kalerkantho


ট্রাম্প ব্যস্ত সকালটা কাটালেন নারীদের 'মর্যাদাহানী' করে

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৩ ডিসেম্বর, ২০১৭ ২০:৫০



ট্রাম্প ব্যস্ত সকালটা কাটালেন নারীদের 'মর্যাদাহানী' করে

গতকাল সকালটা ট্রাম্পের বেশ ব্যস্ততার সঙ্গে কেটেছে। তবে আন্তর্জাতিক মহলের রাজনীতিক বা দেশের অভ্যন্তরীন কোনো কাজে নয়, তার ব্যস্ততা ছিল নারীদের বিষয়ে মর্যাদাহানীকর টুইট করে। বেশ কয়েকজন নারীকে নিয়েই আপত্তিকর টুইটে ব্যস্ত ছিলেন ট্রাম্প, এমনটাই বলা হয় এক প্রতিবেদনে। 

ট্রাম্পের এই ব্যস্ততা শুরু হয় সেই নারীদের আক্রমণের মাধ্যমে যারা তার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তুলেছিলেন। এই নারীদের দেখা মেলে ২০১৬ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ক্যাম্পেইনের সময়। ওই নারীদের অভিযোগ আবারো নতুন করে তুলে আনা হয়েছে। বিশেষ করে মেগিন কেলির অনুষ্ঠানে আবারো তুলে আনা হয়েছে। 

গতকাল সন্ধ্যায় এক টুইটবার্তায় ট্রাম্প লিখেছেন, হাজার হাজার ঘণ্টা আর মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার খচরের পরই ডেকোক্রেটরা রাশিয়ার সঙ্গে কোনো যোগসাজশ প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছে। তাই এখন তারা নারীদের নিয়ে মিথ্যা অভিযোগ আর মনগড়া গল্প বানাচ্ছে। সেই নারীদের আমি চিনি না, কখনও দেখা হয়নি তাদের সঙ্গে। 

ট্রাম্পের টুইটের পরই অনেকে তাদের মন্তব্য ঝেরেছেন। ট্রাম্পের সঙ্গে এই নারীদের কখনও দেখি হয়নি- কথাটা সত্যতা কতটুকু তা নিয়ে মন্তব্যকারীদের মনে প্রশ্ন রয়েছে। 

জিনা জনসন নামের একজন লিখেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অভিযোগকারী যে নারীদের 'চেনেন না এবং কখনও দেখা হয়নি' বলে দাবি করছেন, সেই নারীদের তালিকায় আছেন একজন সাবেক ব্যবসায়ী, সুন্দরী প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী এক সুন্দরী, একজন রিপোর্টার যিনি ট্রাম্পের সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন এবং আরেক শিক্ষনবীশ প্রতিযোগী। 

পিপল ম্যাগাজিন টুইটে রিপোর্টার নাতাশা স্টয়নফের সঙ্গে ট্রাম্পের ছবি প্রকাশ করেছে। অভিযোগ ছিল, ট্রাম্প তাকে জোরপূর্বক চুমু খেয়েছেন সাক্ষাৎকার গ্রহণের সময়। 

ট্রাম্প যদি দাবি করেন যে এসব নারীর সঙ্গে কখনই দেখা হয়নি তার, তবে নাতাশার সঙ্গে ছবি তার নির্জলা মিথ্যাচার প্রমাণ করে। 

একবার ট্রাম্প 'হট মাইক্রোফোন'-এ বসে বলেছিলেন, তিনি বিশেষ অঙ্গে স্পর্শ করে নারীদের ধরতে পছন্দ করেন। আরো বলেছিলেন, সুন্দরী প্রতিযোগিতায় তিনি সেই কক্ষে যেতে পছন্দ করে যেখানে প্রতিযোগীরা পোশাক বদলান। 

এদিকে, ট্রাম্পও ডেকোক্রেট কার্স্টেন গিলিব্র্যান্ডের বিরুদ্ধেও যৌনতা বিষয়ে কটাক্ষপূর্ণ অভিযোগ তোলেন। এই নারী রাজনীতিবিদকে নিয়ে তিনি বলেন, হালকামানের সিনেটর কার্স্টেন গিলিব্র্যান্ড নির্বাচনের আগে আমার অফিসে এসে তার ক্যাম্পেইনের জন্যে কিছু করতে 'ভিক্ষা' চাইতেন। এমনই অভিযোগ তুলেছেন ট্রাম্প। 

কার্স্টেন গিলিব্র্যান্ড পাল্টা টুইটে বলেছেন, আপনি (ট্রাম্প) আমাকে বা মিলিয়ন নারীদের মুখ বন্ধ করতে পারবেন না। ওভাল অফিসে আপনি যে লজ্জা বয়ে এনেছেন তা নিয়ে সবাই কথা বলবে। 

হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি সারাহ হুকাবি স্যান্ডার্স ট্রাম্পের টুইটের সাফাই গাওয়ার চেষ্টা করেছেন। তার ভাষায়, ওয়াশিংটনের দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনীতিবিদদের কথাই তিনি বলেছেন। 

এর মাধ্যমে নারীদের বিষয়ে ট্রাম্পের দৃষ্টিকোণ এবং মানসিকতা আবারো স্পষ্ট হয়ে উঠলো বলে মনে করছেন অনেকে। 

সেন গিলিব্র্যান্ডের বান্ধবী সিনেটর প্যাটি মুরে আরেক বার্তায় লিখেছেন, এটা আমার বন্ধু এবং সহকর্মীর বিরুদ্ধে এক বিরক্তিকর আক্রমণ। নারীরা যখন উঠে দাঁড়াবে এবং কথা বলবে তখন ট্রাম্প তা পছন্দ করবেন না। কিন্তু আমরা আর তার দ্বারা অপমানিত হতে চাই না। 
সূত্র : বাজফিড 


মন্তব্য