kalerkantho


'পুনর্জীবন' পেল জিন্নাহর বোনের সেই মার্সিডিজ-ক্যাডিলাক

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৩ মে, ২০১৮ ১৬:২৪



'পুনর্জীবন' পেল জিন্নাহর বোনের সেই মার্সিডিজ-ক্যাডিলাক

'পুনর্জীবন' পাওয়া ফাতেমা জিন্নাহর মার্সিডিজ বেন্জ

কায়েদে আজম জিন্নাহর বোন ফাতেমা জিন্নাহ যদি আজ বেঁচে উঠতেন তবে শুধু অবাকই হতেন না, হয়তো হাসতেনও খুশিতে। কেননা, তাঁর প্রায় সত্তর বছর আগেকার মডেলের মার্সিডিজ-ক্যাডিলাক গাড়ি দুটি 'পুনর্জীবন' পেয়েছে। গাড়ী দুটি হলো-১৯৫৫ সালের ক্যাডিলাক সিরিজ-৬২ এবং ১৯৬৫ সালের মার্সিডিজ বেন্জ-২০০ বর্তমানে যেগুলো প্রায় নতুনের মতোই দেখাচ্ছে। 

কেবল ফাতেমা জিন্নাহই নন যে বা যারা ওই গাড়ি দুটি ধ্বংসপ্রাপ্ত অবস্থায় দেখেছে এখন সেগুলো দেখে তাদের চোখও বিস্ময়ে ছানাবড়া হয়ে যেতে পারে। আর ওই গাড়ি দুটিকে 'পুনর্জীবন' দিয়েছেন যিনি তার নাম মহসীন ইকরাম। এ জন্য তাকে ২১ মাস কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে। পাকিস্তানের 'ভিনটেজ এণ্ড ক্লাসিক কার ক্লাব'-র প্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট মহসীন ইকরাম। তিনিই সর্বপ্রথম ১৯৯২ সালে গাড়ি দুটি মহাত্মা প্রাসাদে আবিস্কার করেন। 

তিনি জানান, গাড়ি দুটি তখন গ্যারেজে অযত্নে পড়ে ছিল। কিন্তু সিন্ধু সরকার মহাত্মা প্রাসাদের সংস্কারের উদ্যোগ নিলে গাড়ি দুটি গ্যারেজ থেকে বের করে খোলা আকাশের নীচে ফেলে রাখা হয়। 

মহসীন জানান, সে সময় গাড়ি দুটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব যে কতটা তা বুঝতে পারেনি মহাত্মা প্রাসাদের সংস্কারের কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা। তারা গাড়ি দুটির বনেটে বসেই প্রতিদিনের খাবার গ্রহণ করত। এ ছাড়া গাড়ির যন্ত্রাংশও দেদারসে চুরি হতে থাকল। শুধু তাই নয়, একসময় গাড়ির চাকাগুলোও চুরি হয়ে গেল!

তিনি বলেন, এই অবস্থা দেখে আমি ভীষণ মানসিক পীড়ন অনুভব করলাম। গাড়ি দুটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে সিন্ধু প্রদেশের গর্ভনরকে চিঠি লিখলাম আমি। আমার ওই চিঠিতে কাজ হলো। সিন্ধু সরকার গাড়ি দুটিকে জাতীয় সম্পদ হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে মহাত্মা প্রাসাদ থেকে সরিয়ে আর্কাইভ ডিপার্টমেন্টের কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দিল। কিন্তু গাড়ি দুটি এহেন ভগ্নদশা দেখে আর্কাইভ ডিপার্টমেন্ট দারুন হতাশ হয়ে পড়ে। ক্লাসিক গাড়ির প্রতি আমার আগ্রহের কথা আমি সংস্থাটিকে জানাই এবং সংস্কারে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করি। প্রথম দিকে আমি বিনা বেতনেই কাজ করতাম। কিন্তু পরে আরো কর্মচারীদের সাথে আমিও বেতনভুক্ত হই। 

তিনি জানান,২০১৬ সালের ৮ আগষ্ট থেকে কাজ শুরু করে মাত্র ২১ মাসে গাড়ী দুটি প্রায় নতুনের অবয়বে আনা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে গাড়ি দুটি কায়েদে আজম হাউস মিউজিয়ামে রয়েছে। এখন সেগুলো চকচকে সেই সত্তর বছর আগেকার সময়ের মতো, যেন 'পুনর্জীবন' পেয়েছে। আর এই মিউজিয়াম সংলগ্ন ভবনেই একসময় বসবাস করতেন ফাতেমা জিন্নাহ, পাশেই 'ফাতেমা জিন্নাহ রোড'। করাচিবাসীদের জন্য গাড়ি দুটি তাই ইতিহাস-ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে রইল। 

দ্য ডন অবলম্বনে খসরু নোমান 


মন্তব্য