kalerkantho


যুক্তরাষ্ট্র-উত্তর কোরিয়ার পরমাণু যুদ্ধ হলে কতটা ভয়াবহ হবে পৃথিবীর চেহারা?

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১০ জানুয়ারি, ২০১৮ ২২:৫৬



যুক্তরাষ্ট্র-উত্তর কোরিয়ার পরমাণু যুদ্ধ হলে কতটা ভয়াবহ হবে পৃথিবীর চেহারা?

চলতি বছরের বর্ষ বরণের ভাষণে উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন বলেছেন ‘যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভুমির পুরোটাই আমাদের পারমাণবিক হামলার আওতায় রয়েছে এবং আমার টেবিলেই সবসময় একটি পারমাণবিক সুইচ থাকে।’ কিম হয়তো একথা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে ভয় দেখানোর জন্য, যাতে যুক্তরাষ্ট্র কখনো উত্তর কোরিয়ায় হামলা চালাতে সাহস না পায়।

যাইহোক, এ থেকে অনেকের ভাবনায় এই বিষয়টি ঘুরপাক খাচ্ছে যে, যুক্তরাষ্ট্র এবং উত্তর কোরিয়ার মধ্যে পারমাণবিক যুদ্ধ হওয়ার পর ধ্বংসযজ্ঞে পৃথিবীর চেহারাটা কেমন দাঁড়াবে? পারমাণবিক হামলায় আক্রান্ত স্থানগুলো স্বাভাবিক হতে কতটা সময় লাগবে? বেশ কয়েকজন গবেষক জাপানের হিরোশিমায়ে যেরকম বোমা ফেলা হয়েছিল তেমন ১০০টি পারমাণবিক বোমা হামলা করা হলে পৃথিবীর চেহারাটা কেমন দাঁড়াতে পারে সে বিষয়ে একটি চিত্র দাঁড়ও করিয়ে ফেলেছেন। যা শুনলে আপনি ভয়ে আঁতকে উঠবেন। আসুন জেনে নেওয়া যাক এমন ধ্বংসযজ্ঞের পর কেমন হবে পৃথিবীর চেহারা।

প্রথম সপ্তাহ: ১০০টি পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণ
এর ফলে পৃথিবীর বাতাসে ৫ মেগাটন কালো কার্বন ছড়িয়ে পড়বে। প্রথম সপ্তাহেই পুরো পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের উপরের অংশ কালো কার্বনে পূর্ণ হয়ে যাবে।
এরপর: পুরো বিশ্বজুড়েই এর প্রভাব অনুভূত হবে।

দ্বিতীয় সপ্তাহ: ব্ল্যাকআউট
দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যেই পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে এত বেশি কার্বন জমে যাবে যে, সূর্য থেকে কোনো আলো পৃথিবীতে এসে পৌঁছাতে পারবে না। ফলে পৃথিবী ঠাণ্ডায় জমে যেতে শুরু করবে। যা কয়েকমাসেও থামবে না। এর ফলে পৃথিবীর ওজন স্তরের ভেতরে যে রাসায়নিক বিক্রিয়া হবে যা ওজন স্তরকে কার্যকরভাবেই খেয়ে ফেলবে।
এরপর: পুরো পৃথিবী ডিপ ফ্রিজে প্রবেশ করবে।

দুই মাস পর: পারমাণবিক শীতকাল
দুই মাস ধরে ক্রমাগত ঠাণ্ডা হতে থাকার ফলে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বরফজমাটের নিচে নেমে যাবে। তাপমাত্রা কমে যাওয়ার বৃষ্টিপাতও বেড়ে যাবে অস্বাভাবিক হারে।
দুই মাসের মধ্যেই পৃথিবীর সব উদ্ভিদের বড় হওয়া বন্ধ হয়ে যাবে এবং তাদের ডিএনএ স্থবির হয়ে পড়বে। ফলে কোনো খাদ্য শস্য না জন্মানোয় পৃথিবীজুড়ে দুর্ভক্ষ দেখা দিবে।
এরপর: লম্বা সময় ধরে পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে যাবে।

২ বছর পর: বিশ্ব জনসংখ্যার বিশাল অংশ মারা যাবে অথবা মরতে থাকবে।
এই সময়ের মধ্যে খাবারের অভাবে ২০০ কোটি মানুষ মারা যাবে। কোনো খাদ্য শস্য উৎপাদিত হবে না। বিশ্বের বেশিরভাগ এলাকা তখনো বরফে আবৃত থাকবে এবং কিছু এলাকা পুরোপুরি বাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে।
এরপর: পারমাণবিক তেজস্ক্রিয়তার ফলে রোগের মহামারি।

৫ বছর পর: ক্যান্সারের মহামারী দেখা দিবে।
প্রথম বোমাটি ফেলার পর থেকে শুরু করে ৫ বছরের মধ্যে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের ওজন স্তরের ২০-২৫% পুরোপুরি ক্ষয় হয়ে যাবে। আর তখন সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি সবচেয়ে বেশি ঘনত্ব নিয়ে পৃথিবীতে পড়বে। ফলে বেঁচে থাকা বিশ্ব জনসংখ্যার ১৬-১৮% ক্যান্সারে মারা যাবে। এর আগে ২০০ কোটি মানুষ খাবারের অভাবে মারা যাওয়ার পর এটি হবে দ্বিতীয় গণমৃত্যু।
এরপর: প্রথমবারের মতো পরিস্থিতির উন্নতি শুরু হবে।

১০ বছর পর: প্রথম আশার আলো
প্রথমবারের মতো পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের ওজন স্তরে উন্নতি হওয়া শুরু হবে। প্রথম পারমাণবিক বোমা ফেলার আগে ওজন স্তরের যে অবস্থা ছিল এসময় তার থেকে মাত্র ৮% বেশি পাতলা হবে সেটি।
এরপর: আমাদের বায়ুমণ্ডলে উন্নতির আরেকটি মাইলফলক অর্জিত হবে।

২০ বছর পর: পৃথিবী গরম হতে শুরু করবে। তবে এখনো লম্বা পথ পাড়ি দিতে হবে।
এই সময়ে এসে পৃথিবীর তাপমাত্রা স্বাভাবিক হতে শুরু করবে। তবে তখনো শস্য উৎপাদন আগের অবস্থায় পৌঁছাবে না।
এরপর: আরো লম্বা সময় পরে গিয়ে পৃথিবীটা ফের আরামদায়ক হতে শুরু করবে।

৩০-৩৫ বছর পর: কিছুটা স্বাভাবিক গ্রহ।
উদ্ভিদদের জন্মানোর গতি স্বাভাবিক হতে শুরু করবে। তবে তখনো বেশ ধীরগতিতে। জনবসতিগুলোতে উদ্ভিদদের দখলদারি শুরু হবে। যেমন করে ইউক্রেনের চেরনোবিলের পারমাণবিক দুর্ঘটনার পর ঘটেছিল।
অনেক এলাকায় তখনো পারমাণবিক তেজস্ক্রিয়তা বেশ উচ্চ মাত্রায়ই থাকবে যে সেখানে বসবাস সম্ভব হবে না। এমনকি পরবর্তী একশ বছর বা হাজার বছরেও হয়তো সেখানে মানুষেরা বাস করতে পারবে না।

তবে পৃথিবীর চেহারা এমন হওয়ার জন্য এক সপ্তাহের মধ্যে ১০০টি পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণ হতে হবে। বর্তমানে ১৫ হাজার পারমাণবিক বোমা মজুদ আছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র এবং উত্তর কোরিয়ার মধ্যে পারমাণবিক যুদ্ধ হলে একশটিরও বেশি বোমা হয়তো বিস্ফোরিত হতে পারে। এবং আমরা হয়তো এরচেয়েও বেশি ভয়াবহ পরিস্থিতিরও মুখোমুখি হতে পারি।

সূত্র: চিটশিট


মন্তব্য