটি এলাকার মানচিত্র দেখিয়ে বলেন ১১ দিনের মধ্যে তিনি সে এলাকা পুনঃদখল করবেন।

এরপর তার সঙ্গে দেখা হয় পাঁচ বছর পর। নতুন নতুন এলাকা বিদ্রোহীদের থেকে দখল করে নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন তিনি। প্রশ্ন ছিল, সে এলাকাটি দখল করতে কতদিন লেগেছিল? এ প্রশ্নে তিনি জানান, শেষ পর্যন্ত প্রায় চার বছর লেগেছিল। এখন তিনি ডেইর এর-জোর শহরে প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

সে সময় কী সমস্যা ছিল? এ প্রশ্নে তিনি জানান, সেটা বহুদিন আগের কথা।

তখনো গেরিলা যুদ্ধের মধ্যে সেনাবাহিনী যুদ্ধ করা শেখেনি। সে সময় সেনাবাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় গোলান দখলের ও দামেস্ক রক্ষার। কিন্তু কৌশলগুলো তারা এখন শিখেছে।

মরুভূমির মধ্যে যুদ্ধ করার বিষয়টি ভিন্ন। খাদোর বলছিলেন, তিনি শুখানা নামে একটি শহরে বোমাবর্ষণ করতে যাচ্ছিলেন। আর রাশিয়ানরা এ বোমাবর্ষণের অনেকটাই করে দিয়েছিল। তার সিরিয়ান বাহিনী তিন বছর ইসলামিক স্টেট বাহিনীর হাতে ঘেরাও অবস্থায় ছিল। তাদের সঙ্গে তখন ছিল ৮০ হাজার সাধারণ মানুষ ও ১০ হাজার সেনা।

খাদোর বলছিলেন, তিনি ২৩ আগস্ট ডেইর এর-জোর শহরে পৌঁছাবেন বলে আশা করছেন। এরপর সিরিয়া-ইরাক সীমান্তের সে এলাকার বাকি অংশগুলোও দখল করে নেবেন।

সিরিয়া বাহিনীর সাম্প্রতিক অগ্রযাত্রা দেখে এখন এটা মনে হচ্ছে যে, খাদুর শহরটিই যুদ্ধক্ষেত্র হয়ে উঠবে। আলেপ্পো হাতে চলে এসেছে। এরপর ইদলিব এলাকায় ইসলামিক বিচ্ছিন্নতাবাদীদের অবশিষ্টাংশ থাকবে। তাদের মধ্যে রয়েছে আল কায়েদাও। তাদের অনেকে আবার সে এলাকায় ভ্রমণের জন্য অনুমতিপ্রাপ্ত, যদি তারা আত্মসমর্পণে রাজি থাকে।

পশ্চিমাদের কাছে যা এতদিন চিন্তারও বাইরে ছিল, তাই হচ্ছে। বাশার আল-আসাদ বাহিনী যুদ্ধে বিজয়ের দিকে তাকিয়ে আছে।

শুধু হাসান টাইগার সালেহ-এর মতো সিরিয়ার প্রিয় সামরিক অফিসারই নয়, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও সেদিকেই তাকিয়ে আছে।

কতজনে মনে রাখতে পেরেছেন যখন আমেরিকানরা সিরিয়ার সেনাবাহিনীর ওপর বোমাবর্ষণ করে তাদের ৬০ সদস্যকে হত্যা করেছে? যে হামলার পর আইএস তাদের শহরের অন্য অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন করার সুযোগ পেয়েছিল।

সিরিয়ানরা কখনোই বিশ্বাস করেনি যে, মার্কিনিরা ভুল করে বোমাবর্ষণ করেছে। এটা ছিল একমাত্র রাশিয়া, যারা মার্কিন বিমান বাহিনীকে বলেছিল যে, আপনারা সিরিয়ার বাহিনীর ওপর হামলা করেছেন।

ব্রিটিশদের দেখে মনে হচ্ছে, তারা ইতিমধ্যেই এ বার্তা পেয়ে গেছে। তারা গত সপ্তাহে কৌশলে তাদের সামরিক প্রশিক্ষকদের প্রত্যাহার করেছে। তারা ডেভিড ক্যামেরনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছিল, যার উদ্দেশ্য ছিল ৭০ হাজার বিদ্রোহী সেনা তৈরি।

সিরিয়ার সরকারি বাহিনী কর্তৃক রাসায়নিক হামলায় ৮০ জন নিরপরাধ ব্যক্তি নিহত হয়। এরপর ট্রাম্পের বিমান হামলা চলে আসাদ বাহিনীর বিমানঘাঁটিতে। তাতেও অবশ্য কারো কোনো সমস্যা হয়নি।

সিরিয়ান বাহিনীর ক্রমাগত বিজয়ে এটাই বোঝা যায় যে, তারা এ এলাকায় সবচেয়ে ভালো যোদ্ধা। এর সেনারা তাদের জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করছে এবং তারা প্রশিক্ষণ পেয়ে বাহিনীর অন্যান্য অংশ ও গোয়েন্দাদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করছে।

এখন ইসরায়েল কী করছে? নেতানিয়াহু ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা নিয়েই বেশি মাত্রায় চিন্তিত। ওবামা, হিলারি ক্লিনটন, ট্রাম্প, ক্যামেরন, মে, ওলাঁদ ও পশ্চিমা অন্যান্য নেতাদের মতোই তিনি ভাবতেও পারেননি যে, আসাদ বিজয়ী হতে পারেন কিংবা শক্তিশালী ইরাকি বাহিনী গড়ে উঠতে পারে।

নেতানিয়াহু কুর্দিদের সমর্থন করেন। কিন্তু সিরিয়া, তুরস্ক, ইরান বা ইরাক কেউই কুর্দিদের বিচ্ছিন্নতাবাদী স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে চায় না।

অনেকেই মধ্যপ্রাচের সামরিক মানচিত্রের এ পরিবর্তনকে এখনো বুঝতে পারেননি। তারা শুধু ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকেই তাকিয়ে আছেন। যদিও ইতিমধ্যেই পরিবর্তিত হয়ে গেছে মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র।

মধ্যপ্রাচের অনেকেই আসাদকে আইএসের তুলনায় বিপজ্জনক বলে মনে করেন। যদিও বিষয়টি তেমন নাও হতে পারে। তাদের উত্তরের সীমান্ত সুরক্ষিত রাখতে আসাদের সঙ্গেই আলোচনার প্রয়োজন হতে পারে।

সূত্র : দ্য ইন্ডিপেনডেন্টে প্রকাশিত রবার্ট ফিক্সের নিবন্ধ


মন্তব্য