kalerkantho


বিশ্ব ইজতেমা : দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম সমাবেশ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১২ জানুয়ারি, ২০১৮ ০৮:৫৫



বিশ্ব ইজতেমা : দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম সমাবেশ

গাজীপুরের টঙ্গীর তুরাগতীরে শুরু হচ্ছে তাবলিগ জামাতের ৫৩তম বিশ্ব ইজতেমা। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় এবং বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় এ সমাবেশের নানান দিক নিয়ে আজকের প্রতিবেদন।

তাবলিগ জামাতের বার্ষিক সমাবেশ
বিশ্ব ইজতেমা তাবলিগ জামাতের বার্ষিক সমাবেশ। বাংলাদেশের গাজীপুর জেলার টঙ্গী এলাকায় তুরাগ নদীর তীরে প্রতিবছর অনুষ্ঠিত হয় মুসলমানদের বিশাল এই সমাবেশ। পৃথিবীর নানান দেশ থেকে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা এতে যোগ দেন।

অর্ধশত বছরের পুরনো
এ বছরেরটি বিশ্ব ইজতেমার ৫৩তম আসর। ১৯৬৭ সাল থেকে প্রতি বছর এই সমাবেশ নিয়মিত হয়ে আসছে বাংলাদেশে।

গোড়ার কথা
১৯৪৬ সালে ঢাকার কাকরাইল মসজিদে তাবলিগ জামাতের বার্ষিক সম্মেলন বা ইজতেমা প্রথম অনুষ্ঠিত হয়। এর পরে ১৯৪৮ সালে চট্টগ্রামে হাজি ক্যাম্পে এবং ১৯৫৮ সালে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে অনুষ্ঠিত হয় ইজতেমা। তখন এই সমাবেশ কেবল ইজতেমা নামেই পরিচিত ছিল।

যখন থেকে তুরাগ তীরে
ইজতেমায় অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা দিনে দিনে বাড়তে থাকায় ১৯৬৬ সালে টঙ্গীর পাগার গ্রামের খোলা মাঠে ইজতেমার আয়োজন করা হয়। ওই বছর থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা অংশ নিতে শুরু করে। তখন থেকে এটি পরিচিতি পায় ‘বিশ্ব ইজতেমা’ নামে। পরের বছর থেকে তুরাগ নদীর উত্তর-পূর্ব তীরের বিশাল খোলা জায়গায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই সমাবেশ।

দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম সমাবেশ
সৌদি আরবের হ্জের পর বিশ্ব ইজতেমা মুসলমান সম্প্রদায়ের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমাবেশ। প্রতি বছর বিশ্ব ইজতেমায় অংশ নেনে প্রায় ত্রিশ লাখ মুসলমান।

বিদেশি অংশগ্রহণকারী
২০১৭ সালে বিশ্ব ইজতেমায় অংশ নিয়েছিলেন প্রায় ছয় হাজার মুসল্লী। এসেছিলেন বিশ্বের ৯৬ টি দেশ থেকে তাঁরা।

দুই পর্বে ইজতেমা
পুণ্যার্থীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার কারণে স্থান সংকুলান না হওয়ায় ২০১১ সাল থেকে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হচ্ছে দুই পর্বে। এবছর প্রথম পর্ব ১২ থেকে ১৪ জানুয়ারি এবং দ্বিতীয় পর্ব অনুষ্ঠিত হবে ১৯ থেকে ২১ জানুয়ারি।

শুরু শুক্রবার
বিশ্ব ইজতেমার দুই পর্বই শুরু হয় শুক্রবার। ফজরের নামাজের পর থেকে শুরু হয় বয়ান (ধর্মীয় আলোচনা)। এদিন জুম্মার নামাজে অংশ নিতেও অনেকে ঢাকা ও এর আশপাশ থেকে বিশ্ব ইজতেমা প্রাঙ্গণে আসেন।

আখেরি মোনাজাত
বিশ্ব ইজতেমার শেষ দিন দুপুরে অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ প্রার্থনা। এ বছর বিশ্ব ইজতেমার দুই পর্বের আখেরি মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে যথাক্রমে ১৪ ও ২১ জানুয়ারি। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীও অংশ নেন আখেরি মোনাজাতে।

নিরাপত্তা
বিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষে বিশেষ নিরপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলে সরকার। প্রায় সাত হাজার পুলিশ সদস্য ছাড়াও বেশ কিছু ব়্যাব সদস্যও থাকবে ইজতেমা প্রাঙ্গণের নিরাপত্তায়। এছাড়া বেশ কিছু ওয়াচ টাওয়ার আর সিসি ক্যামেরার মাধ্যমেও পর্যবেক্ষণ করা হবে মেলা প্রাঙ্গণ।

অন অ্যারাইভাল ভিসা
বাংলাদেশে যেসব দেশের দূতাবাস নেই, সেসব দেশের নাগরিকরা ইজতেমায় অংশ নিতে চাইলে বাংলাদেশে ৩০ দিনের অন অ্যারাইভাল ভিসা পান।

শেষ দিনে
আখেরি মোনাজাতের দিন লোকে লোকারণ্য হয়ে যায় টঙ্গী এলাকা। তখন আশপাশের এলাকার সড়ক, বাড়ির ছাদে বসেও মোনাজাতে অংশ নেন হাজার হাজার মানুষ।

বিশেষ ট্রেন
বিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিশেষ ট্রেন সার্ভিস চালু করে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

সড়ক বন্ধ
দুই পর্বেই আখেরি মোনাজাতের দিনে ভোর রাত থেকে বিকেল পর্যন্ত ঢাকা ও গাজীপুরের কিছু সড়কে যান চলাচল প্রায় বন্ধ থাকে। এদিন ঢাকার নিকুঞ্জ থেকে উত্তরামূখী এবং গাজীপুরের চৌরাস্তা থেকে টঙ্গীমূখী সড়ক আর আশুলিয়া থেকে উত্তরামূখী সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

- ডিডাব্লিউ


মন্তব্য