kalerkantho


আর কী আশা করা যায় এসব সন্তানদের কাছ থেকে?

তৌহিদ জামান   

৭ মে, ২০১৮ ১১:০১



আর কী আশা করা যায় এসব সন্তানদের কাছ থেকে?

এসএসসি পরীক্ষায় ফেল করে শুধু যশোরে-ই ৮ জন আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে; এখন হাসপাতালে ভর্তি।

এদের কাছে বাবা-মা কিংবা সমাজের কী প্রত্যাশা থাকতে পারে?

পড়াশুনায় সবাই ভাল করবে- এটি ভাবা ঠিক না। তাহলে পাশের হার ৭৬% বা ৭৭% না হয়ে শতভাগ হতো!
যশোরের মণিরামপুরে এক ছেলে বাবার সাথে দিনমজুরি করেও ৫ম শ্রেণি থেকে অদ্যাবধি সেরা রেজাল্টটিই করেছে। তার পড়াশুনার জন্যে পারিবারিক চাপ ছিল না; কিংবা পরিবার থেকে শারীরিক সক্ষমতা রক্ষায় প্রয়োজনীয় পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবারও দেওয়া সম্ভব হয়নি। পায়নি প্রাইভেট টিউটরও!

কিন্তু যে ছেলে বা মেয়ের বাবা- মা কিংবা স্বজন মোটামুটি স্বচ্ছল, তাদের পরীক্ষার ফলাফল কেমন? পরিবার থেকে মেধাবী সন্তানদের জন্যে সবরকমের সহযোগিতা না চাইতেই মিলছে, তারা কেন খারাপ করছে?

জিপিএ-৫ এখন ডালভাত আমরা জানি। অনেকেই এটিকে মেধার মূল্যায়ন হিসেবে মানতে নারাজ। এটি ঠিক, শিক্ষাব্যবস্থার এহেন ব্যবচ্ছেদে সকলেই বিরক্ত। তবুও প্রচলিত পদ্ধতিতেই শিক্ষার্থীদের যেতে হচ্ছে। পড়তে হচ্ছে, পরীক্ষাও দিতে হচ্ছে!

কথা হচ্ছে, বাবা-মা নিজেরা তাদের অনেক শখ আহ্লাদ জলাঞ্জলি দিয়ে সন্তানদের ভাল রাখার চেষ্টা করছেন। আর সন্তান? এই বয়সে মোটামুটি ভালমন্দ বুঝতে শিখেছে, সেই বাচ্চারা কী করছে! পড়াশুনার কথা বললেই তাদের মুখের দিকে তাকানো যায় না! পারলে ২৪ ঘণ্টা মোবাইলফোন নিয়ে বসে থাকে! আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহারে সব তথ্য তাদের হাতের নাগালে। অভিভাবকরা তাদের মন রক্ষার্থে নানা উপঢৌকন, নিত্য নতুন স্বাদের আর পদের খাবারের দোকানে নিয়ে যাওয়া, নয়া পোশাক কিনে দেওয়া- কতকিছুই করছেন। 

কিন্তু প্রতিদান?

প্রত্যহ মিথ্যের বেসাতি নিয়ে হাজির হচ্ছে সামনে! আর পরীক্ষার সময় অমনোযোগী হয়ে সম্পাদন করছে কৃতকর্ম। রেজাল্ট মনোপুত না হওয়ায় শেষে করছে আত্মহত্যার চেষ্টা!

কী আশা করা যায় এসব সন্তানদের কাছ থেকে?

তৌহিদ জামান : যশোর নিবাসী সাংবাদিক

কাঙ্ক্ষিত ফল না পেয়ে সারাদেশে পাঁচ শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা


মন্তব্য