kalerkantho


রাজসীক শ্বেত ভালুকের ক্ষুধায় মৃত্যু, দেখলে আপনার মন কাঁদবে (ভিডিও)

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১০ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১৭:৩৫



রাজসীক শ্বেত ভালুকের ক্ষুধায় মৃত্যু, দেখলে আপনার মন কাঁদবে (ভিডিও)

খাদ্যের অভাব তার আগে থেকেই, হাড়সর্বস্ব অবস্থা দেখেই বোঝা যায়

পোলার বিয়ারের আকার দানবের মতো। অবশ্য সাদা লোমে আবৃত প্রাণীগুলো দেখতে দারুণ সুন্দর। কিন্তু পৃথিবীর ভয়ংকরতম শিকারী প্রাণীগুলোর একটি। এরা কিন্তু স্থলভাগের বৃহত্তম শিকারী হিসেবে পরিচিত। প্রাপ্তবয়স্ক একটি শ্বেত ভালুক এক থাবায় শক্তিশালী শিকারকে বধ করতে পারে। এরা খুবই আগ্রাসী স্বভাবের হয়। ওদের এলাকায় ওরাই রাজা। অন্যান্য প্রাণীরা এর স্বভাব ও শক্তি সম্পর্কে পুরোপুরি ওয়াকিবহাল। তাই দেখলে পেছনে দৌড়ানোটাই বুদ্ধিমানের কাজ বলে মনে করে। প্রাণীজগতে শ্বেত ভালুক এক রাজসীক আসনে আসীন হয়ে আছে। এ কারণে তাদের বিলুপ্তির সম্ভাবনা বিজ্ঞানীদের সত্যিকার অর্থেই চিন্তায় ফেলে দিয়েছে। 

জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক প্রভাবই মূল ভূমিকায় রয়েছে। শুধুমাত্র এ কারণেই অনেক প্রাণীর অস্তিত্ব বিলীন হয়ে গেছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে আর্কটিকের বরফ গলছে। আর এটাই পোলার বিয়ারের সংখ্যা হ্রাসের কারণ। 

এক ভিডিও-তে এই দানবীয় প্রাণীটির অন্তিম দশা দেখলে যেকোনো মানুষের মন খারাপ হয়ে যাবে। ক্ষুধার্ত এক ভালুক মৃত্যুর প্রহর গুনছে, বিষয়টা মেনেই নেওয়া যায় না। ফটোগ্রাফার পল নিকলেন এবং সি লিগেসি নামের একটি কনজারভেশন গ্রুপের চলচ্চিত্র নির্মাতারা ভিডিওটি ধারণ করেন। কানাডার বাফিন আইল্যান্ডসে ভালুকটির দেখা মেলে। গ্রীষ্মের শেষের দিকে তার করুণ অবস্থা এই প্রাণীগুলোর বর্তমান অবস্থাই প্রকাশ করছে। 

ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকে পল বলেন, ভালুকের অবস্থা দেখে আমরা মর্মাহত হয়ে পড়ি। আমরা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কাঁদছিলাম আর ভিডিও করছিলাম। 

তার রাজসীক দেহটা হারসর্বস্ব হয়ে গেছে। চরম ক্ষুধার্ত অবস্থায় খাবার খুঁজছে সে। জীবনের শেষ চ্যালেঞ্জটা উৎরে যেতে চাইছে। হাঁটার সময় সে পেছনের একটি পা টেনে টেনে হাঁটছিল। ওই পায়ের পেশি আর কাজ করছিল না। পাশের এক আবর্জনার স্তুপের দিকে এগিয়ে গেলো সে। সাধারণ এসব জায়গায় মাছ মেলে। কিন্তু সে খাওয়ার মতো তেমন কিছুই পেল না। আর সেখানেই তার বিশাল দেহটা পরাজিত হলো। মৃত্যুশয্যায় ঠাঁই নিলো ভালুকটি। 

এ ভিডিও দেখে অনেকই পলকে প্রশ্ন করেছেন, কেন তারা ওটাকে কোনো সাহায্য করলেন না? অবশ্যই বিষয়টা আমার মাথাতেও ছিল, বললেন নিকলেন। কিন্তু বিষয়টা এমন নয় যে অজ্ঞান করার একটা বন্দুক বা ৪০০ পাউন্ড সিলের মাংস নিয়ে আমি তার দিকে এগিয়ে গেলাম। এসব ভালুকের দশা তুলে ধরাটাই বেশি কাজে দেবে। তা ছাড়া কানাডায় বুনো ভালুককে খাওয়ানো অবৈধ কাজ বলে বিবেচিত হয়। 

বিজ্ঞানীরা যখন সতর্ক করছেন যে এই ভালুকের অস্তিত্ব হুমকির মুখে, তখন ভিডিওটি মানুষকে সচেতন করবে। সবাইকে দেখানো উচিত, ভালুকগুলো ক্ষুধায় মারা যাচ্ছে। আর একটা ক্ষুধার্ত ভালুকের কি দশা হয়, এই ভিডিও তার প্রমাণ। সেই সঙ্গে জলবায়ুর পরিবর্তন এই দুনিয়ার কি অবস্থা করছে তা দেখানোটাও জরুরি বিষয়। 

সূত্র : ন্যাশনাল জিওগ্রাফি 



মন্তব্য