kalerkantho


যাত্রীরা সাবধান! বিমানবন্দরে সক্রিয় অনেক 'ধড়িবাজ মিজান'

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১০ মার্চ, ২০১৮ ১৬:১৪



যাত্রীরা সাবধান! বিমানবন্দরে সক্রিয় অনেক 'ধড়িবাজ মিজান'

এই সেই মিজানুর রহমান, এমন অনেকেই হয়তো সক্রিয় বিমানবন্দরে

মিজানুর রহমান। চাঁদপুর সদরে বাড়ি। এক সময় দশ বছরের অধিককাল মালেশিয়ায় ছিলেন। এখন ব্যবসা করেন। ইন্ডিয়া থেকে কসমেটিক্স ও পোশাক এনে চকবাজারে সাপ্লাই দেন।

প্রাথমিক বক্তব্যমতে, গত অক্টোবরে তিনি ইন্ডিয়া থেকে আসার পর ব্যাগ না পেয়ে অভিযোগ করে পিআইআর পেপার সংগ্রহ করেন। সেই পিআইআর দেখিয়ে ব্যাগ খুঁজতে এয়ারপোর্টে এসে ব্যাগ না পেয়ে জিদ করে বেল্ট থেকে অন্যের ব্যাগ নিয়ে যেতে এপিবিএনের হাতে ধরা পরেন। আমরা তখন তাকে তিনমাসের সাজা দিয়েছিলাম।

সাজা খেটে বের হয়ে তার মাথায় আরো রক্ত চেপে যায়। তার ভাষায়, 'ব্যাগও পাইলাম না, জেলও খাটলাম।' তাই তিনি আজ আবার আসেন। জিদ্দের চোঁটে আজ বেল্ট থেকে এমিরেটসের ফ্লাইটের তিনযাত্রির তিনব্যাগ নিয়ে ট্রলি ভর্তি করে চলে যেতে, ট্যাগ না মেলায় এমিরেটসের স্টাফ ও এপিবিএনের হাতে ধরা পড়েন।

পূর্বের মামলায় তাকে জেল দেওয়া হয়েছিলো, কারণ তিনি ব্যাগ খুঁজতে এসে লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড সেকশনেই যাননি। পরিকল্পিতভাবে ব্যাগ চুরি করতে এসেছিলেন। এবাোও তিনি লস্ট এন্ড ফাউন্ড সেকশনে যাননি। সঙ্গতকারণে প্রশ্ন জাগে, তিনি কেন লস্ট এন্ড ফাউন্ডে নিজের ব্যাগের খবর নিতে যান না? উনি কি লস্ট এন্ড ফাউন্ড চেনেন না?

হেয়ার ইজ দ্যা টুইস্ট...

উত্তর খুঁজতে গিয়ে যা জানা যায়, তা এক ইতিহাস। তার ব্যাগ হারালেই তো তিনি ব্যাগ খুঁজতে যাবেন! ইন্ডিয়া থেকে এসে তিনি ট্যাগচেকার ফাঁকি দিয়ে হাতের ট্যাগসহ ব্যাগ নিয়ে বের হয়ে যেতে সক্ষম হন। ব্যাগ বাইরে রেখে এসে হাতের ট্যাগ দিয়ে লস্ট এন্ড ফাউন্ডে কমপ্লেইন করে পেপার সংগ্রহ করেন, যেটাকে তিনি এখন এয়ারপোর্টে গেইটপাস হিসেবে ব্যবহার করেন।

উনি সাধারণত প্রথমে বাইরে এবং পরে ভেতরে খোঁজাখুঁজি করে কারো ফেলে দেওয়া ট্যাগ সংগ্রহের চেষ্টা করেন। সেই ট্যাগ নিয়ে অপেক্ষা করেন, কখন ফ্লাইটের ব্যাগ বেল্টে আসবে। এয়ারলাইন্স স্টাফ ও গ্রাউন্ডহ্যান্ডলিং এজেন্টের ভালোমত ট্যাগ মিলিয়ে না দেখার গাফলতির সুযোগ তিনি জেনেশুনেই গ্রহণ করে থাকেন।

তাকে ছয়মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। 

(ফেসবুক থেকে)


মন্তব্য