kalerkantho


চেঙ্গিসেরও শত শত বছর আগে, মঙ্গোলিয়ায় অচেনা শাসকের সমাধি!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৪ জানুয়ারি, ২০১৮ ১৫:৩৮



চেঙ্গিসেরও শত শত বছর আগে, মঙ্গোলিয়ায় অচেনা শাসকের সমাধি!

এটা মঙ্গোলিয়ার 'গেম অব থ্রোনস' এর নিশানা। এখানে শায়িত হয়েছেন এক নাম না জানা শাসক

পাথরের স্তম্ভগুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। ড্রোন থেকে নেওয়া ছবিতে ওখানে একটা কাঠামো স্পস্ট বোঝা যায়। মোটা ১৪টি স্তম্ভতে খোদাই করে আঁকিবুকি করা হয়েছে। মঙ্গোলিয়াতে সদ্য আবিষ্কৃত এই পুরনো কাঠামো আজকের জনপ্রিয় 'গেম অব থ্রোনস' এর ইতিহাসকেই তুলে ধরছে। ক্ষমতার লড়াইয়ে এটা হয়তো ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। কাঠামোটি ১৩ শো বছরের পুরনো। 

এই স্থানটিকে স্টোন কফিন বলা যায়। ধ্বংসস্তুপের চারপাশে পাথরের অবশিষ্টাংশ এখনও রয়েছে। সেখানে রয়েছে খোদিত শিলালিপি। এগুলো লেখা হয়েছে তুর্কী ভাষায়। সেখানে কবরস্থ করা মানুষদের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু তাদের নাম পরিষ্কারভাবে বোঝে যাচ্ছে না। তবে এখানে সাম্রাজ্যের দ্বিতীয় ক্ষমতাধর ব্যক্তিটিকে শায়িত করা হয়েছে। সেই সাম্রাজ্য আজকের যে মঙ্গোলিয়া তার অনেকটুকুকেই গড়ে দিয়েছে। এই ঘটনা কিন্তু চেঙ্গিস খানেরও শত শত বছর আগের ইতিহাস। 

শিলালিপিতে লেখা রয়েছে যে, এখানে যিনি শায়িত আচেন তার পদবি ছিলে 'ইয়াগবু (ভাইসরয়)'। তিনি বিলজে কোয়াগহান (৭১৬-৩৪) সাম্রাজ্যে ভাইসরয় হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। ইতিহাস বলে, এই মানুষ শাসকদের একজন ছিলেন যাকে পরবর্তিতে বিষ খাওয়ানো হয়। 

১৪টি স্তম্ভে সজ্জিত স্থানটিতে প্রাপ্ত শিলালিপিগুলো অজ্ঞাতনামা ইয়াগবু শাসন করেছেন বিলজে কোয়াগহান সাম্রাজ্যে। তাকে 'তোলিস-শাদ (পূর্বের রাজাধিকার)' নামেও ডাকা হতো। তিনি মূলত বিলজের উত্তরাধীকারের শাসনামলে নিজেও একজন শাসক ছিলেন। 

অজ্ঞাতনামা এই শাসকের পদবি ইয়াগবু দিয়ে তাকে পূর্ব মঙ্গোলিয়ার 'কমান্ডার ইন চিফ' এবং প্রশাসনের সর্বোচ্চ পদে আসীন ব্যক্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। 

জাপানের ওসাকা ইউনিভার্সিটি এবং মঙ্গোলিয়ান অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস এর ইনস্টিটিউট অব হিস্ট্রি অ্যান্ড আর্কিওলজি বিভাগের বিশেষজ্ঞরা এসব তথ্য জানান। 

এখনও জানা যায়নি এই নাম না জানা শাসককে কেন বিষ খাইয়ে মারা হয় বিলজে কোয়াগহান সাম্রাজ্যে। কোয়াগহান শব্দটি দিয়ে মূলত কোনো শাসকের পদবি বোঝায় যা সম্রাটের সমপর্যায়ের বলে ধরা হয়। সাম্রাজ্য বলতে মূলত 'কোয়াগহানাতে' বলা হয়। ইতিহাসবিদরা বিলজে কোয়াগহান এবং তেনগ্রি কোয়াগহানের সময়কে 'দ্বিতীয় তুর্কি সাম্রাজ্য' বলে তুলে ধরেন। এখানে যে সময়ের কথা বলা হচ্ছে সে সময়টাতে রাজনৈতিক অস্থিরতা বিরাজ করছিল। সম্রাটের জ্যেষ্ঠ কর্তারা প্রায় সময়ে একে অপরের খুনের সঙ্গে জড়িত হয়ে পড়েন। পরিবারের বিরুদ্ধে আগের শাসকের ষড়যন্ত্র রুখে দিয়ে শাসনের হাল ধরেন এই অজানা শাসক। 

এই ধসে পড়া কাঠামো থেকে সেই সময়ের মানুষকের ধর্মীয় বিশ্বাস সম্পর্কেও ধারণা মিলবে বলে বিশ্বাস করা হয়। 
সূত্র : ফক্স নিউজ 


মন্তব্য