kalerkantho


অতি লোভে তাতি নষ্ট

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৫ এপ্রিল, ২০১৮ ২১:০৩



অতি লোভে তাতি নষ্ট

রাত ৩টার প্রথম বনগাঁ লোকাল ধরে উল্টোডাঙা। সেখান থেকে ভোর ৪টার মধ্যে 'কর্মক্ষেত্রে' পৌঁছে যাওয়া। ঘণ্টা দুয়েকের মধ্যেই সমস্ত কাজ সারা!

ফেব্রুয়ারিতে ভারতের বাগুইআটি এলাকায় একটি চুরির ঘটনা ঘটেছিল। তদন্তে নেমে চন্দন বিশ্বাস নামের একজনকে আটক করেন তদন্তকারীরা। জিজ্ঞাসাবাদে বাবুঘাটের বাসিন্দা চন্দনের দৈনন্দিনের রুটিন জেনে অবাক বাগুইআটি থানার পুলিশ। জানা গেছে, অশ্বিনীনগরের এক পাড়ায় তিনটি বাড়িতে এক রাতে হানা দিয়েছিল চন্দন।

পুলিশ বলছে, মাদকসেবী চন্দনের নজর থাকতো মোবাইল এবং ল্যাপটপের দিকে। সেই রাতে একটি বাড়ির তিনতলার বারান্দার দরজা খোলা পেয়ে গাছ বেয়ে ঘরে পৌঁছে যায় সে। ঘটনাক্রমে, সেই ঘরের আলমারিতেও চাবি দেওয়া ছিল না। ফলে তার হাতে পড়ে যায় ১৯ লাখ টাকার সোনা এবং হিরের গহনা। কিন্তু এর পরেও অন্য একটি বাড়ি থেকে মোবাইল চুরি করে সে। আর সেটাই কাল হলো তার।

তদন্তকারীরা জানান, কৈখালিতে এক ব্যক্তির কাছে চারশ টাকায় মোবাইলটি বিক্রি করেছিল চন্দন। ওই ব্যক্তি মোবাইলটি ব্যবহার করছিল। টাওয়ারের অবস্থান ধরে ওই ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে তাকে জেরা করে পুলিশ। তারপরই চন্দনের নাগাল পেয়ে যান তদন্তকারী কর্মকর্তা চন্দ্রনাথ বটব্যাল।

পুলিশ জানায়, চুরির ঘটনা এবং চুরির মাল কেনাবেচার অভিযোগে চন্দন ছাড়াও পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের নাম অনিমা সরখেল, নান্টু চক্রবর্তী, প্রদ্যোৎ মণ্ডল, গৌতম চট্টোপাধ্যায় এবং মিঠুন কর্মকার। নান্টুকে ৪০ হাজার টাকার ল্যাপটপ দু’হাজার টাকায় বেচেছিল চন্দন। বাকিরা জড়িত ছিল চুরি করা গহনাগুলি কেনাবেচায়।

তদন্তকারীরা জানান, রোজ ভোরে চন্দন নিয়ম করে পৌঁছে যেত বাগুইআটি, কেষ্টপুর, তেঘরিয়ার মতো জায়গায়। যে সব বাড়িতে অল্পবয়সি ছেলে-মেয়েরা পেইং গেস্ট হিসেবে থাকেন সেই সব বাড়িই ছিল চন্দনের ‘টার্গেট’। কারণ, ওই সব বাড়িতে বেশি রাত পর্যন্ত লেখাপড়া করে পড়ুয়ারা ঘুমোন। ফলে শেষ রাতে ঘুম গাঢ় হয়। সেই সুযোগ কাজে লাগাত চন্দন।



মন্তব্য