kalerkantho


আসমা দ্য ফিয়ারলেস : ডন-এর সম্পাদকীয়

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ১৮:৪২



আসমা দ্য ফিয়ারলেস : ডন-এর সম্পাদকীয়

তাঁকে হঠাৎ হারানোর এই ধাক্কাটা অনুভবগ্রাহ্য, তবে এটা ভেবেই সান্ত্বনা যে, তিনি আমাদের মাঝেই বেঁচে ছিলেন। পাকিস্তানের প্রতিটি মানুষ তাঁর জন্য গর্বিত এবং তিনি অণুকরণীয় ছিলেন সবার কাছে।

অশুভর মুখোমুখি হওয়া ছিল তাঁর নিত্যদিনের কাজ, গণতান্ত্রিক পাকিস্তানের আদর্শকে বুকে ধারণ করতেন তিনি। ছিলেন নীতিবান আর সাহসী। সংবিধানের প্রতি তাঁর অবিচল থাকা তাঁকে করে তুলেছিল প্রবাদতুল্য।

জীবনের বেশির ভাগ সময় তিনি সাধারণ মানুষের চোখে নিজের জীবনকে দেখেছেন। নিজের প্রতি আজীবন উদাসীন এই নারী সারাজীবন সেটিই করে গেছেন যা একজন সুদৃষ্টিসম্পন্ন আর সচেতন নাগরিকের করা উচিত।

আরো পড়ুন : বিখ্যাত পাকিস্তানি মানবাধিকারকর্মী আসমা জাহাঙ্গীরের মৃত্যু

সমীহ করার মতো আইনজীবী ছিলেন তিনি, ছিলেন অসাধারণ বিচক্ষণ। তাঁর ভাষা ছিল সার্বজনীন আর এটি দিয়েই তিনি লড়াই করে গেছেন, দুর্বলের পক্ষে জবাবদিহিতা চেয়েছেন ক্ষমতাবানের কাছে।

বাংলাদেশে (পূর্ব পাকিস্তান) সামরিক শাসন বা মানবতার শত্রুদের বিরুদ্ধে বরাবরই কঠোর অবস্থানে ছিলেন আসমা জাহাঙ্গীরের বাবা মালিক গোলাম জিলানি। বর্বর শাসনের প্রতিবাদে তিনি ছিলেন এক উচ্চকিত কণ্ঠস্বর। বাবা যখন স্বৈরতন্ত্রীদের সাথে বাগযুদ্ধরত, ঠিক তখনই মেয়ে আসমা রাজপথে, জিয়াউল হকের স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মিছিলের অগ্রভাগে।

আরো পড়ুন : 'আসমা জাহাঙ্গীরকে এখনই বের করে দাও' : পাকিস্তান ছাড়া করার হুমকি 

জেনারেল জিয়া আসমাকে জেলে পুরেছিলেন, আরেক সামরিক জান্তা পারভেজ মোশাররফ তাঁকে করে রেখেছিলেন গৃহবন্দি। তবুও এদের বিরুদ্ধে তাঁর মুখ বন্ধ রাখতে পারেনি কেউ। তাঁর সমালোচনা ছিল ধারালো আর তাই কর্তৃত্ববাদীরা তাঁকে ভয় পেত।

তাঁর নীতিগত অবস্থান তাঁকে সর্বদা কঠিন প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করাত। মানুষের ভোট প্রদানের অধিকারের প্রতি অসম্ভব সচেতন এই নারী তাঁর শেষনিঃশ্বাস পর্যন্ত মানবতার পক্ষে লড়াই করে গেছেন।

প্রবাদতুল্য মানবাধিকার যোদ্ধা, গণতন্ত্রের ত্রাতা আর আইনের পক্ষের এক শক্তিশালী স্বত্বাকে হারানো সবার জন্যই বেশ কঠিন। আর তাই, পাকিস্তানের জন্য আসমা জাহাঙ্গীরকে হারানো সত্যিই একটি ঐতিহাসিক ক্ষতি। এ যেন গণতন্ত্রের জন্য এক অশনিসংকেত।

আরো পড়ুন : আসমা জাহাঙ্গীরের মৃত্যু, বলিউডে শোক

গণতন্ত্র হয়তো নিজেই তার চলার পথ খুঁজে নেবে। কিন্তু গণতান্ত্রিক পরিকাঠামোর জন্য চ্যালেঞ্জগুলো বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়াল। সেটা আসতে পারে উভয় দিক থেকেই। গণতন্ত্রবিরোধী শক্তি আর রাজনৈতিক শক্তি- উভয়ের জন্যই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

এমনিতেই পাকিন্তানে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো যথেষ্ট দুর্বল এবং মানুষের নৈতিক অধিকারের প্রসঙ্গ উঠলে সেখান থেকে শুধু 'না' শব্দটিই উঠে আসে। 

আসমা জাহাঙ্গীর যে লড়াইটা শুরু করে গেছেন তা পাকিস্তানিদেরই শেষ করতে হবে। তাঁর কাজ শেষ করার দায়িত্ব প্রতিটি পাকিস্তানির। দূরে কোথাও ছোট একটা আলো হয়ে জ্বলছেন আসমা জাহাঙ্গীর। একদিন আরো অনেক আলো এসে জুটে যাবে তাঁর পাশে, আঁধার কেটে যাবেই।
সূত্র : ডন-এর সম্পাদকীয়        


মন্তব্য