kalerkantho


ভোরের পূবাকাশে দুই গ্রহের যুগলোদয়

জাহাঙ্গীর সুর   

১২ নভেম্বর, ২০১৭ ২৩:৫৩



ভোরের পূবাকাশে দুই গ্রহের যুগলোদয়

২০০৮ সালের ৩ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের পূবাকাশে শুক্র ও বৃহস্পতি গ্রহের সহ-উত্তরণ। ছবি : ডেভ জুরাসেভিচ, মাউন্ট উইলসন মানমন্দির

শুক্র ও গ্রহরাজ বৃহস্পতি দুই গ্রহের যুগলোদয় দেখা যাচ্ছে পূবাকাশে, সূর্য ওঠার আগে। দুটোই গ্রহ, যাদের নিজের কোনো আলো নেই।

কিন্তু অবস্থানের কারণে ভোরের আকাশে খালি চোখেই তাদের উজ্জ্বল তারার মতোই দেখা গেছে। সপ্তাহ জুড়েই এদের দেখা মিলবে, সূর্য ওঠার আধা মতো ঘণ্টা আগে। তবে ১৩ নভেম্বর সোমবার ভোরেই সবচেয়ে কাছাকাছি সংযোগে থাকবে গ্রহ দুটো।

বাংলাদেশ, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানমনস্করা শুক্র-বৃহস্পতির এমন সংযোগ পর্যবেক্ষণ করছেন। বাংলাদেশের বিজ্ঞান সংগঠন ডিসকাশন প্রজেক্ট, বরিশালের কসমিক কালচার, চাঁপাইনবাবগঞ্জের আকিমুদ্দিন গ্রন্থাগার এবং দ্য স্টারগেজার্স সোসাইটি অব বাংলাদেশ পৃথক পৃথকভাবে মহাজাগতিক এই দৃশ্য দেখার আয়োজন করেছে।

বাংলাদেশ সময় পাঁচটার কিছু সময় পরই শুক্র ও বৃহস্পতিকে কাছাকাছি দেখা যাবে। তবে এ দৃশ্য দেখার ক্ষেত্রে শহুরে আলো বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। আলোর কোলাহল নেই এমন জায়গা থেকে গ্রহদ্বয়ের সহ-উত্তরণ (কনজাংশন) ভালো দেখা যাবে।

ডিসকাশন প্রজেক্টের সহ-উদ্যোক্তা আসিফ টেলিফোন সাক্ষাৎকারে এই লেখককে জানিয়েছেন, দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগঠনের বিজ্ঞানকর্মীরা সিমিত পরিসরে শুক্রগ্রহ ও বৃহস্পতির এই সাক্ষাতের সাক্ষী হচ্ছেন।

কসমিক কালচারের সাধারণ সম্পাদক যোয়েল কর্মকার এই লেখককে বলেছেন, আমরা বরিশাল ও ঢাকা থেকে খুব সাধারণভাবে এ উৎসবে যোগ দিচ্ছি।  

আকিমুদ্দিন গ্রন্থাগারের বিজ্ঞানকর্মী ইকবালে হোসেন বলেছেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের বেশ কয়েকটি অঞ্চলে এবং রাজশাহী ও টাঙ্গাইলে আমরা সৌরজগতের এই মনোহারী দৃশ্যের সাক্ষী হচ্ছি।

এর আগে ২০১২ সালে বাংলাদেশ থেকে এই বিজ্ঞান সংগঠনগুলো সূর্যের বুকে শুক্রের চলন বা ভেনাস ট্রানজিট পর্যবেক্ষণ করেছিল। শুক্রগ্রহকে সাধারণ মানুষ শুকতারা ও সন্ধ্যাতারা বলে ডাকে। সূর্য থেকে দূরত্বের বিচারে এটি দ্বিতীয় গ্রহ। পৃথিবী থেকে এর গড় দূরত্ব ২৬ কোটি কিলোমিটার। আর বৃহস্পতি হলো পঞ্চম গ্রহ। এটি পৃথিবী থেকে গড়ে ৫৯ কোটি কিলোমিটার দূরে থাকে।


মন্তব্য