kalerkantho


রোহিঙ্গাদের ‘কুমিরের কান্না’ নিয়ে মিয়ানমারের পত্রিকায় কার্টুন!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ২০:৪০



রোহিঙ্গাদের ‘কুমিরের কান্না’ নিয়ে মিয়ানমারের পত্রিকায় কার্টুন!

ছবি ইন্টারনেট থেকে

মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর অত্যাচার-নির্যাতনের মুখে পড়ে রোহিঙ্গাদের চোখ নেমেছে দুঃখের অশ্রু। আর বিদেশি বহু মিডিয়াই তাদের এসব দুঃখগাথা তুলে ধরছে।

তবে মিয়ানমারের সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, বিদেশি সংবাদমাধ্যমের সামনে রোহিঙ্গারা ‘কুমিরের কান্না’ কাঁদছে।

রোহিঙ্গাদের এ পরিস্থিতিতে মিয়ানমারে একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা  গতকাল শনিবার একটি কার্টুন প্রকাশ করে।

দেশটির শীর্ষস্থানীয় কার্টুনিস্ট উইন নেইং এর আঁকা ওই কার্টুনে দেখা গেছে, কয়েকটি কুমির একটি নদীর মধ্যে আছে। এর এক পাশে কিছু প্রাণী দাঁড়ানো। অন্যপাশে একটি কুমির এক বিদেশি সাংবাদিকদের বলছে, আমি আমার মাতৃভূমিতে ফিরতে চাই। ওই কার্টুনের নিচে ক্যাপশন দেওয়া হয়েছে ‘কুমিরের কান্না’।

কার্টুনটির বিষয়ে ৫৮ বছর বয়সের ওই কার্টুনিস্ট বলেন, ‘আমি আমার দেশের অবস্থা তুলে ধরতে চেয়েছি। রোহিঙ্গারা যা বলে তার অনেক কথাই সত্য নয়। দেশপ্রেমের জায়গা থেকেই আমি কার্টুনটি এঁকেছি।

তবে দেশটির আরেক কার্টুনিস্ট মং মং বলেছেন, ‘আপনি কার্টুন আকঁতে পারেন। কিন্তু সেটা দিয়ে অন্য কোনো ধর্ম আর গোত্রের লোককে অপমান করা অনুচিত। ’

মিয়ানমারের এ শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতিতেও কিছু মুক্তবুদ্ধির মানুষ রয়েছেন। তারা রোহিঙ্গাদের সঠিক বিষয়টি বুঝতে পারলেও তা সামরিক বাহিনী ও সরকারের ভয়ে প্রকাশ করতে পারছে না।

এদিকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর চলমান নিপীড়নের মধ্যেই এই ইস্যুতে মিয়ানমারবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির সেনাবাহিনীর প্রধান।

তিনি বলেছিলেন, রোহিঙ্গারা জাতি হিসেবে স্বীকৃতি চায়। কিন্তু মিয়ানমারে এই জাতিসত্তার কোনো অস্তিত্ব নেই। রোহিঙ্গারা যে আদতে বাঙালি এই সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করতে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এই দেশে তাদের কোনো শেকড় নেই।

রোহিঙ্গারা শত শত বছর ধরে রাখাইন রাজ্যে বসবাস করলেও মিয়ানমার সরকার তাদের নিজ দেশের নাগরিক মনে করে না।

গত কয়েক দশক ধরেই বিভিন্ন সময়ে দেশটির সেনাবাহিনীর অভিযানের মুখে সেখান থেকে পালাতে বাধ্য হয়েছে রোহিঙ্গারা।

সর্বশেষ গত ২৫ আগস্ট থেকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে শুরু হওয়া সেনা অভিযানের মুখে সেখান থেকে প্রায় ৪ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। আর সে পরিস্থিতিতেই এ কার্টুনটি আঁকা হয়েছে।

সূত্র : ডন

 


মন্তব্য