kalerkantho


পাঁচ বছরে তিন গুণ বেশি গলেছে অ্যান্টার্কটিকার বরফ!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৫ জুন, ২০১৮ ১৭:৩৮



পাঁচ বছরে তিন গুণ বেশি গলেছে অ্যান্টার্কটিকার বরফ!

উষ্ণতা বাড়ছে পৃথিবীর। এর ফলে ১৯৯২ সাল থেকে ২৫ বছরে অ্যান্টার্কটিকার সব মিলিয়ে প্রায় দুই দশমিক সাত ট্রিলিয়ন টন বরফ গলেছে। এই সময়ের মধ্যে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়েছে ৭ দশমিক ৫ মিলিমিটারেরও (০.২৯ ইঞ্চি) বেশি।

এই বিপর্যয় নেমে আসতে পারে ভারত-বাংলাদেশের ওপরেও। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এভাবে অ্যান্টার্কটিকার বরফ গলার সব চেয়ে খারাপ প্রভাব পড়তে চলেছে বরফাবৃত এই মহাদেশের সবচেয়ে কাছের মহাসাগর–ভারত মহাসাগরে। ভারত মহাসাগরের জলস্তর ২১০০ সালের মধ্যে প্রায় দুই মিটার বেড়ে যেতে পারে। তার অর্থ ভারতীয় উপমহাদেশ আরও সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে দুই ‌মিটার ডুবে যাবে।

বিজ্ঞান ম্যাগাজিন নেচারে ৮৪ জন গবেষকদের প্রকাশিত রিপোর্টে বলছে, ২০১২ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত, গত পাঁচ বছরে তিন গুণ বেশি গলেছে অ্যান্টার্কটিকার বরফের স্তর। এই পাঁচ বছরে প্রতি বছর ২৪১ বিলিয়ন টন বরফ গলেছে অ্যান্টার্কটিকার বরফের স্তরের। আর এর ফলে সারা বিশ্বের সমুদ্রে বাড়ছে জলস্তর।

‘প্রতিবছর এর চত্বরের প্রায় পাঁচ মিটার পরিমাণ বরফ গলে যাচ্ছে। এ কারণেই সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যাওয়া বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে, এমনই জানান আইস শিট ম্যাস ব্যালেন্স ইন্টার-কম্পারিজন এক্সারসাইজ বা আইএমবিআইই প্রধান অধ্যাপক অ্যান্ড্রু শেফার্ড।

শেফার্ড বলছেন, অ্যান্টার্কটিকা সমুদ্রের জলস্তর প্রায় আধা ফুট বা ১৬ সেন্টিমিটার বাড়িয়ে দিতে সক্ষম। এবং তা হতে চলেছে এই শতকের শেষের দিকেই। আবহাওয়া পরিবর্তনের ফলেই এই পরিস্থিতি উৎপন্ন হয়েছে বলে ক্ষোভপ্রকাশ করেছেন তিনি।

নাসার প্রাক্তন মুখ্য বিজ্ঞানী তথা কলোরাডো বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী ওয়ালিদ আবদালাতি বলছেন, ক্রমে আবহাওয়া আরও উষ্ণ হবে। এই পরিস্থিতি তার ফলে আরও মারাত্মক হয়ে উঠবে। পরিস্থিতি সামলাতে মানুষকে এখনই তৎপর হতে হবে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।

বিভিন্ন উপগ্রহের পাঠানো তথ্যে দেখা যাচ্ছে, বছরে ২০০ বিলিয়ন টনের কাছাকাছি হারে বরফ গলছে! এর ফলে প্রতিবছর সমুদ্রের উচ্চতা এখন শূন্য দশমিক ৬ মিলিমিটার (০.২৩ ইঞ্চি) হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে! সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও বরফ গলার হারকে বিবেচনায় রাখছে নাসা।

নাসার পাঠানো বিভিন্ন স্যাটেলাইট মারফত ছবি থেকেই এই বিষয়টি সামনে এসেছে। ফলে বিভিন্ন দেশের সরকার যেন এই ইস্যুতে একযোগে কাজ করে, এমনই আশা প্রকাশ করা হয়েছে নেচার পত্রিকায়।



মন্তব্য