kalerkantho


তালেবান নয় আফগানি মাটি থেকে এবার জন্ম হচ্ছে ব্রুস লি’র!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১১ ডিসেম্বর, ২০১৭ ২০:৩৪



তালেবান নয় আফগানি মাটি থেকে এবার জন্ম হচ্ছে ব্রুস লি’র!

যুবক আব্বাস আলী জাদা খুব অল্প সময়েই নেট জগতে খ্যাতি পেয়ে গেছেন। এর একটাই কারণ- প্রথম দেখায় যে কেউ তাকে কুংফু কিংবদন্তী ব্রুস লি বলে ধরে নেবে। মার্শাল আর্ট ভক্ত আলীর চেহারার আদল, ভঙ্গি, গায়ের রঙ সব যেন চীনের জগৎ মাতানো সেই মার্শাল আর্ট বসের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। কিন্তু বাস্তব হচ্ছে আব্বাস একজন আফগানি।
কালের কণ্ঠের পাঠকদের জন্য আফগানি ব্রুসের সংক্ষিপ্ত পরিচয় তুলে ধরা হলো এখানে- ব্রুস লি’র চেহারা-সুরতের সঙ্গে এত মিল থাকায় হাজারা সম্প্রদায়ের এই আফগানি যুবককে তার এলাকায় ব্রুস হাজার নামে ডাকা হয়। আলী জাদার ভক্তরা বিশ্বাস করেন, একদিন না একদিন হলিউডে ডাক পড়বেই তার। তারা এটাও বিশ্বাস করে যে আলী জাদা একসময়ে হলিউডে রাজত্ব করবেন। ২০ বছর বয়সী আব্বাসও তাই চান। তার ওপরে ডকুমেন্টারি করেছে আল জাজিরা, রয়টার্স কাবুল ছুটেছে তার ইন্টারভিউ নিতে। তাকে নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন করেছে বিলাতের অভিযাত গণমাধ্যম গার্ডিয়ানও। তার টুইটার ফলোয়ার সংখ্যা ৫০ হাজার। 
আফগানিস্তান সম্পর্কে যা কিছু সংবাদ আসে তা শুধু যুদ্ধ নিয়ে- আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমকে একথার উল্লেখ করে ব্রুস হাজারা বলেন, আমি আনন্দিত যে আমাকে নিয়ে সংবাদগুলো হচ্ছে ইতিবাচক। 
 
স্থানীয়রা জানান, আট বছর বয়স থেকেই আব্বাস আলীর মাঝে ব্রুস লির হুলিয়া ফুটে ওঠে। তার আশা, হংকংয়ের জ্যাকি চ্যানের সঙ্গে কাজ করবেন। বর্তমানে হলিউডের জীবন্ত কুংফু লিজেন্ড জ্যাকি চ্যান হংকংয়ের চীনা ফিল্ম থেকেই উঠে এসেছেন। জ্যাকি চ্যান সম্পর্কে আরেকটি তথ্য হচ্ছে তিনি ব্রুস লি’র সাক্ষাৎ শিষ্য ছিলেন। ব্রুসলির আরেক শিস্য চাকনোরিসও একসময় হলিউডের জনপ্রিয় নায়ক ছিলেন। 
কট্টরপন্থিরা অনৈসলামিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তাকে হুমকি-ধমকি দিয়েছে অনেকবারই। কিন্তু নিজদেশ ছেড়ে পালাননি এই সাহসী আফগান। বরং মনোনিবেশ করেছেন নিজের কলাকে আরও শানিত করণে, তিল তিল কঠোর পরিশ্রমে যোগ্য করে তুলছেন নিজকে। এর ফল হয়েছে অসাধারণ। যারা ব্রুসলিকে দেখেছেন বা তার মুভি দেখেছেন, আব্বাসের মার্শাল আর্ট কলা অর্থাৎ কিক, পাঞ্চিং, ব্লকিং দেখে তাদের মনে হয়- এ যেন ব্রুস লি’ই।
 
ব্রুস লির অঙ্গভঙ্গির অনুকরণে আব্বাস তার ব্রুস হাজারা নামের ফেসবুক পেজ-এ ২০টি ছবি পোস্ট করেন। এতেই যা কাজ হওয়ার হয়ে গেছে- ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়ে যান তিনি। ছোটবেলার হিরো ব্রুস লিকে অনুসরণ করে তার মতো নান চাকু চালানো আর উশু (কুংফু) প্রাকটিস করে আসা আব্বাস সম্প্রতি আফগানিস্তানে এক প্রতিযোগিতায় এই দুই ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠ হন। 
তবে ব্রুস লি বনতে চাওয়া আব্বাস আলী’ই একমাত্র আফগান নন। তার আগে তারই গোত্রের অপর এক হাজারা হুসেইন সিদ্দিকিরও সুনাম ছড়িয়েছিল। কিন্তু ১৯৯৯ সালে তালেবানদের হাত থেকে বাঁচতে দেশ ছেড়ে পালান সিদ্দিকি। পরে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে আবাস গাড়েন তিনি। তাকে নিয়ে একটি ডকুমেন্টারি তৈরি করেছিলেন অ্যালেক্স বার্নেস যা বিভিন্ন চলিচ্চিত্র উৎসসবে প্রদর্শিত হয়।
আব্বাস এক গরীব আফগানি পরিবারের ১০ ভাই-বোনের একজন। পরিবারের সামর্থ্য ছিল না রুটি-রুজি জোগাড়ের চিন্তা বাদ দিয়ে আলীকে মার্শাল আর্ট শেখানোর পেছনে অর্থ ও সময় ব্যয়ের। তবে চাইনিজ কুংফু কলার প্রতি আলীর প্রশ্নাতীত অনুরাগ দেখে স্থানীয় এক প্রশিক্ষক এগিয়ে আসেন।
গার্ডিয়ান, আলজাজিরা, রয়টার্স, জনসত্তা.কম

মন্তব্য