kalerkantho


মরার আবার জাত কি!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৯ জুন, ২০১৮ ১৫:২৪



মরার আবার জাত কি!

ছবি: টাইমস অব ইন্ডিয়া

মরার আবার জাত কি? অমর কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কালজয়ী সৃষ্টি শ্রীকান্তের এই সংলাপ তো অনেকের কাছে প্রবাদতুল্য। ভারতের কর্নাটকের মেঙ্গালুরু শহরে সম্প্রতি এমনি পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছিল যেখানে শরৎবাবুর লেখা ওই সংলাপই যেন বেরিয়ে আসে সংখ্যালঘু মুসলিম যুবক ফারুকের মুখ দিয়ে।

জনসত্তা.কম জানায়, মেঙ্গলুরুর বিদ্যাপুরার পিটুটুর এলাকার বাসিন্দা ছিলেন নিংসঙ্গ নারী ভবানী। সম্প্রতি ৫২ বছর বয়সে হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু হয় তার। তিনি অবিবাহিত ছিলেন। শুধু কৃষ্ণা নামে এক ভাইয়ের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল তার। ভাইটি আত্মীয় স্বজনদের ঘটনা জানায়। কিন্তু কোনো অজ্ঞাত কারণে ভবানীর শব দেখতে বা সৎকারে কেউ এগিয়ে আসেনি। 

দিন গড়িয়ে দুপুর হয়। তার যুবক ভাই কৃষ্ণা অসহায়ত্ব আর হতাশায় ভেঙ্গে পড়তে থাকেন। ফের আত্মীয়-স্বজনদের খবর দেন। কিন্তু এবার কারো সাড়া নেই। একপর্যায়ে কৃষ্ণা কাঁদতে শুরু করেন ক্ষোভ আর কষ্টে। কারণ, বোনের মৃতদেহ সৎকারে তার কাছে টাকা-পয়সা তেমন নেই, নেই লোকবলও। তিনি প্রায় একা। 

এদিকে, ঘটনা জানতে পেরে স্থানীয় মুসলিম যুবক ফারুক, শওকত, হামজা, নাজির ও রিয়াজ ছুটে আসে কৃষ্ণার সাহায্যে। তারা চাঁদা তুলে লাশ সৎকারে উদ্যোগ নেয়। তাদের সাহায্যে এগিয়ে আসেন স্থানীয় আঙ্গনবাড়ির শিক্ষিক রাজেশ্বরী, সাফিয়া ও জুবেদা। এই তিন নারী ভবানীর মরদেহ গোসল দিয়ে সৎকারের জন্য প্রস্তুত করে। 

এ প্রসঙ্গে ফারুক গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা কোনো পাবলিসিটির জন্য একাজ করিনি। যখন জানতে পারি যে এক ভাই তার বোনের মরদেহের সৎকার করা নিয়ে পেরেশানিতে আছেন, কারণ, তার কাছে না আছে টাকা-পয়সা না আছে লোকজন- তখন আমরা তাকে সাহায্যের সিদ্ধান্ত নেই। 

তিনি আরো বলেন, মৃত ব্যক্তির জাত বা ধর্ম থাকে না! 



মন্তব্য