kalerkantho


স্ত্রীর নাম নেওয়ার পর যে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ২৩:২৭



স্ত্রীর নাম নেওয়ার পর যে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে!

ডেব্বি হার্ডিংয়ের সঙ্গে ওয়াইন নেলের বিয়ের সময়কার ছবি।

২০১৬ সালের জুলাইয়ে বিয়ে করেছি। আমার স্ত্রীর নাম ডেব্বি হার্ডিং। আর আমার নাম ছিল ওয়াইন নেল। বিয়ের পর আমি হঠাৎ করেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি নিজের নাম পরিবর্তনের ব্যাপারে।

শুরুটা করেছিলাম ফেসবুক দিয়ে। ওয়াইন নেলের পরিবর্তে ওয়াইন হার্ডিং করে ফেলি। এই ফাঁকে বলে রাখি, আমার পরিবার দক্ষিণ আফ্রিকায় থাকে। আর আমি স্ত্রীকে নিয়ে থাকি মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কিপরাসে।

ফেসবুকে আমার বন্ধু তালিকায় বাবা, ভাইয়েরা রয়েছে। আমার নাম পরিবর্তনের বিষয়টা তারা ফেসবুকের মাধ্যমেই জানতে পারেন। বিষয়টি তারা মেনে নিতে পারেননি।

ফোনে কথা বলার সময় বাবা আমাকে বলেন, তুমি আমাদের সঙ্গে অনেকটা দূরত্ব তৈরি করে ফেলেছ। তুমি যা করেছ তার জন্য আমাদের মাথা কাটা যাচ্ছে।

আমি তাদেরকে নানাভাবে বোঝানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হলাম। বাবা আমাকে বললেন, শিগগিরই আমার সঙ্গে তিনি সব রকম সম্পর্ক ছিন্ন করবেন।

এদিকে আমার অফিসের বস অন্য সহকর্মীদের কাছে বলেছেন, আমি নাকি সমলিঙ্গের কাউকে বিয়ে করে গে হয়ে গেছি। তিনি সরাসরি আমাকে এ ব্যাপারে প্রশ্নও করেছেন। তাকে খোলাসা করে বলার পরেও তিনি আমার কথায় কান না দিয়ে বিষয়টি অনুচিত বলে মন্তব্য করেন।

পরে অতিষ্ঠ হয়ে একদিন তাকে আমার বিয়ের কাগজপত্র দেখিয়ে বলেছি, আমার স্ত্রী একজন নারী। আমরা সমলিঙ্গের নই। তার পরেও তিনি মন্তব্য করেন, আমার কারণে প্রতিষ্ঠানের সুনাম নষ্ট হচ্ছে।

ব্যাংকের কাগজপত্রে নাম পরিবর্তনের যাওয়ার পর আরেক ধরনের বিড়ম্বনা। স্বাভাবিকভাবে ব্যাংকের কাগজপত্রে নাম পরিবর্তন করা গেলেও আমার ক্ষেত্রে অনেক টেবিল ঘুরতে হয়েছে।

তবে আমার স্ত্রী কিন্তু বিষয়টি বেশ ইতিবাচকভাবেই নিয়েছেন। আমার স্ত্রীর ভাইয়েরাও অনেকটাই ইতিবাচক। আমার কাছের কয়েকজন বন্ধু আমাকে নিয়ে গর্ব করে। প্রাপ্তির জায়গা সেখানেই। আমি বিশ্বাস করি এভাবেই এক সময় চলতি রীতিতে পরিবর্তন আসবে।

বিবিসি অবলম্বনে


মন্তব্য