kalerkantho


নারীগণ জান্নাতে কী পাবেন?

মাহফুয আহমদ   

১৭ আগস্ট, ২০১৭ ১৫:৫৫



নারীগণ জান্নাতে কী পাবেন?

প্রতীকী ছবি

ইমানদার নারীগণ জান্নাতে যাবেন। জান্নাতে তারা কী পাবেন? এমন প্রশ্ন আমাদের কোনো কোনো বোন করে থাকেন। প্রথম কথা হলো, যে নারী আল্লাহ ও তাঁর কিতাবের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছেন, তাকে এ কথা মনে রাখতে হবে যে, আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে বলে দিয়েছেন, 'আপনার পালনকর্তা কারও প্রতি জুলুম করবেন না। ' (সূরা আল কাহফ : ৪৯) 'নিশ্চয়ই আল্লাহ কারো প্রাপ্য হক বিন্দু-বিসর্গও রাখেন না; আর যদি তা সৎকর্ম হয়, তবে তাকে দ্বিগুণ করে দেন এবং নিজের পক্ষ থেকে বিপুল সওয়াব দান করেন। ' (সূরা আন নিসা : ৪০)।

আল্লাহ তায়ালা এই শরিয়ত নাজিল করেছেন নারী-পুরুষ সকলের জন্য। কোরআন ও হাদিসে যেসব ক্ষেত্রে পুরুষকে সম্বোধন করেছেন, নারীও সেসব ক্ষেত্রে সমানভাবে সম্বোধিত। তবে যদি কোনো প্রমাণ থাকে যে, বিধানটি শুধু পুরুষ কিংবা নারী একজনের জন্য, যেমন জিহাদ, হায়জ, মাহরাম প্রভৃতি হুকুম। শরিয়তের বিধানাবলী যদিও আরবি ব্যাকরণ অনুযায়ী পুংলিঙ্গ শব্দে বিধৃত হয়েছে, তবু নারীগণও এর মধ্যে শামিল- এর প্রকৃষ্ট প্রমাণ হলো হজরত আয়শা (রা.) থেকে বর্ণিত এই হাদিসটি। আয়শা বলেন, 'রসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, জনৈক ব্যক্তি ঘুম থেকে উঠে কাপড় ভিজা দেখে কিন্তু তার স্বপ্নদোষ হবার কথা স্মরণ নেই। তখন সে কী করবে? রসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তখন সে গোসল করবে।

অন্য ব্যক্তি সম্পর্কেও জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, যে ব্যক্তি স্বপ্নে দেখেছে তার বীর্যপাত হয়েছে, কিন্তু ঘুম থেকে উঠে দেখে তার কাপড় ভিজা নেই- সে কি করবে? উত্তরে নবীজি বলেন, তার ওপর গোসল ফরজ নয় অর্থাৎ তাকে গোসল করতে হবে না। মা উম্মে সালমা রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কে প্রশ্ন করেন, হে আল্লাহর রসুল! কোনো স্ত্রীলোকেরও যদি স্বপ্নদোষ হয় তাহলে সে কী করবে? তদুত্তরে নবীজি বলেন : হ্যাঁ, নারীগণ তো পুরুষদের সহোদর। ' (সুনানে তিরমিজি : ১১৩)

পরকালে নারীগণের প্রতিদান এবং জান্নাতে তাদের কী প্রাপ্য এসব বিষয়ে নিম্নোদ্ধৃত আয়াত ও হাদিসগুলো পড়া যেতে পারে।

হজরত উম্মে সালামা (রা.) বলেন, হে আল্লাহর রসুল! হিজরতের ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা নারীদের আলোচনা করতে আমি শুনলাম না! এর পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ তায়ালা সূরা আলে ইমরানের ১৯৫ নম্বর আয়াত নাজিল করলেন, 'অতঃপর তাদের পালনকর্তা তাদের দোয়া (এই বলে) কবুল করে নিলেন যে, আমি তোমাদের কোনো পরিশ্রমকারীর পরিশ্রমই বিনষ্ট করি না, তা সে পুরুষ হোক কিংবা স্ত্রীলোক। তোমরা পরস্পর এক। তারপর সে সমস্ত লোক যারা হিজরত করেছে, তাদেরকে নিজেদের দেশ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে এবং তাদের প্রতি উৎপীড়ন করা হয়েছে আমার পথে এবং যারা লড়াই করেছে ও মৃত্যুবরণ করেছে, অবশ্যই আমি তাদের ওপর থেকে অকল্যাণকে অপসারিত করব এবং তাদেরকে প্রবিষ্ট করব জান্নাতে; যার তলদেশে নহরসমূহ প্রবাহিত। এই হলো বিনিময় আল্লাহর পক্ষ থেকে। আর আল্লাহর নিকট রয়েছে উত্তম বিনিময়। ' (সুনানে তিরমিজি : ৩০২৩)

আল্লাহ তায়ালা বলেন, 'যে সৎকর্ম সম্পাদন করে এবং সে ইমানদার, পুরুষ হোক কিংবা নারী আমি তাকে পবিত্র জীবন দান করব এবং প্রতিদানে তাদেরকে তাদের উত্তম কাজের কারণে প্রাপ্য পুরস্কার দেব যা তারা করত। ' (সূরা আন নাহল: ৯৭)

আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন, 'যে মন্দ কর্ম করে, সে কেবল তার অনুরূপ প্রতিফল পাবে, আর যে, পুরুষ অথবা নারী মোমিন অবস্থায় সৎকর্ম করে তারাই জান্নাতে প্রবেশ করবে। তথায় তাদেরকে বে-হিসাব রিজিক দেওয়া হবে। ' (সূরা আল মোমিন: ৪০)

উম্মে উমারাহ আল আনসারিয়া (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট এসে বললেন, আমি দেখি সর্ববিষয়ে পুরুষদের কথা উল্লেখ করা হয়, নারীদের কথা কোনো ক্ষেত্রে উল্লেখ করা হয় না? তখন এই আয়াত নাজিল হলো, নিশ্চয় মুসলমান পুরুষ, মুসলমান নারী, ইমানদার পুরুষ, ইমানদার নারী... (সুনানে তিরমিজি: ৩২১১)

হজরত উম্মে সালামা (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি রসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কে জিজ্ঞেস করলাম, কোরআনে পুরুষদের মতো আমাদের কথাও কেন আলোচিত হয় না? উম্মে সালামা বলেন, একদিন যেতে না যেতেই মিম্বরে নবীজির ঘোষণা শুনতে পেলাম, 'হে লোকসকল!' আমি তখন চুল পরিপাটি করছিলাম, আওয়াজ শুনে আমি মাথার চুলগুলো বেঁধে নিলাম, দরজার কাছাকাছি গিয়ে দাঁড়ালাম এবং খুঁটির নিকট কান রেখে শুনতে লাগলাম। নবীজি বললেন, আল্লাহ তায়ালা কোরআনের সুরা আল আহজাবের ৩৫ নম্বর আয়াত নাজিল করেছেন, 'নিশ্চয় মুসলমান পুরুষ, মুসলমান নারী, ইমানদার পুরুষ, ইমানদার নারী, অনুগত পুরুষ, অনুগত নারী, সত্যবাদী পুরুষ, সত্যবাদী নারী, ধৈর্যশীল পুরুষ, ধৈর্যশীল নারী, বিনীত পুরুষ, বিনীত নারী, দানশীল পুরুষ, দানশীল নারী, রোজা পালনকারী পুরুষ, রোজা পালনকারী নারী, যৌনাঙ্গ হেফাজতকারী পুরুষ, যৌনাঙ্গ হেফাজতকারী নারী, আল্লাহর অধিক জিকিরকারী পুরুষ ও জিকিরকারী নারী- তাদের জন্য আল্লাহ প্রস্তুত রেখেছেন ক্ষমা ও মহাপুরস্কার। ' (মুসনাদে আহমাদ : ২৫৩৬৩)

লেখক : আলোচক, ইকরা টিভি, লন্ডন


মন্তব্য