kalerkantho


বুজকাশি : ওরা অদম্য যোদ্ধা, মস্তকবিহীন দেহ নিয়ে ছোটে অবলীলায়!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৭ জানুয়ারি, ২০১৮ ১২:০৭



বুজকাশি : ওরা অদম্য যোদ্ধা, মস্তকবিহীন দেহ নিয়ে ছোটে অবলীলায়!

বুজকাশি খেলা এক যুদ্ধ, আর সে ময়দানের বীর যোদ্ধা এই ঘোড়াগুলো

উত্তর আফগানিস্তানের সাহসী ও রুক্ষ মানুষগুলোর মতোই তাদের ঘোড়াগুলো। ওরা অদম্য, সাহসী এবং বীরের তকমা পায়। ওরা 'বুজকাশি' ঘোড়া। ওরা প্রস্তুত হচ্ছে যুদ্ধের জন্যে। 

উত্তর আফগানিস্তানের যোদ্ধাদের অন্যতম ও জনপ্রিয় বাহন ঘোড়া। ঘোড়সওয়ারের মতোই সাহসী, শক্তিশালী ও দ্রুতগতির হতে হয় তাদের। ঐতিহ্যবাহী 'বুজকাশি' খেলার জন্যে অতিযত্নে লালিত হয় তারা। পার্সিয়ান ভাষায় এ শব্দের অর্থ 'ছাগল টেনে নিয়ে যাওয়া'। 

আরো পড়ুন: হঠাৎ গাড়ির লুকিং গ্লাসে ভয়ঙ্কর বিষধর...

বুজকাশি খেলাটা যুদ্ধের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। মস্তকবিহীন ছাগলের দেহগুলোকে টেনে নেয় তারা। মোটামুটি ৫০ কেজি ওজন বইতে হয়। ময়দানের পরিধি ঘুরে 'সার্কেল অব জাস্টিস'-এ রাখা হয় দেহগুলোকে। পুরো কাজটি করতে হয় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে। তাই ক্ষীপ্রতা জরুরি।

বালখ প্রদেশের বুজকাশি ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট হাজি মোহাম্মাদ শরীফ সালাহি জানান, প্রতি ১০০টি ঘোড়ার মধ্যে একটি বুজকাশি খেলায় অংশগ্রহণের উপযুক্ত হয়। বংশ পরিক্রমায় তারা ১০০ বছর ধরে বুজকাশি খেলার ঘোড়া পালছেন। 

জেনারেল দোস্তামের স্ট্যালিয়নের এক একটির দাম পড়ে ৭০ হাজার ডলার। মার্শাল ফাহিমের ফার্মের ঘোড়ার দাম ১ লাখ ডলার পর্যন্ত ওঠে, জানান সালাহি। সবকিছুই ঘোড়াগুলোর শক্তিমত্তা ও ধৈর্য্যশক্তির ওপর নির্ভর করে, অনামিকায় রুবির আঙটি পরা হাত একটি ঘোড়ার পিঠে বোলাতে বোলাতে বললেন সালাহি। 

এদের শ্রদ্ধা প্রদান ও শান্ত স্বভাব ধরের রাখার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। কিন্তু আপনি যদি চান ওরা বুনো স্বভাবের হবে, তো তাদের চেয়ে অদম্য আর কিছু নেই। ওরা অনেক হিংস্রও হয়ে উঠতে পারে। 

আলখ প্রদেশে বুজকাশি ঘোড়ার মালিক রয়েছেন দেড় শতাধিক। সেখানে আছে ৪ শতাধিক আস্তাবল। মূল খেলায় ৫০০টির মতো ঘোড়া অংশ নেয়। এ ছাড়া বিয়ের মতো আয়োজনেও অংশ নেয় তারা। তখন ২ হাজার ঘোড়ার সমাবেশও দেখা যায়। 

আফগানিস্তানের উত্তরের গর্ব বুজকাশি খেলা এবং তার ঘোড়াগুলো। কাবুলেও দারুণ জনপ্রিয় এই খেলা। হাজার হাজার দর্শক সেখান থেকে উত্তরে পাড়ি জমান। 

ঘোড়াগুলো কিন্তু মানুষের ক্ষমতা ও সম্পদের প্রতীক। সেখানকার প্রত্যের ধনীর অন্তত আস্তাবল ও বুজকাশি থাকতে হবে, জানালেন হাজি রাইস মোকিম। তার পাশেই দাঁড়িয়ে রয়েছে বিশাল এক বুজকাশি। তিনি ২২টি বুজকাশির মালিক। তার বাবারও অনেক ঘোড়া ছিল। প্রতিদিন ভোড়ে ধুলো উড়িয়ে তিনি ছুটিয়ে বেড়ান বুজকাশিদের। 

আরো পড়ুন: ভুলেও কখনও হাঁচি আটকাবেন না!

ওই ঘোড়াগুলোর সাহসিকতা রীতিমতো এক বিস্ময়। যে ঘোড়া যত বেশি সাহসী, সে তত বেশি আকাঙ্ক্ষিত বুজকাশি খেলায়। এদের রং কোনো ব্যাপার না। ঠিক এটাই বললেন ৮২ বছর বয়সী হাবিবুল্লাহ, এটা কালো না সাদা তা আমার কাছে কোনো বিষয় না। ঘোড়াগুলোর প্রথমেই যা থাকতে হবে তা হলো 'সাহস'। 
সূত্র : এমিরেটস 


মন্তব্য