kalerkantho


চীনের শেষ গুহা বাড়ির বাসিন্দারা অস্তিত্বের সংকটে

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৪ মে, ২০১৮ ১৯:৩৭



চীনের শেষ গুহা বাড়ির বাসিন্দারা অস্তিত্বের সংকটে

চীনে বিশৃঙ্খলার সময় চীনের মিয়াও গ্রামের মানুষেরা লুকিয়ে ছিলেন এখানেই এই গুহায়। তখনও আধুনিক চীন গড়ে ওঠেনি। চীনের দক্ষিণ পশ্চিমের গুইঝাউয়ের তখন সশস্ত্র দুস্কৃতিদের তাণ্ডব চলছে। সেই সময়ে একমাত্র লুকিয়ে থাকার জায়গা হিসেবে মিয়াও অধিবাসীরা বেছে নেন এই গুহাকেই।

তার পর থেকে এখানেই স্থায়ী ভাবে বসবাসও শুরু করেন তাঁরা। এরপর চীনে ক্ষমতায় আসে কমিউনিস্ট পার্টি। দিন দিন এই জায়গায় থেকে দারিদ্র এবং বিচ্ছিন্নতা গ্রাস করতে থাকে তবু তাঁরা থেকে যান এখানেই। দিন বদলাতে থাকে। চীন উন্নত হয় আগের থেকে অনেক বেশি। কিন্তু স্থান বদল করেননি এই এলাকার বাসিন্দারা। শহর থেকে অনেক দূরে এভাবেই থেকে যান সকলে।

এখন গোটা চীন দেশে এই এলাকাটিই একমাত্র দরিদ্র এলাকা বলে পরিচিত। বিশ্বের থেকে বাইরে থাকার মত থাকেন এই এলাকার বাসিন্দারা। একটা পাহাড় পেরিয়ে খাড়া উপত্যকার পথ অতিক্রম করে তবেই রাস্তার দেখা মেলে। যে রাস্তা নিয়ে যায় শহরের দিকে।

বিগত কুড়ি বছর ধরে এই ভাবেই জীবন কাটাচ্ছেন এখানকার দরিদ্র বাসিন্দারা। এখানে পর্যটকদের ভিড়ও সেভাবে হয়না। আগে যাও বা পর্যটকরা বেড়াতে আসত সে সংখ্যা দিন দিন তলানিতে ঠেকছে।

চীনের সংবাদ মাধ্যমগুলি প্রচার করে এই গুহাটিই চীনের সর্বশেষ ক্রান্তীয় বাসিন্দাদের গুহা হিসেবে চিহ্নিত হয়ে রয়ে গিয়েছে। সেসব শুনে এখন আবার পর্যটকরা আসছেন শেষ হতে বসা সেই ইতিহাসকে একটু ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখতে।

একটি কটেজ ইন্ডাস্ট্রি তৈরি হয়েছে। গুহার বাসিন্দারা কিছু টাকা আয় করতে পারেন এর ফলে। তাঁদের বাড়ির কয়েকটা ঘর ভাড়া দিয়ে। ঝং গুহায় মানুষ এভাবেই আয় করেন গ্রামের মানুষেরা। চুনা পাথরের এই গুহা এতটাই বড় যে তার মধ্যে চারটি আমেরিকার ফুটবল মাঠ এঁটে যাবে।

হ্যাঙারের মত দেখতে এই গুহা। গুহার তলায় বাসিন্দাদের বাঁশের তৈরি ঘর গুলি গুহার দেওয়াল ঘেঁষে তৈরি। যা ওপর থেকে দেখলে খুবই ক্ষুদে মনে হয়। এভাবেই বছরের পর বছর রয়েছে ভূগর্ভস্থ গ্রাম গুলি। টিকিয়ে রেখেছে তাদের অস্তিত্ব। লড়াই চলছে।

সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস


মন্তব্য