kalerkantho


লাল স্কার্ট, সাদা শার্ট আর মাথায় দুই ঝুঁটি...

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৩ মে, ২০১৮ ১০:৫৫



লাল স্কার্ট, সাদা শার্ট আর মাথায় দুই ঝুঁটি...

স্কুলে যাচ্ছেন ৬৩ বছরের পুনশ্রি সিয়াংনুয়াল

গল্পটা দারুণ। এমন গল্প কদাচিৎ দেখা যায়। কিন্তু এবার তার দেখা মিলল বিস্তর পরিসরে। 

শিক্ষা অর্জনের আসলে কোনো বয়স নেই। জন্ম থেকে কবর পর্যন্ত মানুষ শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে। কিন্তু ৬৩ বছরের এক বৃদ্ধা যখন স্কুলে যান তখন অবাক লাগে ঠিকই। এমন কিছু কাহিনি খবরের পাতায় উঠে এসেছে যে, অনেক বয়সে মানুষ শিক্ষা অর্জনের জন্যে হাতে বই নিয়ে স্কুলে যাচ্ছে। কিন্তু এই বয়সে থাইল্যান্ডের পুনশ্রি সিয়াংনুয়াল যখন স্কুলবালিকাদের স্কুলড্রেস পরে বাড়ি থেকে কাঁধে ব্যাগ ঝুলিয়ে বের হন, তখন বিষয়টি সবাই নজরে পড়ে। 

এখন তাদের অনেক বন্ধু, সবাই মিলে স্কুলে যাচ্ছেন 

স্কুলে যেতে তার দারুণ ভালো লাগে। পড়ার আগ্রহ আগে। আবার সেখানে তার অনেক বন্ধু হয়ে গেছে। ক্লাসের বন্ধুদের সঙ্গে প্রতিদিন দেখা হয়। তার অনেক ভালো লাগে। টকটকে লাল স্কার্ট, সাদা শার্ট, লাল টাই, মাথায় দুটো ঝুঁটি বেঁধে স্কুলে যেতে দেখা যায় তাকে। বললেন, ক্লাসরুমটাকে খুব মিস করি। 

বিস্ময়ের ব্যাপার হলো, ক্লাসরুমে এই বয়সী তিনি একা নন। থাইল্যান্ডের আয়ুত্থায়া প্রদেশের চিয়াং রাক নয়ি উপজেলায় গেলে আপনি অবাক হবেন। সেখানে এমন ইউনিফর্মে বেশ কয়েকজন বৃদ্ধাকে স্কুলে যেতে দেখা যাবে। 

চলছে পিটি

বয়ঃবৃদ্ধরা একটা সময় একাকীত্বের মধ্যে পড়ে যান। তাদের আশপাশে সবাই থাকলেও তিনি একা। এ পরিস্থিতি থেকে বের করে আনতে তাদের স্কুলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ৭৭ বছর বয়সী সমজিত তিরারোজ এবং পুনশ্রি একসঙ্গেই স্কুলে যান। মাত্র ৪০ বছর বয়সে তার স্বামী মারা যান। ছেলে-মেয়েরা সবাই বড় হয়েছে, যার যার মতো সংসার করছেন। হঠাৎ দেখা করতে আসেন মায়ের সঙ্গে। কাজেই তিনি একা। আর এ সমস্যা থাইল্যান্ডের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে রয়েছে। বাড়ছে চীনে, জাপানের সমস্যা তো অনেক আগে থেকেই। বর্তমানে ৬৫ বছরের বেশি বয়সীদের সংখ্যা থাইল্যান্ডে ৭.৫ মিলিয়ন। এই একাকী নারী-পুরুষদের একাকীত্ব ঘোঁচাতেই অসাধারণ এই আয়োজন। 

ঝুঁটি!

৮৪ বছর বয়সী চালউয়ে সুরিয়নও ওদের মতো একা। স্বাস্থ্যগত নানা সমস্যা আছে তার। কিন্তু বললেন, ক্লাসে যেতে আমার খুবই ভালো লাগে। সেখানে গিয়ে পিটি করা আর বন্ধুদের সঙ্গে পড়াশোনা আর নাচানাচি খুবই ভালো লাগে। 

নিজের কাজ দ্রুত সেরে স্কুলে যেতে হবে

সেখানে পড়াশোনার পাশাপাশি নাচ-গান ইত্যাদির ব্যবস্থা রয়েছে। কাজেই বন্ধুদের সঙ্গে লেখাপড়া আর হই হুল্লোড় করেই তাদের সুন্দর সময় কেটে যায়। তাদের মধ্য এখন কোনো একাকীত্ব নেই। 
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস 


মন্তব্য