kalerkantho


জরিপ রিপোর্ট

দেশের প্রায় ১২ শতাংশ বালক-বালিকা নিয়মিত ধূমপানে আসক্ত

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৮ মার্চ, ২০১৮ ২০:৫৮



দেশের প্রায় ১২ শতাংশ বালক-বালিকা নিয়মিত ধূমপানে আসক্ত

প্রতীকী ছবি

দেশের প্রায় ১২ শতাংশ বালক-বালিকা নিয়মিত ধূমপানে আসক্ত। এর মধ্যে ৯ শতাংশ কিশোর এবং কিশোরী রয়েছে ৩ শতাংশ।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও বা ‘হু’ ) উদ্যোগে পরিচালিত জরিপের উদ্ধৃতি দিয়ে যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী দৈনিক ‘দি গার্ডিয়ান’ সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

‘হু’র উদ্যোগে বিভিন্ন দেশে ‘গ্লোবাল ইয়ুথ টোবাকো জরিপ পরিচালনা করা হয়।’ 

১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সী বালক-বালিকাদের মধ্যে পরিচালিত এই জরিপ রিপোর্টে ভারত, ইন্দোনেশিয়া এবং বাংলাদেশের কিশোর-কিশোরীদের ধুমপান প্রবনতাসহ বিভিন্ন পন্থায় তামাকজনিত পণ্যের ব্যবহারের বিষয়টি ফুটে উঠেছে।

এই তিন দেশের মধ্যে ইন্দোনেশিয়ায় ধূমপান আসক্ত কিশোর-কিশোরীর হার সবচেয়ে বেশী। ২০১৪ সালে পরিচালিত হু’র জরিপের উদ্ধৃতি দিয়ে ‘দি গার্ডিয়ানের’ প্রতিবেদনে বলা হয়, ইন্দোনেশিয়ার ৪০ শতাংশ বালক-বালিকা ধূমপান বা তামাকজাতীয় পণ্যে আসক্ত। এর মধ্যে ৩৬ শতাংশ বালক এবং ৪ শতাংশ রয়েছে বালিকা। অপরদিকে ভারতে ১৪ দশমিক ৬ শতাংশ কিশোর-কিশোরী ধূমপান বা তামাকজনিত পণ্যে আসক্ত।

‘হু’র জরিপে ‘সুস্পষ্ট সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পরিস্কারভাবে ফুটে উঠেছে বালক-বালিকারা ধূমপানের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে’।

এদিকে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জরিপের উদ্ধৃতি দিয়ে গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, সিগারেটের বিক্রির প্রচারণার কাজে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বহুজাতিক টোবাকো কোম্পানিগুলো স্কুল শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করছে। বিশেষ করে মধ্য ও স্বল্প আয়ের দেশগুলোর শিশু-কিশোরদের অর্থের বিনিময়ে সিগারেটের বিজ্ঞাপন প্রচারের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। 

এসব কোম্পানি নিজ-নিজ ব্র্যান্ডের সিগারেটের প্রচারণা চালাতে প্রতিদিনের হাজিরার ভিত্তিতে স্কুল শিক্ষার্থীদেরও ব্যবহার করছে।

ওই একই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, শিশু-কিশোরদের তামাকমুক্ত করতে বিশ্বব্যাপী নতুন প্রচারণা শুরু হয়েছে। পৃথিবীর ২২ টি দেশে একসাথে এই তামাক বিরোধী প্রচারণার কাজ চলছে।

ধূমপান বিরোধী নতুন প্রচারণায় তামাক বিরোধী সংগঠন ও বেসরকারি সংস্থাগুলো সচেতন নাগরিকদের তামাক বিরোধী প্রচানায় এগিয়ে আসার আহবান জানানোর পাশপাশি ধূমপান প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকারকেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করা হয়েছে।

ক্যাম্পইেন ফর টোব্যাকো ফ্রিকিডস (সিটিএফটি), গ্রান্টস ম্যানজোর ডা. মাহফুজুর রহমান ভুঁইয়া বলেন, গবেষণার এই ফলাফলকে আমলে নিয়ে সরকার তামাক কোম্পানির প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সব ধরণের প্রচার-প্রচারণা নিষিদ্ধের বিধান কঠোরভাবে বাস্তবায়ন না করলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা-২০৪০ সাল নাগাদ তামাকমুক্ত বাংলাদেশ অর্জন এবং আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মকে রক্ষা করা সম্ভব হবে না।

তিনি বলেন, ২০১৬ সালে বাংলাদেশে জন হপকিন্স ইউনিভার্সিটি কর্তৃক ঢাকার ১১০টি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় এর ওপর পরিচালিত গবেষণায় বিদ্যালয়ের ১০০ মিটারের মধ্যে ৫৯১টি তামাকপণ্যের খুচরা বিক্রয়কেন্দ্র পাওয়া গেছে । যার অর্ধেকই বিদ্যালয়ের গেট থেকে সরাসরি দৃষ্টিগোচর হয়। এসব বিক্রয় কেন্দ্রে তামাক কোম্পানিগুলো আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্ম তথা শিশুদেরকে টার্গেট করে তামাকপণ্যের প্রচারণা চালাচ্ছে।


মন্তব্য