kalerkantho


নির্লজ্জটা বলে বসলো- আল্লাহর দেওয়া চোখ দিয়েইতো দেখছি!

ক্যাপ্টেন মনোয়ার হোসেন   

১২ নভেম্বর, ২০১৭ ১৬:৪২



নির্লজ্জটা বলে বসলো- আল্লাহর দেওয়া চোখ দিয়েইতো দেখছি!

প্রতীকি চিত্র

১) দিন কয়েক আগের ঘটনা। বিকেলের দিকে গিন্নীকে নিয়ে ধানমন্ডি লেকের পাড়ে হাঁটছি।

তিনকাল পেরনো আমলা-টামলা গোছের একজন (সুটেড দেখে তাই মনে হল) বিপরীত দিক থেকে হেঁটে আসছেন। লোভ আর খড় দৃষ্টিতে সেই দূর থেকেই আমার গিন্নীর সর্বাংগ গিলে খাচ্ছিলেন। আমি যে পাশে আছি তাতে তার কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই! কাছাকাছি আসতে তার পথ রোধ করলাম, জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কি দেখেছেন একজন পুরুষ সঙ্গী এই মহিলার সাথে আছেন? বেশ ভ্যাবাচ্যাকা খেয়েছেন বোঝা গেল, তবে দ্রুতই সব সামলে নিয়ে (বেহায়ারা একাজে বেশ পটু হয়) বললেন, তাতে কী হয়েছে?

- এমন এক্সরে দৃষ্টিতে তাকাচ্ছেন কেন? 

- দেখার জিনিস দেখব না? 

আমার অজ্ঞান হবার পালা, বলে কী এই বৃদ্ধ! প্রচণ্ড রেগে গিয়েছি। বললাম, এক পা তো কবরে চলে গেছে, এখনো স্বভাব বদলাতে পারলেন না? এখন তো আল্লাহ আল্লাহ করার সময়।  

গিন্নী আমার হাত টেনে বলল, এই চলো তো, কী ঝামেলা পাকাও সব সময়!

ওদিকে নির্লজ্জটা বলে বসলো- আল্লাহর দেওয়া চোখ দিয়েইতো দেখছি!

বলে কি শা**! কলার চেপে বললাম, বাসায় বউ-মেয়ে কি বেশি বুড়িয়ে গেছে শা** খাচ্চর, এক থাপ্পর মেরে একগালের দাঁত আরেক গালে পাঠিয়ে দেব।

এক ঝটকায় আমার হাত ছাড়িয়ে এবার চিৎকার দিলেন বান্দর, তুই জানস আমার পরিচয়?

- শা** লম্পট কোথাকার, দুই চোখ খুঁচিয়ে তুলে হাতে ধরিয়ে দেব। ভাগ এখান থেকে!

চিৎকার চেঁচামেচিতে পাশের পুলিশ ক্যাম্পের দুজন পুলিশ বেড়িয়ে এলো। আমি চিৎকার দিয়ে বললাম, এই যে এই বুড়া ইভ-টিজারকে ধরে প্যাঁদানি দেন তো, সেই কখন থেকে আমার বউয়ের দিকে বাজে দৃষ্টিতে তাকাচ্ছে আর আজেবাজে কথা বলছে! পুলিশ এগিয়ে আসতে বুড়া হাঁটা দিল, যাবার সময় বলে গেল, “ফের যদি তোরে পাই চান্দু- তোর খবর আছে!” 

২) গাড়ি অনেক কষ্টে আন্ডারগ্রাউন্ডে পার্কিং করে লিফটের জন্য অপেক্ষা করছি। রাত আটটার মতন।

বউ-ছেলে-মেয়ে নিয়ে চারতলার ‘টেক আউট’-এ খেতে যাব। অনেকক্ষণ দাঁড়িয়েও যায়গা না পেয়ে বললাম, চল, হেঁটেই উঠি। একতলায় সিঁড়ি বেয়ে উঠতেই চোখ পড়ল এক দাঁড়িওয়ালা ভদ্রলোকের দিকে, নিচে নামছেন হিজাব পড়া বউ ও বাচ্চা মেয়ে নিয়ে। বউ আর বাচ্চা নিচে, উনি পেছনে আসছেন। ওমা, এ-ও দেখি আরেক সার্কাস, হাঁ করে আমার বউয়ের দিকে তাকিয়ে! যথারীতি আমার সেই রূপ বেড় করলাম, সামনে পথ আটকে বললাম, কি ভাই, বউ বাচ্চা সাথে তারপরও অন্য মহিলার দিকে এত্তবড় হাঁ করে তাকিয়ে থাকতে হবে? তাছাড়া আমাকে আর আমার এত বড় বড় দুই ছেলেমেয়েও দেখলেন না? 

এই মালও দেখি প্রতিবাদী কণ্ঠ! উল্টো অবাক হয়ে বলেন, আমি তাকাইছি মানে? 

- মানে বুঝেন না? সেই কখন থেকে সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে হাঁ করে তাকিয়ে আছেন। বউ কী জানে আপনার চরিত্র?

- এই মিয়া সাবধানে কথা বলবি!

- তুই করে বলছেন ক্যানো?

- এত বড় কথা বলছস আবার তুই কইরা বলব না তো কী বলব?

- এই মিয়া মুখ সামলে কথা বলবেন! 

সিঁড়িতে ভীড় লেগে গেছে, ব্যাটার বউ-মেয়েও দাঁড়িয়ে আছে। গ্যাঞ্জাম বাদ দিয়ে উপরে উঠতে হবে। বললাম, ভাই আর এসব করবেন না। শিক্ষিত লোক, চোখ সামলে রাখবেন, অন্য মেয়েদের দিকে তাকাবেন না।  

বলে যেই উপরে উঠতে যাব, দুই হাতে আমার কলার চেপে ধরল, তুই জানিস আমি ধানমন্ডির বাসিন্দা? *** ভার্সিটির টিচার!
ঝটকা মেরে নিজেকে ছুটিয়ে নিয়ে বললাম, ভার্সিটির টিচার হয়ে চরিত্রের এই অবস্থা ক্যান? ধানমন্ডি শিউর নতুন আসছেন। যান, বউ-মেয়ে নিয়ে বাড়িতে যান। বউ এখন জেনে গেল তার আদর্শ স্বামীর চরিত্রটা। এই যে ভাই, আপনারা তাকিয়ে কী দেখছেন? একজন ইভটিজিং করছে আর আপনারা তাকিয়ে দেখছেন?

ভিড়ের মধ্যে নড়াচড়া দেখলাম।  

“এই যে ভাই যানতো আপনার স্ত্রী-মেয়ে নিয়ে বাড়ি। ভাল হইয়া যাইয়েন। ”

ভদ্রলোক গজগজ করতে করতে চলে গেল। যথারীতি আমার বউ মুখ ঝামটে বলল, এই জন্য তোমার সাথে কোথাও যেতে চাই না! সব জায়গায় ঝামেলা বাঁধাও। (ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে)


মন্তব্য