kalerkantho


রিয়াদের একটি মহল্লার চেয়েও ছোট কাতারকে ২১ বছর সহ্য করেছি : সৌদি রাষ্ট্রদূত

তামীম রায়হান   

১৯ জুলাই, ২০১৭ ১৯:৪০



রিয়াদের একটি মহল্লার চেয়েও ছোট কাতারকে ২১ বছর সহ্য করেছি : সৌদি রাষ্ট্রদূত

কাতারের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের নেতৃত্বে আরব আমিরাত ও বাহরাইন এবং মিসরের অবরোধে মর্মাহত হলেও অবাক হওয়ার কিছু নেই। কারণ, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ ও অবরোধের এমন অন্যায় কর্মকান্ড সৌদিআরবের ইতিহাসে নতুন নয়। ১৯১৮ সাল এবং ১৯২০ সালে দু বার কুয়েতের বিরুদ্ধে এমন অবরোধ আরোপ করেছিলেন সৌদিআরবের প্রতিষ্ঠাতা বাদশাহ আব্দুল আজিজ। এর দীর্ঘকাল পর ২০০৯ সালে আরব আমিরাতের সঙ্গে স্থলসীমান্ত বন্ধ করে দেয় সৌদিআরব। এ সময় আমিরাতের নাগরিকদের সৌদিআরবে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়। ফলে সৌদিআরবের শাসকগোষ্ঠী আলেসউদের ইতিহাসে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে অযৌক্তিক দ্বন্দ্ব এবং বিবাদের ঘটনা এবারই প্রথম নয়।  

তবে এবার একা নয়, বরং আশেপাশের তিন দেশ নিয়ে প্রায় দেড় মাস অবরোধ দিয়েও ছোট্ট একটি দেশ কাতারকে কাবু করতে না পারার ব্যর্থতা সৌদিআরবকে অস্বস্তিকর অবস্থায় ফেলেছে। কাতার নিয়ে সৌদিআরবের হিংসার প্রমাণ মেলে জর্ডানে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত আমির খালেদ বিন ফয়সলের মন্তব্যে।  

তিনি বলেছেন, ‘রিয়াদের এক মহল্লার চেয়েও আয়তনে ছোট কাতারকে আমরা ২১ বছর ধরে সহ্য করেছি। ’ 

কাতারের বিরুদ্ধে গত প্রায় দেড় মাসে অব্যাহতভাবে বকে যাচ্ছে সৌদিআরব ও অন্য তিনটি দেশের অসংখ্য মিডিয়া। গরম গরম বক্তৃতা করছেন এসব দেশের বিশ্লেষক, সাংবাদিক, কূটনীতিক ও আলেমরা।

 

কিন্তু গত ৫ জুন অবরোধ শুরু হওয়ার পর কাতারের আমির মাত্র দুটি বিবৃতি দিয়েছেন। একটি সৌদি আরবের নতুন যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমানকে অভিনন্দন জানিয়ে, আরেকটি সৌদি বাদশাহ সালমানের আপন ভাইয়ের মৃত্যুতে সমবেদনা জানিয়ে। এ দুটি বার্তা ছাড়া তিনি অবরোধকারী দেশগুলো প্রসঙ্গে আর কিছু বলেননি। এতে আবারও প্রমাণিত হয়, কাতার কথায় নয়, কাজে বিশ্বাসী।

লেখক: গণমাধ্যম গবেষক, মানবাধিকার বিভাগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, কাতার


মন্তব্য