kalerkantho


‘দেশীয় শিল্পবান্ধব নীতিমালা জরুরি’

১৩ আগস্ট, ২০১৭ ০০:০০



‘দেশীয় শিল্পবান্ধব নীতিমালা জরুরি’

স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত মোটরসাইকেলের বাজার বাড়ছে। প্রায় ২৫ শতাংশ বাজার দখল করেছে দেশীয় ব্র্যান্ডগুলো।

রপ্তানিবাজারেও প্রবেশ করতে শুরু করেছে দেশে উৎপাদিত মোটরসাইকেল। তবে মোটরসাইকেল শিল্পের বিকাশে দেশি শিল্পবান্ধব নীতিমালা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন রানার অটোমোবাইলসের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান খান। সম্প্রতি মাসুদ রুমীকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি দেশি মোটরসাইকেল শিল্পের নানা চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেন

 

২০০০ সালে মোটরসাইকেল আমদানি করে দেশে বাজারজাত শুরু করে রানার। এরপর ২০০৭ সাল থেকে ময়মনসিংহের ভালুকায় দেশে প্রথম মোটরসাইকেল যন্ত্রাংশ তৈরির মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে মোটরসাইকেল উৎপাদন শুরু করে। আর ২০১২ সালে পূর্ণাঙ্গ মোটরসাইকেল কারখানা হিসেবে পুরোদমে উৎপাদন শুরু করে রানার। ইতিমধ্যে ভালুকায় স্থাপিত কারখানায় মোটরসাইকেলের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ যথা—চেসিস, রিয়ার ফোরক, ফুয়েল ট্যাংক, মেইন স্ট্যান্ড, সাইড স্ট্যান্ড, ফুট পিগ ইত্যাদি তৈরি এবং ইঞ্জিন সংযোজন করা হচ্ছে। এসব যন্ত্রাংশ রং করার জন্য অত্যাধুনিক পেইন্ট শপ স্থাপন করা হয়েছে। রানার অটোমোবাইলস লিমিটেডের পণ্যবহরে ৫০ সিসি থেকে ১৫০ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেলের বেশ কয়েকটি মডেল রয়েছে।

দেশের মোটরসাইকেল শিল্পের পুরোধা ব্যক্তিত্ব হাফিজুর রহমান খান বলেন, একসময় মোটরসাইকেলের পুরোটাই আমদানি করতে হতো।

এতে বড় অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা দেশের বাইরে চলে যেত। কিন্তু অনেক প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও দেশীয় মোটরসাইকেলের বাজার বাড়ছে, এটা আনন্দের খবর। ৮০ সিসির মোটরসাইকেলের বাজারে বর্তমানে আমরা মার্কেট লিডার। এ ছাড়া অন্যান্য মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রেও আমরা এগোচ্ছি। উচ্চমূল্যের মোটরসাইকেলের বাজারেও রানারের অবস্থান দৃঢ় করতে আমরা হাত মিলিয়েছি যুক্তরাষ্ট্রের নামকরা ব্র্যান্ড ইউএমের সঙ্গে। আমরা ইউএম-রানার ব্র্যান্ডের উচ্চমানের মোটরসাইকেল ভালুকায় আমাদের নিজস্ব কারখানায় উৎপাদনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। এই মোটরসাইকেল দেশের বাজারের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে রপ্তানিও হবে। খুব শিগগিরই রানার-ইউএম মোটরসাইকেল বাজারে পাওয়া যাবে বলে জানালেন রানার অটোমোবাইলসের চেয়ারম্যান।

দেশে মোটরসাইকেলের বার্ষিক চাহিদা দুই লাখ ২০ হাজার থেকে প্রায় তিন লাখের কাছাকাছি। রানার, নিউ গ্রামীণ, এইচপিএম ও রোড মাস্টার, যমুনা, হিরো স্থানীয়ভাবে উৎপাদন করেছে। এ ছাড়া চলতি বাজেটে শুল্ক সুবিধার কারণে বাজাজ, র্যাংগস, টিভিএস, হোন্ডা দেশে কারখানা স্থাপনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। তবে এই বাজার আরো সম্প্রসারণের সুযোগ আছে বলে মনে করেন রানার অটোমোবাইলসের চেয়ারম্যান। তাঁর মতে, দেশে সড়ক অবকাঠামো, মাথাপিছু আয় যেভাবে বাড়ছে, তাতে মোটরসাইকেলের বাজারে আরো প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা আছে। এ জন্য স্থানীয় শিল্প তথা ভেন্ডরদের বিকাশে যা যা করা দরকার, সরকারকে তা-ই করতে হবে।

চীন ও ভারতের মোটরসাইকেল শিল্প দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে আজকের অবস্থানে পৌঁছেছে উল্লেখ করে হাফিজুর রহমান খান বলেন, সরকারি নীতির সহায়তায় তাদের বাজার সুদৃঢ় হয়েছে। দেশে স্থানীয় উৎপাদন ও আমদানি সমানতালে চলতে পারে না। এতে রানারের মতো আরো যারা শত শত কোটি টাকা বিনিয়োগ করে কারখানা করে দেশকে মোটরসাইকেল শিল্পে স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে, তারা ক্ষতির সম্মুখীন হবে। সরকারকেই যথাযথ নীতিমালার মাধ্যমে বিদেশি ব্র্যান্ডগুলোকেও স্থানীয়ভাবে মোটরসাইকেল উৎপাদন ও ভেন্ডর ডেভেলপমেন্টে বাধ্য করতে হবে। এই শিল্পোদোক্তা বলেন, দেশে যন্ত্রাংশ শিল্প গড়ে উঠতে হবে এবং সে জন্য যেসব যন্ত্রাংশ প্রস্তুত হয়, সেগুলো আমদানি বন্ধ করতে হবে। আমরা কতকাল আর আমদানির ওপর নির্ভরশীল থাকব? আমাদের এখন উৎপাদনেও সাফল্য দেখাতে হবে। গত ২১ জানুয়ারি দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নেপালে মোটরসাইকেল রপ্তানির মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ করেছে রানার অটোমোবাইলস লিমিটেড। এ প্রসঙ্গে রানার গ্রুপের চেয়ারম্যান বলেন, আমরা নেপালের বাজারে ভালো সাড়া পেয়েছি। নেপালের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আমরা এশিয়ার অন্যান্য দেশেও পর্যায়ক্রমে যেতে চাই। তিনি বলেন, আমাদের কারখানায় দৈনিক উৎপাদনক্ষমতা পাঁচ শ মোটরসাইকেল এবং ২০১৮ সালের মধ্যে উৎপাদনক্ষমতা এক হাজারে উন্নীতকরণের কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া চলতি বছরেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিসম্পন্ন উচ্চক্ষমতার বিখ্যাত ইউএম-রানার ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল বাজারে সরবরাহ শুরু হবে। সরকারের কাছ থেকে সুষ্ঠু নীতি-সহায়তা পেলে বিশ্ববাজারে রানার ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল আধিপত্য স্থাপনে সক্ষম হবে।


মন্তব্য