kalerkantho


ডাক্তার হিসেবে ভালো; রোগী হিসেবে ভালো নই: তসলিমা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৫ জানুয়ারি, ২০১৮ ১৫:১১



ডাক্তার হিসেবে ভালো; রোগী হিসেবে ভালো নই: তসলিমা

ছবি: তসলিমা নাসরিনের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট

প্রখ্যাত নারীবাদী লেখিকা তসলিমা নাসরিন সোশ্যাল সাইটে সবসময়ই সক্রিয় থাকেন। রাষ্ট্রীয়, বৈশ্বিক, রাজনৈতিক, নারীবাদ সব বিষয়েই তার মতামত প্রকাশ করতে দ্বিধা করেন না। মাঝে মধ্যে নিজের ব্যক্তিগত কিংবা পারিবারিক একান্ত অনুভূতিগুলো শেয়ার করেন সবার সঙ্গে। আজ বৃহস্পতিবার তিনি নিজের ফেসবুক অ্যাকউন্টে লিখলেন এমনই অন্যরকম একটি গল্প।

নির্বাসিত এই লেখিকা একজন চিকিৎসকও বটে। ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাশ করেছেন। এরপর তিনি সরকারী গ্রামীণ হাসপাতালে, মিটফোর্ড হাসপাতালেন স্ত্রীরোগ বিভাগে এবং ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে অ্যানেসথেসিওলজি বিভাগে চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এবার তসলিমার স্ট্যাটাসটি তার চিকিৎসা বিষয়ক কিছু স্মৃতি আর কিছু অনুভূতি নিয়ে।

তসলিমা লিখেছেন, 'আমাদের পরিবারে ডাক্তার অনেক। কিন্তু কাছের মানুষদের আমরা কেউ বাঁচাতে পারিনি। মার কোলন ক্যান্সারের উপসর্গ ছিল স্পষ্ট। আমরা কেউ বুঝিনি, অথবা গ্রাহ্য করিনি। আমার ডাক্তার বাবা। আমিও ছিলাম ডাক্তার। আমিও মাকে যখন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া উচিত, নিয়ে যাইনি। বাবা নিজে বড় ডাক্তার হয়েও নিজের রোগ শোক গুলোকে মোটেও পাত্তা দেননি। বাবা-মা দুজনেই অনেকটা চিকিৎসার অভাবেই মারা গেছেন।'

'ছোটদা যখন অসুখে পড়ল, পাশে পায়নি তার ডাক্তার মেয়েকে। আর দাদার (বড়দা) যখন হার্ট অ্যাটাক হতে যাচ্ছে, দাদা ঘামছে, শ্বাস নিচ্ছে দ্রুত! ডায়বেটিস থাকলে বুকে ব্যাথা হয় না বলে বুকে ব্যাথা হচ্ছে না। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা তার ডাক্তার ছেলে ইনহেলার দিল। কিন্তু দিল না যেটা দাদাকে বাঁচানোর জন্য দরকার ছিল, নাইট্রোগ্লিসারিন আর অ্যাসপিরিন। অ্যাম্বুলেন্স ডাকল দেরিতে। যেটা একেবারেই করতে হয় না, সেটা করল। দাদাকে হাঁটাচলা করতে দিল। হেঁটে হেঁটে দাদা অ্যাম্বুলেন্সে গিয়ে উঠল। দাদার পুত্রধন কি সিপিয়ার দিতে জানে? মনে তো হয় না।'

'আমাদের জিন ভালো নয়। জিনে ডায়বেটিস, হাইপারটেনশান, ক্যান্সার। মা বেঁচেছেন ৫৭ বছর, ছোটদা ৫৯, দাদা ৬৪, বাবা ৬৯। আমরা ৭০ পর্যন্ত পৌঁছোতে পারিনা। এখন সামনে আর কেউ নেই, শুধু আমি, আর আমার ছোট বোন। আমিও বাবার মতোই, ডাক্তার হিসেবে ভালো হলেও রোগী হিসেবে ভালো নই। ৬০ অবধি যেতে পারব তো?'


মন্তব্য