kalerkantho


ভারতে ভোট-সন্ত্রাসের ক্ষতিপূরণ মাংস-ভাত, কাপড়ে!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৬ মে, ২০১৮ ১৮:৫৯



ভারতে ভোট-সন্ত্রাসের ক্ষতিপূরণ মাংস-ভাত, কাপড়ে!

টানা দু’'দিন ধরে না খেয়ে মাঠে-ঘাটে, ঝোপে-ঝাড়েই কেটেছে। বুধবার পুনর্নির্বাচনের দিনও আতঙ্কে অছেন ভারতের তমলুকের শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকের তরঙ্গখালি গ্রামের তফশিলি পাড়ার বাসিন্দারা।

বুধবার ভোটের দিন ওই এলাকায় শাসকদলের পক্ষ থেকে মাংস-ভাতের ব্যবস্থা করা হয়। পাশাপাশি নারীদের দেওয়া হয় শাড়ি। অথচ অভিযোগ উঠেছে, শাসক দলের ভয়েই গ্রামবাসীরা পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন।

চোখের পানি মুছতে মুছতে বাসিন্দারা জানান, গত সোমবার ভোটের দিন সকাল থেকে মোটামুটি শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ চলছিল। বিকেল চারটা নাগাদ বাইক বাহিনী এসে বোমাবাজি করতে শুরু করে আর সিপিএম প্রার্থী কল্যাণী দাসকে মারধর করে। ভোটাররা ভয়ে ছত্রভঙ্গ হয়ে ছুটতে শুরু করেন।

রঞ্জিতা মল্লিক বলেন, চারটা সাড়ে চারটার সময় বাইক বাহিনী হুড়হুড় করে চলে অাসে। আমাদের প্রার্থীকে যখন তুলে ধরেছে, আমরা তো বুঝতে পারছি, ফেলে দিলেই মরে যাবে। আমি পিছনে দাঁড়িয়ে যাই। তার পরেই বোমা পড়তে লাগল! পেটাতে লাগল।

তরঙ্গখালির ওই তফশিলি পাড়াটা সিপিএম অধ্যুষিত বলেই সবাই জানে। প্রায় দু'শ ভোটার রয়েছে সেখানে।

বিজয় মল্লিক, রঘু দাস, সন্ধ্যা দাসরা বলেন, তিনদিন আমরা খাইনি। এরকম যদি ভয় দেখায়, রান্নাবান্না করবো কীভাবে? মাঠে-ঘাটে তো রাত কাটাচ্ছিলাম। এখন খাওয়াচ্ছে। কিন্তু সে খাবার কী আর মুখে ওঠে?

তবে তৃণমূলের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এটা সম্পূর্ণ মানবিকতার খাতিরেই করা হয়েছে। দলের স্থানীয় নেতা দিবাকর বলেন, দুষ্কৃতিকারীদের সন্ত্রাসের ভয়ে এলাকার মানুষেরা দু'দিন কিছু খেতে পারেননি। মানবিকতার খাতিরেই দু'টো খেতে দিলাম আমরা। তারা যাতে নির্ভয়ে ভোট দিতে পারেন, তা আমরা দেখছি।

অবশ্য বুধবারও তরঙ্গখালি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৩১ নং বুথে ভোটার দেখা যায়নি। সংবাদমাধ্যমকে ছবি না তোলার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

তবে ভোট-সন্ত্রাসের ‘ক্ষতিপূরণ’ হিসেবে পেট পুরে মাংস-ভাত আর পরার শাড়িতেই আপাতত শান্তি খুঁজছে তরঙ্গখালির বাসিন্দারা।


মন্তব্য