kalerkantho


দুবলার চরের শুঁটকি পল্লি

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৭ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১৬:১৮



দুবলার চরের শুঁটকি পল্লি

সুন্দরবনের পাশে বঙ্গোপসাগরের কোণে দুবলার চর। সমুদ্রের বিশাল মৎস্য ভাণ্ডারকে কেন্দ্র করে প্রতিছর শুষ্ক মৌসুমে গড়ে ওঠে অস্থায়ী এক শুঁটকি পল্লি। পড়ুন বিস্তারিত।

দুবলার চর কোথায়?
পৃথিবীর সবচেয়ে বড় শ্বাসমূলীয় বন সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশের দক্ষিণে এই দুবলার চর। বঙ্গোপসাগরের বুকে কুঙ্গা এবং মরা পশুর নদীর মোহনায় জেগে ওঠা এ চর মাছের জন্য বিখ্যাত। বাগেরহাটের মংলা থেকে নদীপথে দুবলার চরের দূরত্ব প্রায় ১২০ কিলোমিটার।

দুবলারের ব্যাপ্তি
সাগর পাড়ের মেহের আলীর চর, আলোর কোল, অফিস কিল্লা, মাঝের কিল্লা, শেলার চর, নারকেল বাড়িয়া, ছোট আমবাড়িয়া, বড় আমবাড়িয়া, মানিকখালী, কবরখালী, ছাপড়াখালীর চর, কোকিলমনি ও হলদেখালী চরগুলোকে সম্মিলিতভাবে দুবলার চর বলা হয়।

শুঁটকির মৌসুম
প্রতিবছর অক্টোবর মাস থেকে শুঁটকি তৈরি শুরু হয় দুবলার চরে। চলে মার্চ মাস পর্যন্ত। তবে এ বছর অক্টোবরে মাছ ধরা বন্ধ থাকায় মৌসুমের শুরু হয়েছে নভেম্বর থেকে।

জেলেদের আগমন
মংলা, রামপাল, খুলনা ও সাতক্ষীরাসহ দক্ষিণ উপকূলের বিভিন্ন এলাকা থেকে কয়েক হাজার জেলে মাছ ধরা ও শুঁটকি তৈরির জন্য দুবলার চরে আসেন।

এছাড়া বরিশাল ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকেও মৎস্যজীবীরা জায়গাটিতে আসেন।

রাজস্ব
দুবলার চরে মাছ ধরতে আসা জেলেদের বিভিন্ন পর্যায়ে সরকারকে রাজস্ব দিতে হয়। জেলেপল্লিতে জেলেদের ঘর তৈরি ও জ্বালানি ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত রাজস্ব দিতে হয় বন বিভাগের দুবলা টহল ফাঁড়িকে। এছাড়া আহরিত শুঁটকি মাছের পরিমাপ অনুযায়ী নির্ধারিত রাজস্ব প্রদান করতে হয় জেলেদের।

অস্থায়ী বাড়িঘর
দুবলার চরে এসে প্রথমে জেলেরা রাজস্ব অনুযায়ী নির্ধারিত আকারের অস্থায়ী ঘর তোলেন। নিজেদের থাকা, মাছ ধরার সরঞ্জাম রাখা ও শুঁটকি তৈরির জন্য তারা এসব অস্থায়ী ঘর তৈরি করেন।

মাছ ধরা
দুবলার চরে আসা জেলেরা সাধারণত রাতের বেলা সমুদ্রে মাছ ধরেন। সকালে মাছ নিয়ে ফিরে আসেন দ্বীপে।

শুঁটকি তৈরি
সমুদ্র থেকে মাছ ধরে এনে দিনের বেলা সেগুলো শুকাতে দেন রোদে। দুবলার চরে কাঠের মাচা পেতে কিংবা পাটি বিছিয়ে তারা রোদে মাছ শুকান।

সরকারি সহযোগিতার অভাব
দুবলার চরে আসা জেলেদের কাছ থেকে সরকার রাজস্ব আদায় করলেও সেখানে সরকারি সুযোগ-সুবিধা নেই বললেই চলে।

নাজুক চিকিৎসাব্যবস্থা
দু্বলার চরে মাছ ধরতে আসা কয়েক হাজার জেলের জন্য কোনো চিকিৎসার ব্যবস্থা নেই। তবে মৌসুমে সেখানে সাতক্ষীরা থেকে চিকিৎসা দিতে যান এই ব্যক্তি, যাঁর পল্লি চিকিৎসায় ছোটখাট প্রশিক্ষণ নেয়া আছে।

সৌর বিদ্যুৎ
দুবলার চরে বিদ্যুতের কোনো ব্যবস্থা নেই। তবে অনেকেই সেখানে সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন। তাই মৌসুমের শুরুতে তারা সঙ্গে করে সোলার প্যানেল নিয়ে আসেন।

প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভয়
শুষ্ক মৌসুমে দুবলার চরে প্রাকৃতিক দুর্যোগ খুব একটা না থাকলেও সে ভয় তাড়িত করে জেলেদের। কারণ, ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর ঘুর্ণিঝড় সিডরে প্রাণ হারিয়েছিলেন অসংখ্য জেলে।

আছে দস্যুর ভয়
দুবলার চরে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেরা প্রায়ই দস্যুর কবলে পড়েন। প্রায়ই বিভিন্ন দস্যু গ্রুপকে চাঁদাও দিতে হয়। অন্যথায় দস্যুরা অনেক সময় জেলেদের অপহরণও করে। ছাড়া পেতে তখন মোটা অঙ্কের মুক্তিপণও গুনতে হয় জেলেদের।

- ডিডাব্লিউ


মন্তব্য