kalerkantho


গোলটেবিল বৈঠকে বক্তরা

বিড়ি শিল্প নিয়ে আগামী বাজেটে ষড়যন্ত্র নয়

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১০ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১৯:২০



বিড়ি শিল্প নিয়ে আগামী বাজেটে ষড়যন্ত্র নয়

বিড়ি শিল্প নিয়ে আগামী বাজেটে কোনও ষড়যন্ত্র না করার আহ্বান জানিয়ে 'বিড়ি শ্রমিকের জীবন : সরকারের প্রতিশ্রুতি' শীর্ষক গোল টেবিলের আয়োজন করে গবেষণা ও উন্নয়ন কালেকটিভ (আরডিসি)। বৈঠকে বক্তারা জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পরও বারবার বিশেষ একটি মহল বিড়ি শিল্পকে ধ্বংসের চেষ্টা করে যাচ্ছে।

সভায় প্রধান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ও আরডিসি'র চেয়ারপার্সন ড. মেসবাহ কামাল বলেন, গত বছর বাজেটে প্রধানমন্ত্রী আমাদের পক্ষে অবস্থান নেয়ার পরও বিড়ির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছে বিভিন্ন মহল। সামনে আবারো বাজেট আসছে। জানুয়ারি থেকেই বাজেটের কার্যক্রম শুরু হয়। আর বাজেট এলেই বিড়ি শ্রমিকদের বুক কেঁপে ওঠে। এই নিম্ন ও নিম্ন মধ্যম আয়ের মানুষগুলো দুশ্চিন্তায় পরে যায়। গত বাজেটে কাবিখা বা গরিবদের সহায়তার বিভিন্ন খাতে বাজেটের পরিমাণ বাড়লেও এখন পর্যন্ত তা যথেষ্ট নয়। তার ওপর বিড়ির বিরুদ্ধে অর্থমন্ত্রী ও এনবিআর চেয়ারম্যানের এমন অবস্থানে আসন্ন বাজেট নিয়ে আবারো আমরা শঙ্কিত। আর সেই শঙ্কা থেকেই এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত শ্রমিকদের ৮০ ভাগের বেশি নারী। তাদের পরিবার এই শিল্পের ওপর নির্ভরশীল।

পঞ্চগড়-১ আসনের এমপি নাজমুল হক প্রধান বলেন, অর্থমন্ত্রীর ঘোষণা খুব অবাক করেছিলো আমাকে। তিনি সংসদে বলেছিলেন দুই বছরের মধ্যে বিড়ি শিল্প বন্ধ করে দেবে। কেনো তিনি বললেন না তামাক শিল্প বন্ধ করে দেবো। তিনি এই দাবি করলে আমরাও দাবি করতে পারি, আগামী তিন বছরের মধ্যে ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকোকে বাংলাদেশ থেকে বের করে দেবো। আপনাদের দাবি ন্যায় সঙ্গত। আমাদের প্রধানমন্ত্রী যথেষ্ট মানবিক। তিনি নিশ্চয়ই ব্যবস্থা নেবেন।

বিড়ি শিল্প রক্ষার আহ্বান জানিয়ে আদিবাসী বিষয়ক সংসদীয় ককাসের সদস্য এমপি কবি কাজী রোজী বলেন, 'বাঁশের পাতায় বাঁশির সুর, তামাক পাতায় মরণ সুর। জীবন সুর ছেড়ে মরণ সুরের দিকে কেনো যাই আমরা। এই বিড়ি শ্রমিকদের জন্য এই পেশা শুধু একাট পেশা নয়। এটা তাদের নেশাও। নিঃসন্দেহে একটা ব্যবস্থা করেই আপনাদের এই পেশা থেকে সরে আসার ব্যবস্থা করা হবে। তার আগ পর্যন্ত এই শিল্প বন্ধ করা হবে কোন কর্পোরেটদের কথা শুনে? আপনারা নিরাশ হবেন না।'

বাংলাদেশ বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এমকে বাঙালি বলেন, ধূমপান বিরোধী আন্দোলন দীর্ঘদিন ধরে চলছে। আমরাও চাই তামাক দেশে না থাকুক। বিড়ি, সিগারেট, গুল এরূপ তামাক জাতীয় উপকরণ না থাকুক। কিন্তু ধূমপান বিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে শুধু বিড়ির বিরুদ্ধে বক্তব্য দেয়া কি সঠিক? আমার মতে বিড়ি এবং সিগারেট দুটিই সমান ক্ষতিকর নয়। বিড়িতে বৈদেশিক মুদ্রা খরচ হয় না। বাড়তি বিদ্যুৎ খরচ হয় না। দেশি তামাক, দেশি কাগজ ও দেশি শ্রমিকের মাধ্যমে এই বিড়ি তৈরি। অন্যদিকে সিগারেটের সবকিছু বিদেশ থেকে আনতে হয়। সিগারেটের তামাক, ক্যামিকেল, কাগজ টেকনিক্যাল পার্সন সবই বিদেশ থেকে আসে। দেশের টাকা বিদেশে চলে যায়। ৬০-৭০ হাজার কোটি টাকার বেশি সিগারেটের মাধ্যমে বিদেশে চলে যাচ্ছে। বিড়িতে ৩-৪ হাজার কোটি টাকা মাত্র বাৎসরিক আয়। কিন্তু এতে দেশের লাখ লাখ শ্রমিকের খাবার জোটে। সেই সঙ্গে দেশের টাকা দেশেই থেকে যায়।

তিনি আরো বলেন, বিগত ৩০ বছরে বিড়ি শিল্পের মাধ্যমে কয়েকশ নতুন শিল্প তৈরি হয়েছে। আকিজ গ্রুপ বা আবুল খায়ের গ্রুপের কথা বলছি। তাদের প্রথম ব্যবসা ছিলো বিড়ি শিল্প। এখন দেখেন তাদের অধীনে আরো কতগুলো শিল্প চলছে। সেখানে কি পরিমাণে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে একবার ভাবুন। কয়েকশ বছর ধরে এই দেশে ব্যবসা করার পরও বাংলাদেশে কোন কারখানা করছে না এই কোম্পানিগুলো। তারা ট্যাক্স ফাঁকি দিচ্ছে। খবর পাওয়া গেছে প্রায় হাজার কোটি টাকা কর ফাঁকি দিয়েছে এই প্রতিষ্ঠানগুলো।

তিনি নীতি নির্ধারকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না করে আমাদের কর্মসংস্থান বন্ধ করার কোন পদক্ষেপ নেবেন না। বাংলাদেশ বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক বলেন, সরকারের বৈষম্যমূলক শিল্পনীতির কারণেই বিড়ি শিল্প ধ্বংস হচ্ছে। সিগারেটের জন্য যেই নীতি, আমাদের বিড়ি শিল্পের জন্য সেই নীতি নেই কেন।
বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিড়ি-শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এম কে বাঙালী, বাংলাদেশ বিড়ি-শ্রমিক ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক আব্দুর রহমান। সঞ্চালনায় ছিলেন গবেষণা ও উন্নয়ন কালেকটিভের (আরডিসি) সাধারণ সম্পাদক মিজ. জান্নাত-এ-ফেরদৌসী।



মন্তব্য