kalerkantho


টিয়ায় কথা রাখেনি! বিড়ালটিকে পিটিয়ে মারা হয়!

আনিসুর বুলবুল   

১৩ অক্টোবর, ২০১৭ ২১:৪৩



টিয়ায় কথা রাখেনি! বিড়ালটিকে পিটিয়ে মারা হয়!

ছবি ইন্টারনেট থেকে

টিয়ায় কথা রাখেনি! বিড়ালটিকে পিটিয়ে মারা হয়! খরগোশটাকে খাটাশে খায় আর কুকুর? সেটাকে ফেলে আসতে হয় অন্য এলাকায়!

প্রথমে আসি খরগোশের কথায়।

ধবধবে সাদা একটা খরগোশ ছিলো আমার।

খরগোশের জন্য রড দিয়ে চারচালা টাইপের একটি ঘর বানিয়েছিলাম!

প্রতিদিন সকালে খরগোশকে সেই ঘর থেকে বের করে সবুজ মাঠে ছেড়ে দিতাম। খরগোশ লাফিয়ে লাফিয়ে হাটতো। একবার আমার কাছে আসতো আরেকবার কিছু দূরে যেতো!

খরগোশটিকে আমার মা খুব পছন্দ করতো। আমি যেদিন বাড়িতে থাকতাম না। মা-ই তাকে খাওয়াতো।

একবার সপ্তাহখানেকের জন্য বাড়িতে ছিলাম না। বাড়িতে ফিরেই খরগোশের খোঁজ নেই। দেখি সেই ঘরে খরগোশ নাই। বাড়ির সবার মন খারাপ।

গত রাতেই নাকি খাটাশ এসেছিলো বাড়িতে! হাসপাতালে নিয়েও খরগোশটাকে আর বাঁচানো যায়নি।

এবার আসি টিয়ার কথায়।

টিয়াটিকে প্রায় সময়ই বারান্দায় রাখতাম। ছোট্ট একটা খাঁচার মধ্যে বসে থাকতো। বাসায় কেউ আসলেই 'হ্যালো' বলতো সে! মাঝে মধ্যে শিস কেটে অবাক করতো আমাদের!

আমি যখন বারান্দায় বসে থাকতাম অনেক সময় আমার কাঁধেই বসে থাকতো টিয়া। অন্য কোথাও যেতো না। বড়জোর উড়ে তার সেই খাঁচায়ই যেতো।

একদিন টিয়াকে নিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে উঠোনে গেছি। টিয়া আমার কাঁধেই। হঠাৎ টিয়া উড়াল দিলো! সেই যে গেলো আর ফিরে এলো না!

বিড়ালটির কথা আর কি বলবো!

মোটা লেজের বিড়াল ছিলো সেটি। সাদার মধ্যে কালো ডোরাকাটা! বাড়িতে যতক্ষণ থাকতাম সারাদিন পিছু পিছু থাকতো। পায়ের কাছে এসে লেজ নাড়াতো! রাতে আমার কাঁথার মধ্যে এসে ঘুমাতো।

একদিন স্কুল থেকে বাড়িতে এসে শুনি মেজ ভাবি বিড়ালটিকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে! বিড়ালটি নাকি তার পোষা সবগুলো মুরগির বাচ্চা খেয়ে ফেলেছিলো!

আর কুকুরটি?
কুকুরটির নাম দিয়েছিলাম সেন্ট্রি। ছোট্ট একটি বাচ্চা এনে দিয়েছিলো আমাকে নার্গিসাপা। সেন্ট্রিকে ভ্যাকসিন দিয়েছিলাম। খরগোশের যে ঘরটি ছিলো সেটির মধ্যে রাখতাম।

সারাদিন শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হতো। শুধু রাতে গেট আটকিয়ে বাড়ির ভেতর ছেড়ে দিতাম।

কোথাও থেকে বাড়িতে ফেরা মাত্রই সেন্ট্রি চিল্লাপাল্লা করতো। আমাকে জড়িয়ে ধরার অবস্থা করে ফেলতো। কোনো বিকেলে সেন্ট্রির সঙ্গে বলও খেলতাম!

একদিন সকালে ঘুম ভেঙে দেখি বাড়ির সামনে অনেক প্রতিবেশি। তাদের একটাই অভিযোগ, সেন্ট্রি রাতে গিয়ে তাদের মুরগি মেরে আসতো! ছাগল-ভেড়া-গরু কামড়িয়ে আসতো!

প্রথমদিকে আমার বিশ্বাস হতো না। পরে দেখি বিষয়টা সত্যিই! আমাদের উঠোনে কিংবা বাড়িতে দিনের বেলায় কারো মুরগি-ছাগল-ভেড়া-গরু এলে সেই রাতে সেই বাড়িতে গিয়ে সেই মুরগি-ছাগল-ভেড়া-গরুকে কামড়িয়ে আসতো!

প্রতিদিন এলাকায় ঝগড়া হতো! বাড়িতে অশান্তি লেগেই থাকতো!

একদিন রাগের মাথায় হুট করে সিদ্ধান্ত নিই; সেন্ট্রিকে বাড়ি থেকে দূরে কোথাও ফেলে আসার। ভাতিজা বজলুকে দায়িত্ব দেই।

এখন আর কোনো প্রাণীকে পোষ মানাতে ইচ্ছে হয় না; আমার খুব ভয় হয়!

লেখক : বার্তাজীবী


মন্তব্য