kalerkantho


'পাত্রীর ফেসবুক-হোয়াটসঅ্যাপের নেশা থাকা চলবে না'

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১০ জানুয়ারি, ২০১৮ ১০:৫৪



'পাত্রীর ফেসবুক-হোয়াটসঅ্যাপের নেশা থাকা চলবে না'

পাত্র হচ্ছেন ভারতের কেন্দ্রের সরকারি চাকুরে। হবু পাত্রীর কাছে তার চাহিদা বিরাট কিছু নয়। বয়স ১৮ -২২ হলেই চলবে। শিক্ষাগত যোগ্যতা উচ্চমাধ্যমিক মানানসই। দাবি বলতে একটাই, ফেসবুক-হোয়াটস অ্যাপের নেশা থাকা চলবে না।

আরো পড়ুন: বিশ্বের সবচেয়ে শীতল গ্রাম

সংবাদমাধ্যমে পাত্র-পাত্রী চাই বিজ্ঞাপন কলমে পাত্র বা পাত্রীপক্ষের বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে নানা সময়ে বিস্তর চর্চা হয়েছে। তাই বলে এমন বিচিত্র দাবি কেন পাত্রের, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে বাধ্য। সমাজতত্ত্ববিদ থেকে প্রবীণ পুলিশকর্তা, অনেকেই পাত্রের চাহিদা নিয়ে শুরু করেছেন কাটাছেঁড়া। এ কি তাহলে মাদকের নেশার থেকেও মারাত্মক? দাঁড়িপাল্লায় মাপজোক চলছে তা নিয়ে। বিজ্ঞাপন জগতের লোকেরা বলছেন, পাত্র -পাত্রী বিজ্ঞাপনে এটা নতুন ট্রেন্ড। প্রায়ই বিজ্ঞাপনের বয়ানে এই ধরনের শর্ত যোগ কর। হচ্ছে৷ যাতে সময়ের চিহ্ন দেখছেন সমাজতত্ত্ববিদরা।

আরো পড়ুন: হাসির খোরাক এমন! তাই বলে ‘নো প্যান্টস ডে’!

ফেসবুক-হোয়াটস অ্যাপের নেশা সমাজে কতখানি শিকড় গেড়েছে, তা বোঝাতে দ-একটি পরিসংখ্যানই যথেষ্ট। ফেসবুক ব্যবহারকারীদের নিয়ে সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, গত বছর জুলাইয়ে আমেরিকাকে টপকে গিয়েছে ভারত। গত জুলাইয়ে এ দেশে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল ২৪ .১ কোটি। আর গত ফেব্রুয়ারিতে হোয়াটসঅ্যাপ সক্রিয়ভাবে ব্যবহার করতেন এ দেশের প্রায় ২০ কোটি নাগরিক। অর্থাৎ দেশের মোট জনসংখ্যার পাঁচ বা ছয়ভাগের এক ভাগই ফেসবুক-হোয়াটস অ্যাপে অভ্যস্ত। পাত্র বা তার পরিবার সম্ভবত হবু স্ত্রীকে সেই আসক্তি থেকে ‘মুক্ত’ দেখতে চান। এমনটাই ধারণা বিশেষজ্ঞদের। বিশিষ্ট সমাজতত্ত্ববিদ প্রশান্ত রায় যেমন বলছেন, ‘যিনি বিজ্ঞাপনটি দিয়েছেন , নিশ্চয়ই তার নির্দিষ্ট যুক্তি আছে। তবে ধরাই যেতে পারে, এই বিজ্ঞাপনের আড়ালে একটা প্রচ্ছন্ন বার্তা আছে যে বিয়ের পরেও ফেসবুক-হোয়াটস অ্যাপেরমাধ্যমে অন্য বন্ধু বা কারও সঙ্গে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ তিনি পছন্দ করবেন না। দাম্পত্য হিংসা, বিয়ে ভেঙে যাওয়ার মতো ঘটনাও এ থেকে ঘটতে পারে অথবা অশান্তির আশঙ্কাতেও আগে থেকে এমন একটা চাহিদার কথা বিজ্ঞাপনে দিয়েছেন পাত্র। এর পেছনে অনিশ্চয়তার আশঙ্কাও কাজ করে থাকতে পারে। ’ 

সমাজকর্মী অধ্যাপিকা শাশ্বতী ঘোষ মনে করেন , ‘হতেই পারে যিনি বিজ্ঞাপন দিয়েছেন তিনি চান না সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে যে ভাবে ব্যক্তিগত পরিসরটা অনাবৃত হয়ে যাচ্ছে , সেটা হোক। তবে তার এই পছন্দ-অপছন্দটা তিনি বিয়ের আগেই যথেষ্ট খোলাখুলি ভাবে জানিয়ে দিয়েছেন , এটাকে অশ্রদ্ধা করা যায় না।’ তার ধারণা, ফেসবুক-হোয়াটসঅ্যাপে বন্ধুত্বের জেরে সম্পর্কে চিড় ধরেছে , প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে এমন অভিজ্ঞতাও থাকতে পারে পাত্রের৷

ফেসবুক বা হোয়াটস অ্যাপে ছদ্ম সম্পর্কের আড়ালে অপরাধের সংখ্যাও কম নয়। সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটের সূত্র ধরে সম্পর্কের টানাপোড়েনে খুন-প্রতারণা-জালিয়াতির ঘটনাও ঘটছে। অনেকে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটের এমন নেশাকে এক ধরনের উৎপাত বলেই মনে করছেন। প্রাক্তন পুলিশকর্তা পল্লবকান্তি ঘোষের ব্যাখ্যা, ‘ফেসবুক-হোয়াটসঅ্যাপের কুপ্রভাবগুলো সম্পর্কে এখন মিডিয়াতে অনেক লেখালেখি হচ্ছে। তার পরও অনেকেই এই নেশায় মগ্ন হয়ে থাকেন। নিজেকে প্রতি মুহূর্তে বাইরের জগতের কাছে তুলে ধরা অথবা ফলোয়ারদের কাছে প্রশস্তি কুড়োনো, এ সবের মধ্যে দিয়ে তিনি কোনও ফাঁদে পা দিচ্ছেন কিনা, তাও ভুলে যান। আর যে বয়সের পাত্রী চেয়ে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে, সে বয়সেই সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে অজানা বন্ধুত্বে আকর্ষণ থাকে বেশি। তাই হয়তো আগেই সতর্ক থাকতে চেয়েছেন পাত্রটি৷ ’
সূত্র : এই সময় 


মন্তব্য