kalerkantho


বাবরি মসজিদ উড়িয়ে দিতে এসেছিলেন, এখন চড়ান গরু

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৭ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১২:৪৭



বাবরি মসজিদ উড়িয়ে দিতে এসেছিলেন, এখন চড়ান গরু

দাঙ্গার দুই বছর আগেই বাবরি মসজিদ উড়িয়ে দিতে এসেছিলেন সুরেশ বাঘেল, কৃতকর্মের জন্যে অনুশোচনা নেই, এখন গরুর সেবায় সময় কাটান

গতকাল ৬ ডিসেম্বর বাবরি মসজিদ ভাঙার ২৫ বছর পূর্ণ হয়েছে। ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর ভারতের অযোধ্যা শহরে সপ্তদশ শতকে তৈরি এই ঐতিহাসিক স্থাপনা ভেঙে ফেলেছিল উন্মত্ত হিন্দু জনতা।

সেই ঘটনা এখন ইতিহাস। তবে এমন সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা মানবসভ্যতার ইতিহাসে ক্ষত হয়েই থাকে। দিনটিকে স্মরণ করে মিডিয়া প্রতিবেদন ছাপে। সেই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীও তার অভিজ্ঞতার কথা জানান। এসবের মাঝে খুঁজে পাওয়া গেছে এক বিশেষ ব্যক্তিকে। বাবরি মসজিদ উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে তিনি সেই সময় থেকেই বেশ পরিচিতি পান।  

তিনি সুরেশ চন্দ্র বাঘেল। এখন বয়স ৫০ এর কোঠায়। দাঙ্গার সময় ২৩ বছরের তরতাজা তারুণ্য ছিল তার।

১৯৯০ সালে ডায়নামাইট দিয়ে এই মসজিদ উড়য়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। এমন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের জন্যে ৫ বছর জেল খেটেছেন। দাঙ্গা শুরুর বছর দুয়েক আগেই তিনি এ কাজ করতে গিয়ে সমমনাদের কাছে হিরো বনে যান।  

২৫ বছর পর আজ সেই মানুষটির খবর তুলে ধরেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম। সেখানে বলা হয়, বাঘেল এখন নির্জনতা আর নিঙ্গতার মধ্যে জীবন কাটাচ্ছেন। 'সাধু' হয়েছেন তিনি। সাধুরা যেভাবে জীবনযাপন করেন, সেই পথই বেছে নিয়েছেন বাঘেল। বৃন্দাবনে গরু চড়ান এখন। তাই বলে সেই সময়কার সেই বিধ্বংসী মানসিকতা এখনও যায়নি তার। কারণ, সংবাদমাধ্যমকে স্পষ্ট জানিয়েছেন, ধর্মের জন্যে এখনও তিনি 'খুন করতে ও জীবন দিতে' পারেন।

বাবরি মসজিদ ভাঙার ২৫ বছর পূর্তিতে তার মুখোমুখি হয় সাংবাদিকরা। জানিয়েছেন, মসজিদটি উড়িয়ে দেওয়ার যে চেষ্টা করেছিলেন, তাতে মনে কোনো অপরাধবোধ নেই তার। আর এখন গরু চড়াতেই ভালো লাগে। বললেন, আজও ধর্মের জন্যে আমি লড়াই করতে ও মরতে প্রস্তুত।  

হিন্দুদের মন্দির ধ্বংস করে মসজিদ নির্মাণ বা মন্দিরের জমিতে মসজিদ নির্মাণের অভিযোগ নিয়ে হিন্দুদের মাঝে আক্রোশ ছড়ায়। অথচ মসজিদটি নির্মাণের ২৩০ বছর পর এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে হিংসাত্মক পরিস্থিতি ফুঁসে উঠতে থাকে। প্রসঙ্গত, ১৫২৮ সালে অযোধ্যায় এই মসজিদটি তৈরি করেন বাবরের সেনাপতি মীর বাকী। সেখান থেকেই মসজিদের নাম হয় বাবরি। অন্যদিকে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার এক রিপোর্ট অনুযায়ী দশম শতকে এই জায়গায় একটি রাম মন্দির ছিল। মন্দিরের জমিতে মসজিদ হওয়া নিয়েই অযোধ্যা বিবাদের সূত্রপাত।

স্মৃতি বয়ান করেছেন বাঘেল। সমমনা হিন্দুদের অংশগ্রহণে গড়ে ওঠা 'সংঘ পরিবার' যখন হিংসা ছড়াচ্ছে, তখনই আবেগের বশে এ সহিংসতায় সক্রিয় হয়ে ওঠেন বাঘেল। সেই সময়কার বিভিন্ন জ্বালাময়ী শ্লোগানে তিনি প্রভাবিত হন। সোজা অযোধ্যায় চলে যান এবং রাম মন্দির মুভমেন্টে যোগ দেন।  

অন্যের মুখে তিনি শুনতে পান যে, মন্দিরের এক সেবককে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। আর এ খবর পাওয়ামাত্র সিদ্ধান্ত নেন বাবরি মসজিদ উড়িয়ে দেবেন। এ কাজে সফল না হতে পারার আক্ষেপ এখনও আছে মনে। বললেন, আমি দুর্ভাগা ছিলাম যে কাজটাতে সফল হতে পারিনি। আর ১৯৯০ সালের ডিসেম্বরে গ্রেপ্তার হই। তখন আমার সঙ্গে ছিল ২৮টি ডায়নামাইটের স্টিক।

তিনি আরো জানান, তিনিই সম্ভবত প্রথম হিন্দু যাকে সন্ত্রাসী হিসেবে ঘোষণা করেছিল মুলায়াম সিং যাদবের সরকার।  

এই ভয়ংকর কাজের পরিকল্পনার জন্যে শাস্তি ভোগ করেও তার মনে এতটুকু অনুতাপ নেই। 'অবশ্যই আমার কোনো অনুতাপ নেই। সেখানে রাম মন্দির গড়ে ওঠা দেখতে এখনও ভালো লাগবে আমার। সেই বিশাল মুভমেন্টে যোগ দিতে পেরে আমি গর্বিত। যদি খেদ থাকে তো এ কারণে আছে যে, ওই ঘটনার ২৫ বছর পরও কোনো মন্দির গড়ে ওঠেনি', বলেন বাঘেল।  

এখন বৃন্দবনের 'গায়ানি কি বাগিচি গোশালা'তেই সময় কাটে তার। সেখানকার এক কেয়ারটেকার সত্য নারায়ন দাস বাবা জানান, বাঘেল এখন গুরুদের সেবা আর পূজা নিয়েই ব্যস্ত থাকেন। তার স্ত্রী এবং সন্তানরা বহু আগেই আগ্রায় চলে গেছেন। কিন্তু বাঘেল এখানেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।  
সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া 


মন্তব্য