kalerkantho


প্রমীলা ও আমাদের তেওতা

আনিসুর বুলবুল   

১০ মে, ২০১৭ ২০:০৪



প্রমীলা ও আমাদের তেওতা

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে আমাদের মানিকগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী তেওতা গ্রামের এক নিবিড় সম্পর্ক ছিলো। তেওতা গ্রামকে তিনি ভালোবেসেছিলেন।

তেওতা গ্রাম নিয়ে লিখেছেন এক অনবদ্য কবিতা।  

মাগো! আমি যুদ্ধে যাবোই নিষেধ কি মা আর মানি
রাত্রিতে রোজ ঘুমের মাঝে ডাকে পোলান্ড-জার্মানি,

ভয় করি না পোলিশদেরে জার্মানির ঐ ভাঁওতাকে
কাঁপিয়ে দিতে পারি আমার মামা বাড়ি ‘তেওতা’কে।

'ছোট হিটলার' নামক এই কবিতাকে কবির দু'পুত্র সানি ও নিনির মুখ দিয়ে বলানো হয়েছে। তেওতা গ্রাম ছিলো নজরুলের সন্তানদের মামা বাড়ি। আর নজরুলের শ্বশুরবাড়ি।

হ্যা! কাজী নজরুলের স্ত্রী প্রমীলা নজরুল ইসলামের জন্মস্থান এই তেওতা গ্রাম। তিনি জন্মগ্রহণ করেন ১৯০৮ সালের ১০ মে।  

তেওতার মেয়ে আশালতা বা দুলীর সাথে নজরুলের বিয়ে হয় ১৯২৪ সালের ২৫ এপ্রিল কলিকাতায়। প্রমীলা নামটি নজরুলের দেওয়া।

তার পরিবার প্রদত্ত নাম আশালতা সেনগুপ্তা ওরফে দোলোনা সংক্ষেপে দুলী। পরবর্তীকালে আশালতা সেনগুপ্তা প্রমীলা নজরুল, প্রমীলা দেবী, প্রমীলা সেনগুপ্ত ইত্যাদি নামে পরিচিতি লাভ করেন।  

প্রমীলার পিতার নাম বসন্ত কুমার সেনগুপ্ত। মায়ের নাম গিরিবালা সেনগুপ্তা ওরফে গিরিবালা দেবী। মা ও বাবা একই গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বসন্ত কুমার সেনগুপ্তের আরও দু’ভাই ছিলেন। তিনি ছিলেন মধ্যম। জগত কুমার সেনগুপ্ত ছিলেন তাঁর জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা এবং ইন্দ্র কুমার সেনগুপ্ত ছিলেন তাঁর কনিষ্ঠ ভ্রাতা।  

ইন্দ্র কুমার সেন তাঁর স্ত্রী বিরজাসুন্দরী দেবীকে নিয়ে বসবাস করতেন কুমিল্লার কান্দিরপাড়ে। বসন্ত কুমার সেনের মৃত্যুর পর গিরিবালা দেবী তাঁর মেয়ে দুলিকে নিয়ে দেবর ইন্দ্রকুমার সেনের আশ্রয় গ্রহণ করেন।  

এই সময় নজরুল কুমিল্লায় বেড়াতে এসে ইন্দ্রকুমার সেনের বাসায় আতিথেয়তা গ্রহণ করেন। ইন্দ্রকুমার সেনের স্ত্রী বিয়জাসুন্দরী দেবীর মাতৃস্নেহে নজরুল অভিভূত হন। আর তাঁর বড় ভাইয়ের মেয়ে আশালতা সেন দুলির গান শুনে বিমুগ্ধ হন কবি নজরুল। এমনিভাবে কুমিল্লায় কান্দিরপাড়ে বসবাসরত মানিকগঞ্জের তেওতা গ্রামের সেন পরিবারের সঙ্গে কবি নজরুলের গড়ে ওঠে অন্তরঙ্গ সম্পর্ক।

কবি নজরুল তাঁর দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘দোলন চাঁপা’ প্রমীলার নামে উৎসর্গ করেন। ১৩৩০ সালের আশ্বিন মাসে ‘দোলনচাঁপা’ প্রথম প্রকাশিত হয়।  

প্রমীলার মৃত্যু হয় ৩০ জুন, ১৯৬২ সালে। নজরুল-প্রমীলার দু'ছেলে সব্যসাচী ও অনিরুদ্ধ। সব্যসাচীর দু'কন্যা খিলখিল ও মিষ্টি। প্রমীলা আমৃত্যু নজরুলের সেবা করে গেছেন।

কবি ভালোবেসে ছিলেন তার প্রেয়সী প্রমীলাকে। তেমনি ভালোবেসেছিলেন প্রমীলার জন্মভূমি ছায়া ঢাকা পাখি ডাকা তেওতা গ্রামকে।  

আজ ১০ মে প্রমীলার ১০৯তম জন্মবার্ষিকীতে জানাই গভীর শ্রদ্ধা।

লেখক : শিফট ইনচার্জ, কালের কণ্ঠ অনলাইন

 


মন্তব্য