kalerkantho


ফেরেনি উৎপল, মায়ের কান্নায় যাচ্ছে জন্মদিন

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৩০ অক্টোবর, ২০১৭ ১৭:৫০



ফেরেনি উৎপল, মায়ের কান্নায় যাচ্ছে জন্মদিন

আজ উৎপলের জন্মদিন। অনেকেরই তো জন্মদিন হয়, উৎপল নামের এক যুবকের জন্মদিন নিয়ে ভাববার কী আছে? কিছুটা হয়তো আছে।

কেন না, উৎপলের জন্মদিনটিতে একুশে টিভির নিচের গলিতে বন্ধু বান্ধবদের সঙ্গে হুল্লোড় করে কেক কাটার কথা ছিল। কিন্তু বন্ধু বান্ধবরা বঞ্চিত। স্বাভাবিকভাবেই তারা অভিমান করেছে। আর তাইতো জন্মদিনের শুভেচ্ছার সঙ্গে অনেক উৎপলের ফেসবুক টাইমলাইনে অনেক অভিমানও জমা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের মিলনায়তনে উৎপলের মায়ের চোখের জল বিসর্জিত হয়েছে, তা কি কিছুটা কমেছে? যে আর্তনাদ করেছেন সবার সামনে তা কি থেমেছে? মোটেও না। বরঞ্চ মায়ের কান্নাই যেন আর আসছে না, চোখ শুকিয়ে গেছে। সন্তানের শোকে তিনি তো শয্যা নিয়েছেন।

‘আমরা আমাদের ভাইকে ফিরে পেতে চাই। আমরা অপেক্ষা আর উৎকণ্ঠায় আছি।

আমার মা অসুস্থ হয়ে এখন শয্যাশায়ী। আমরা আমাদের ভাইকে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিতে চাই। উৎপল তুই কই, ফিরে আয়’— বলেই কান্নায় ভেঙে পড়েন সাংবাদিক উৎপল দাসের বোন বিনীতা রানি দাস।

উৎপলের কর্মপ্রতিষ্ঠান পূর্বপশ্চিমবিডি ডট নিউজের প্রধান সম্পাদক সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, উৎপল একটু খেয়ালি ছিল। না বলে অনুপস্থিত থাকতো বলে একবার তাকে বাদও দিয়েছিলাম। কিন্তু তার ভালোবাসা ও শিশুসুলভ আচরণের কাছে আমরা ফিরে আসি। তাই তাকে আবারও চাকরি দেওয়া হয়। উৎপল কোথায় কেমন আছে, কী ঘটছে তার জীবনে, কেন তার খোঁজ মিলছে না বুঝতে পারছি না।

১০ অক্টোবর সাংবাদিক উৎপল দাসের সঙ্গে তাঁর মায়ের শেষ কথা হয়েছিল। বলেছিলেন, জরুরি একটা ফোন আসছে, পরে ফোন করবেন। এরপর থেকে তাঁর মোবাইল ফোনটি বন্ধ। এরপর উৎপলকে পাওয়া যায়নি। একটি অনলাইন পোর্টালের সাংবাদিক উৎপল খুবই ক্রীড়াপ্রেমি। মাঝে মাঝে সোশ্যাল মিডিয়ায় স্যাটায়ার পোস্টও দিতেন। বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে প্রাণোচ্ছল ছিলেন। অন্তত কাছের পরিচিতরা তাই বলেন।

২৩ অক্টোবর রাতে ও ২৪ অক্টোবর সকালে দু’দফায় চিত্তরঞ্জন দাসের মোবাইল ফোনে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে। দু’বারই কল এসেছে উৎপলের নম্বর থেকেই। কিন্তু তার সঙ্গে বাবা কথা বলার আগ্রহ প্রকাশ করলেই অন্য প্রান্ত থেকে লাইন কেটে দেওয়া হয়। তারপর থেকে আবারও ওই মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে। মুক্তিপণ চাওয়ার বিষয়টি নিজেদের এলাকার পুলিশ কর্মকর্তা এএসপি সোহরাব হোসেন কিরণ ও মতিঝিল থানা পুলিশকে অবহিত করেছেন তিনি।

উৎপলের জন্মদিনে প্রচণ্ডভাবে মিস করছেন বন্ধুরা, সঞ্জয় লেলিন নামের একজন লিখেছেন, 'আজ উৎপল দাদার জন্ম‌দিন। ফেসবুকে চেনা-জানা, বিশেষ দিবস ছাড়া কথা খুব একটা হত না দাদার সঙ্গে। আজ আর কথা হলো না। খুব ভালো লাগতো দাদার পাগলামিগুলো। দাদা, যেখা‌নেই থাকবেন, ভা‌লো থা‌কবেন। আশা করি খুব দ্রুত আমাদের মাঝে আপনাকে ফিরে পাবো। '

দীপক দেব নামের একজন লিখেছেন, উৎপল, তাঁর স্বভাবসুলভ পাগলামি আচরণের কারণে এক পরিচিত ও প্রিয় মুখ। অনেকেই আবার খুবই বিরক্তও হতো। তবে সেটা সাময়িক। সামনে এসে একটা আবদারের হাসি দিয়ে দাঁড়াতেই স্নেহ ভালোবাসা আদায় করে নিত মুহূর্তের মধ্যে। ও যে আমাদের এতো আদরের ছিল এই কয়দিনে তা আমরা সবাই টের পেয়েছি। তাইতো এত কষ্ট পাচ্ছি। শুভ জন্মদিন উৎপল। আমাদের বিশ্বাস তুই শিগগির ফিরে আসবি আমাদের মাঝে, আবারও ফোন দিয়ে বলবি, দাদা; আমি তোমার অফিসের পাশে...'

গত ১০ অক্টোবর দুপুর ১টা পর্যন্ত অফিস করেন উৎপল দাস। এরপর আর তিনি কর্মস্থলে আসেননি। তার মোবাইল ফোন বন্ধ, বন্ধু-বান্ধব ও সহকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ না হওয়ায় ২২ অক্টোবর মতিঝিল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরদিন নরসিংদীর রায়পুরার গ্রামের বাড়ি থেকে ঢাকায় ছুটে এসে চিত্তরঞ্জন দাস আরেকটি জিডি করেন।


মন্তব্য