kalerkantho


পাহাড়ি দুর্গম পথে একা বাইক চালাচ্ছিলেন এক তরুণী! তারপর …

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২১ জানুয়ারি, ২০১৮ ১৬:৫৮



পাহাড়ি দুর্গম পথে একা বাইক চালাচ্ছিলেন এক তরুণী! তারপর …

বরফে ঢাকা দুর্গম পাহাড়ি পথে একা বাইক চালান এক তরুণী। শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষা‚ তার বাইক-চারণে খামতি নেই। না‚ শখের অভিযাত্রী বা বাইক রাইডার নন। তিনি একজন স্বাস্থ্যকর্মী।

গীতা ভার্মা। থাকেন হিমাচল প্রদেশের মান্ডি জেলার কারসোং তহশিলের সপ্নোত গ্রামে। ভারতের প্রত্যন্ত অংশের এই বাসিন্দা স্থান পেয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ক্যালেন্ডারে। সাধারণ সালোয়ার কামিজ‚ কপালে বিন্দি আর মুখে মিষ্টি হাসি। দিনভর গীতা চক্কর দেন মোটর বাইকে। শীতকালে মাথায় কুল্লু টুপি আর পরনে শীতবস্ত্র চাপিয়ে চষে বেড়ান মান্ডির নির্দিষ্ট এলাকা। শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষা‚ গীতার বাইক-চারণে খামতি নেই।

না‚ শখের অভিযাত্রী বা বাইক রাইডার নন। গীতা একজন স্বাস্থ্যকর্মী বা অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী। তাঁর দায়িত্ব হল‚ একজন শিশুও যেন মিজলস এবং রুবেলার টীকা থেকে বঞ্চিত না হয়। গীতার কাছে‚ একজন মানে আক্ষরিক অর্থেই একজন। তার জন্য চেষ্টার কোনও কসুর রাখেন না। পথ যতই বন্ধুর হোক। যতই বৃষ্টিতে নামুক ধস। প্রবল শীতে অবরুদ্ধ হয়ে যাক সবকিছু। গীতার মোটরবাইক ভাঙতেই থাকে চড়াই উতরাই। তাঁর এলাকার একজন শিশুও বাদ থাকবে না ওষুধের রক্ষাকবচ থেকে।

পার্বত্য হিমাচলের প্রত্যন্ত অংশে স্থায়ী শিবিরে থাকেন পশুপালক এবং গুর্জর সম্প্রদায়ের মানুষ। সেখানেও হাজির গীতার বাহন। সঙ্গে বরফ দেওয়া বাক্সে টীকার ওষুধ।

গীতার কর্মক্ষেত্র হল মাণ্ডির ঝনজেলি ব্লকের শকরদেহরা উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র। কিন্তু কবে মায়েরা শিশুকে নিয়ে ওখানে আসবেন সেই অপেক্ষায় বসে থাকেন না তিনি। জানেন স্থানীয় মানুষের বেশিরভাগের নুন আনতে পান্তা ফুরোয়। অন্নসংস্থানের তাগিদে কেটে যায় দিনভর। কখন তাঁরা বাচ্চাকে নিয়ে আসবেন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে? তাই গীতাই হাজির তাঁদের দরজায়। এত কষ্ট সহ্য করেও তিনি সবসময় হাসিমুখে।

গীতাকে সংবর্ধনা জানিয়েছেন হিমাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী জয়রাম ঠাকুর। এই হিমাচলি ললনার কৃতিত্ব ঠাঁই পেয়েছে হু-এর ক্যালেন্ডারে।


মন্তব্য