kalerkantho


ব্লেজারের বদলে জ্যাকেট, এরপর তাও ফেরৎ এবং... অনলাইন শপের প্রতারণা!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৫ জানুয়ারি, ২০১৮ ১৭:১৭



ব্লেজারের বদলে জ্যাকেট, এরপর তাও ফেরৎ এবং... অনলাইন শপের প্রতারণা!

প্রতিষ্ঠিানটির ফেসবুক পেজে অনেকেই এমন অভিযোগ করেছেন

পছন্দের ব্লেজারের বদলে নিম্নমানের জ্যাকেট পাঠিয়ে এবং পরে বদলে দেয়ার কথা বলে সেই জ্যাকেটও ফেরত নিয়েছে, কিন্তু তার বদলে ফেরত দেয়নি প্রতিশ্রুত পণ্য। অথচ এ বাবদে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে ঠিকই। এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে এক অনলাইন শপের বিরুদ্ধে। 

এ ঘটনায় প্রতারিত চট্টগ্রামের এক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পদস্থ কর্মকর্তা সোহেল সাখাওয়াত জানান, গত  ২৮/১২/২০১৭ তারিখে ফেসবুক পেজ China Fashion BD†Z E-Commerce Mela নামে শীতকালীন ব্লেজার ও জ্যাকেটের ছবি সম্বলিত একটি বিজ্ঞাপন দেয়া হয়। সেই সাইট থেকে গত ২৯/১২/২০১৭ তারিখে কোড #০০৭, মূল্য- ২,৪৯৯/-সম্বলিত ব্লেজারটি সম্পর্কে জানার জন্য তিনি সাইটে উল্লেখিত ০১৭৬৫৭৬০৬৭২ নম্বরে কল করেন এবং ব্লেজারটির স্টক আছে কিনা জানতে চান। 

তখন অপরপ্রান্ত থেকে নিজেকে মিস জারা বলে পরচয়দানকারী জনৈক সেলস গার্ল পণ্যটি আছে বলে জানান এবং আরো জানতে তাদের মালিক রয়েলের সঙ্গে কথা বলতে ০১৯৪১৫৭৯১৫২ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলেন। 

সাখাওয়াত যথারীতি রয়েলের সঙ্গে কথা বলেন। রয়েল জানান যে ব্লেজারটির পর্যাপ্ত স্টক রয়েছে। অর্ডার কনফার্ম করতে অগ্রিম হিসেবে ১০০ টাকা বিকাশ করতে হবে ০১৭৬৫৭৬০৬৭২ নম্বরে এবং এসএ পরিবহন কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে কন্ডিশন পেমেন্টের মূল্য পরিশোধ করতে হবে।

রয়েলের কথা অনুসারে সাখাওয়াত সেই অর্ডার কনফার্ম করার জন্য অগ্রিম হিসেবে ১০০ টাকা বিকাশের মাধ্যমে পাঠান ওই নম্বরে। তারপর China Fashion BD থেকে তাকে অর্ডার কনফার্ম হয়েছে বলে নিশ্চিত করে পরদিন অর্থাৎ ৩০/১২/২০১৭ তারিখ দুপুর ১টার মধ্যে কোড #০০৭-এর ব্লেজারটি চট্টগ্রামের কাজীর দেউড়ি এসএ পরিবহন অফিসে পৌঁছে যাবে বলে জানানো হয়। 

যথারীতি পরেরদিন ৩০/১২/২০১৭ তারিখে এসএ পরিবহনের কাজীর দেউড়ি অফিস থেকে একটি কন্ডিশন কুরিয়ার এসেছে বলে সাখাওয়াতকে ফোন করে জানিয়ে পণ্যটি অফিসে এসে সংগ্রহ করতে বলা হয়। তিনি এসএ পরিবহনের কাজীর দেউড়ি অফিসে গিয়ে কন্ডিশন পেমেন্ট পরিশোধ করে কুরিয়ারে পাঠানো প্যাকেটটি খুলে দেখেন যে তাতে তার অর্ডারকৃত কোড #০০৭-এর ব্লেজারটি নেই। তার পরিবর্তে Bd Fashion.Com নামের একটি ডেলিভারি চালান সম্বলিত (নং-৫৩৬৩ তারিখ ৩০/১২/২০১৭) মূলে একটি নিম্নমানের জ্যাকেট পাঠানো হয়েছে। 

এ ব্যাপারে সাখাওয়াত ওই প্রতিষ্ঠানের ০১৭৬৫৭৬০৬৭২ নম্বরে ফোন করে ভিন্ন এবং নিম্নমানের পণ্য কেন পাঠানা হয়েছে জানতে চাইলে উত্তরে সেলস গার্ল পরামর্শ দেন রয়েলের সাথে কথা বলার। 

যোগযোগ করলে রয়েল বলেন, ‘ডেলিভারিম্যানের ভুলে এমনটি হয়েছে। আপনি পণ্যটি ডেলিভারি চালানে উল্লেখিত নম্বরে পাঠিয়ে দিন, আমরা রিপ্লেস করে দেব।’ 

কালের কণ্ঠকে সাখাওয়াত জানান, রয়েলের কথায় বিশ্বাস করে এসএ পরিবহনের EP 640463 dtd. 01/01/2018 চালান মূলে পণ্যটি পাঠিয়ে দিয়ে তা  রয়েলকে জানান। পরদিন রয়েল পণ্যটি ফেরত পাওয়ার কথা স্বীকার করে পরিবর্তিত পণ্য অর্থাৎ নির্দিষ্ট ব্লেজারটি এক সপ্তাহ পর কুরিয়ারে পাঠানো হবে বলে জানান সাখাওয়াতকে। 

তারপর বিজ্ঞাপনে উল্লেখিত ০১৭৬৫৭৬০৬৭২ নম্বরে ফোন করে সাখাওয়াত তার জন্য নির্ধারিত ব্লেজারটি একটু তাড়াতাড়ি পাঠিয়ে দেয়ার অনুরোধ জানালে অপর প্রান্ত থেকে জনৈক সেলস গার্ল বলেন, ‘আপনি না স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী হলেও কিছুই হবে না।’ তখন সাখাওয়াত ওই সেলস গার্লকে বলেন, ‘আপনি আপনার এই প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে কেন প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে আসলেন?’ জবাবে ওই সেলস গার্ল অশোভন ব্যবহার করেন বলে অভিযোগে জানান সাখাওয়াত। 

সাখাওয়াত আরও জানান, তারপর থেকে আজ (১৫ জানুয়ারি, ২০১৮) পর্যন্ত ১৪ দিন পার হলেও তারা ব্লেজারটি পাঠায়নি এবং ফোন করলে রয়েল এখন ফোনও রিসিভ করছেন না। 

উল্লেখ্য, তাদের ফেসবুক পেজ পরখ করে দেখা গেছে তাদের বিরুদ্ধে অসংখ্য লোকের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। প্রতারণার শিকার ক্রেতারা নানান বিরূপ কমেন্ট করছেন। তবে পরে আবার সেগুলো মুছে ফেলে ওই প্রতিষ্ঠানটি। ঢাকার অফিস ঠিকানা চাইলে গ্রাহকদেরকে তাও দেয়া হচ্ছে না। 

নিচে এরকম কয়েকটি ফেসবুক কমেন্ট তুলে ধরা হলো।

এ ব্যাপারে কালের কণ্ঠের পক্ষ থেকে সেলফোনে রয়েলের সঙ্গে যোগাযোগে বারবার চেষ্টা করা হয়। জানার চেষ্টা করা হয় তার বক্তব্য। কিন্তু অপরপ্রান্ত থেকে কেউ ফোন ধরেননি। অপর নম্বরে ফোন দিলে এক পুরুষ কণ্ঠ জানায়, রয়েল ওই প্রতিষ্ঠানের মালিক না, ম্যানেজার। তাই তিনি ফোন ধরছেন না। তবে ফোন রিসিভকারি নিজের নাম-পরিচয় জানাতে অস্বীকার করেন।

সাখাওয়াতের অর্ডার কনফার্ম স্লিপ

গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা ও দুর্ব্যাবহারের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, জারাসহ তিনজন সেল্‌স গার্লকে তহবিল তসরুফ ও অন্যান্য অভিযোগে বরখাস্ত করা হয়েছে। চট্টগ্রামের গ্রাহক সাখাওয়াতের ব্লেজারটি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেটির স্টক শেষ হয়ে গেছে। এর বদলে অন্য একটি ডিজাইনের জ্যাকেট দিতে চান। 

সেটির দাম কতো জানতে চাইলে তিনি বলেন, ৫ হাজার দুই শ টাকা।

কিন্তু ওই গ্রাহক তো আড়াই হাজার টাকা দামের ব্লেজারের অর্ডার করেছিলেন, এটা তিনি নেবেন কেন?

২৪৫০/- মূল্য পরিশোধের বিল

জবাবে তিনি বলেন, এটা আমরা তার জন্য ৪ হাজার ২৫০ টাকায় দেব। এটা আমাদের নিয়মিত গ্রাহকদের রেট।

প্রচারণা বা প্রতারণা- অনলাইন শপিংকে নিরাপদ করতে তৎপর হওয়ার সময় এখনই- গ্রাহকরা মনে করছেন

এ বিষয়ে সাখাওয়াত জানান, একই ধরনের কথা তারা তার সঙ্গে আগেও বলেছে। তিনি এ ধরনের ‘প্রতারকদের খপ্পর’ থেকে অনলাইন শপারদের বাঁচাতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইসিটি মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সবার দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করেন। তিনি চায়না ফ্যাশন বিডি বা বিডি ফ্যাশন.কম তার কাছ থেকে যে টাকা নিয়েছে তাও ফেরত চান। 

চায়না ফ্যাশন বিডি’র পেজ-এ গিয়ে দেখা গেছে এতে কাছাকাছি নামের একাধিক অনলাইন শপিং অ্যাড্রেস ব্যবহার করা হয়েছে। এ বিষয়টিও রহস্যজনক।


মন্তব্য