kalerkantho


রসগোল্লা পশ্চিমবঙ্গেরই রইল

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৪ নভেম্বর, ২০১৭ ২০:০৩



রসগোল্লা পশ্চিমবঙ্গেরই রইল

রসগোল্লা বাংলারই। উড়িষ্যার সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ে শেষ হাসি হাসল বাংলাই।

রসগোল্লার জিওগ্র্যাফিকাল ইন্ডিকেশন ফর গুডসের রেজিস্ট্রেশন পেল পশ্চিমবঙ্গ। ভারত সরকার অবশেষে পশ্চিমবঙ্গের কলকাতাকেই রসগোল্লার জন্মভুমি হিসেবে চুড়ান্তভাবে স্বীকৃতি দিল।

রসগোল্লা কলকাতার। এটাই কয়েক যুগ ধরে জেনে এসেছে সবাই। তবে ২০১৫ সালে রসগোল্লার আঁতুড়ঘরের নয়া দাবিদার হিসেবে উঠে আসে উড়িষ্যার নাম। নিজেদের রসগোল্লার উত্‍‌সস্থল হিসেবে দাবি করে জিআই-এর অধিকারের দাবিতে লড়াই শুরু করে উড়িষ্যা সরকার।

তাদের যুক্তি ছিল, হিন্দুদের উল্টোরথের পরদিন উড়িষ্যায় পালিত হয় রসগোল্লা দিবস। পৌরাণিক মতে প্রচলিত রয়েছে যে মাসির বাড়ি থেকে ফিরে আসার সময় জগন্নাথ দেবকে ঘরে ঢুকতে দেননি লক্ষী দেবী। তাঁকে না-নিয়ে জগন্নাথ দেব মাসির বাড়ি যাওয়ায়, তিনি রেগে গিয়েছিলেন।

তখন লক্ষীদেবীকে রসগোল্লা উপহার দেন জগন্নাথ দেব। তাতেই খুশি হয়ে পথ ছেড়ে দেন লক্ষী দেবী। সেই থেকেই নাকি রসগোল্লা দিবস পালনের রীতি চলে আসছে। কথিত এই গল্পের যুক্তি দেখিয়েই রসগোল্লার উত্‍‌সস্থল হিসেবে স্বীকৃতি দাবি করে উড়িষ্যা।

তবে বাংলাও লড়াইয়ে পিছিয়ে থাকেনি। প্রয়োজনীয় নথি পেশ করে রসগোল্লার মালিকানা দাবি করে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। রসগোল্লার বাঙালিয়ানা নিয়ে পেশ করা হয় নানা জোরদার যুক্তি। দাবি করা হয়, দেশের কোনও অংশেই ছানার কোনও মিষ্টি ভোগ হিসেবে দেওয়ার প্রচলন নেই। দেবতাকে নিবেদন করা হয় ক্ষীরের মিষ্টি।

আর একটি যুক্তিতে বলা হয়েছে, ছানা নামটি বাংলার নিজস্ব। গরম দুধে কোনও অম্ল দিয়ে সেটিকে কাটিয়ে বা ছিন্ন করে ছানা তৈরি হয়। অনেকটা মায়ের নাড়ি ছেঁড়া সন্তানের মতো। দুধ ছিন্ন করে তৈরি ছানা দিয়ে অতীতে দেবভোগ্য কোনও বস্তু তৈরি হত না ভারতীয় হিন্দু সমাজে। প্রাণীদেহ থেকে উত্‍‌পন্ন দুধ কাটালে তা অপবিত্র হয়ে যায়, এই যুক্তিতে তা দেবতাকে দেওয়া হত না।

উড়িষ্যার যুক্তির বাস্তব কোনও ভিত্তি না-থাকায় তাদের দাবি খারিজ করে রসগোল্লার GI রেজিস্ট্রেশন পশ্চিমবঙ্গকেই দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। টুইটারে এই নিয়ে আনন্দপ্রকাশ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

সূত্র: এই সময়


মন্তব্য