kalerkantho


'ফজলু চাচারে সালাম দিও'

সাইফুদ্দিন আহমেদ নান্নু   

১৫ জুন, ২০১৮ ১৮:০০



'ফজলু চাচারে সালাম দিও'

প্রতীকী ছবি

আজ বিকেল, সন্ধ্যা বা রাতের গ্রামগুলোর কথা ভাবুন। ধনী, গরিব, সবার বাড়িই আজ বেদনারহিত সরগরম একেকটি স্বর্গ।

কোনো বাড়িতে কারো সন্তানরা এসেছে পুত্রবধূ, নাতি, নাতনিসহ। কোনো বাড়িতে কারো শহরবাসী স্বামী, কারো বাবা, কারো ভাই-বোনরা এসেছে ঢাকা অথবা অন্যকোনো দূরতম শহর থেকে।

বাড়ির উঠোন, ঘরের বারান্দা, সামনের হালট, বাগান, খেলার মাঠে সুখদুঃখের গল্প, থইথই আড্ডা। বাচ্চাদের কিচিরমিচিরে অস্থির চারপাশ।

এরই মাঝে খুশি মনে চলছে চিপস, বিস্কুট, কটকটি, ঝাঁলমুড়ি অথবা মায়ের, বোনের বানানো পিঠা খাওয়া।

সন্ধ্যার স্তব্ধতা ভেঙে ওপাড়ার শরীফ বাল্যবন্ধুর খোঁজে চিৎকার করে বলে উঠছেন 'সুজন আইছোস নাকিরে?' 

বিকেলে, মাঠের পাশে, চায়ের দোকানে বসা প্রবীণ স্কুলশিক্ষক সাহাবুদ্দিন স্যারের পায়ে হাত দিয়ে সালামে ব্যস্ত মধ্যবয়সী মঈদুল, বুয়েটের শিক্ষক। এই মঈদুল স্কুল জীবনের পরই তার বাবার সঙ্গে শহরবাসী হয়েছেন।

কাঁধে ব্যাগ নিয়ে বাড়ির পথে হাঁটতে হাঁটতে ঢাকার গার্মেন্ট শ্রমিক নজরুল বলে উঠবে, ও কাকি, কেমন আছো? ফজলু চাচারে সালাম দিও, কাইল আসুমনে।

ধানক্ষেতের পাশে ছোট্ট সবুজ যে মাঠ, তাতে হয়তো দলবেঁধে ছুটছে, খেলছে ফ্ল্যাটবন্দি জীবনের ছোট্ট ছোট্ট শিশুরা। যারা কোনোদিন এমন খোলা জমিনে খালি পায়ে হাঁটেনি, একবারও না।

৭০ পেরোনো সিরাজুল ইসলাম, এককালের দাপুটে আমলা, তিনি লাঠি হাতে টুকটুক করে হাঁটছেন ঈদগাঁ মাঠের দিকে। যে মাঠের পাশে গ্রামের কবরস্থান। উদাস হয়ে হয়তো তিনি ভাবছেন এই মাঠে বাবার সঙ্গে ঈদের নামাজ পড়ার স্মৃতি। যে বাবা এখন ওই কবরস্থানে শায়িত।

লেখক : গণমাধ্যমকর্মী

(নাগরিক মন্তব্য বিভাগে প্রকাশিত লেখা ও মন্তব্যের দায় একান্তই সংশ্লিষ্ট লেখক বা মন্তব্যকারীর, কালের কণ্ঠ কর্তৃপক্ষ এজন্য কোনোভাবেই দায়ী নন।)



মন্তব্য