kalerkantho


গৃহকর্মী নির্যাতন রুখতে আইনের প্রয়োগ জরুরী

আবুল বাশার মিরাজ, বাকৃবি প্রতিনিধি   

২৫ জুলাই, ২০১৭ ১১:১৬



গৃহকর্মী নির্যাতন রুখতে আইনের প্রয়োগ জরুরী

গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতিমালা অনুযায়ী ১৮ বৎসরের কম বয়সী এবং হালকা কাজের জন্য ১২ বৎসর বয়সী শিশুদের (শিক্ষাগ্রহণকে বিঘ্নিত না করে) চুক্তি সাপেক্ষে গৃহকর্মে নিয়োগ দেওয়া যায়। কিন্তু এই নীতিমালা কেবল কাগজে-কলমেই আছে, বাস্তবে তার যথাযথ প্রয়োগ নেই। গৃহকর্মীদের জান মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে শুধু নীতিমালা করলেই চলবে না, ২০১১ সালের হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট আইন প্রণয়ন করতে হবে।

জানা গেছে, আমাদের দেশে ২০ লক্ষাধিক গৃহকর্মী রয়েছে। কিন্তু তাদের অধিকাংশের জীবন আজ অরক্ষিত ও বিপন্ন। এই ব্যাপারে আমাদের সচেতনতারও যথেষ্ঠ অভাব রয়েছে। ফলে বর্তমানে গৃহকর্মীদের শারীরিক-মানসিক নির্যাতন ও হত্যার ঘটনা দিনকে দিন বেড়ে গেছে।  

সম্প্রতি এক  উন্নয়ন অন্বেষণের ‘ডমেস্টিক ওয়ার্কার্স: ডিভ্যালুয়েশন অ্যান্ড ডিসক্রিমিনেশন’ শীর্ষক এক গবেষণায় দেখা যায়, ৫৭ দশমিক ৫ শতাংশ শিশু গৃহকর্মী দৈনিক নয় ঘণ্টার বেশি সময় কাজ করে। ১২ শতাংশ শিশু গৃহকর্মীর কাজের কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমাই নাই। অথচ একজন শিশু গৃহকর্মী মাসে গড়ে এক হাজার ১৮৫ টাকা মজুরি পায়। কেউ কেউ তাও পায় না।

পায় না ঠিকমতো খাবার-দাবার ও পোশাক-আশাক। প্রাপ্তবয়স্ক গৃহকর্মীদের ক্ষেত্রেও একই দৈন্যদশা বিদ্যমান।

গৃহকর্মী নির্যাতন ও তাদের অধিকারকে অবজ্ঞা করা আমাদের দীর্ঘদিনের একটি সামাজিক ব্যাধি। পুঁজিবাদী সমাজে রুপটি অনেকটাই প্রকট। অথচ আধুনিক বিশ্বে তাহাদের সম্পর্কে দৃষ্টি ভঙ্গির অনেক পরিবর্তন সাধিত হইয়াছে।  

উন্নত বিশ্বে তাদের বেতনভুক্ত কর্মচারীর মর্যাদা দেওয়া হয়ে থাকে। কিন্তু বাংলাদেশ এর ব্যতিক্রম। সমাজের এই অসঙ্গতি দূর করিতে হলে এবং একটি গণতান্ত্রিক ও সভ্য দেশে বসবাস করার দাবি করিলে গৃহকর্মীদের সর্ব প্রকার আইনি সুরক্ষা দেওয়া একান্ত প্রয়োজন। এমন আইন প্রণয়ন করা দরকার যাতে আমাদের যেসব গৃহকর্মী বিদেশে কর্মরত আছেন, পরোক্ষভাবে হইলেও এই আইন যেন তাদের জন্য সুরক্ষা কবচ হিসেবে কাজ করে। এই আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়াকে এখন জোরদার করাই সবচাইতে জরুরি।


মন্তব্য