kalerkantho


ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত রাজাকার হাফিজ উদ্দিন গ্রেপ্তার

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি    

১২ আগস্ট, ২০১৭ ১৯:৩২



ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত রাজাকার হাফিজ উদ্দিন গ্রেপ্তার

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মো. হাফিজ উদ্দিনকে (৬৮) গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। আজ শনিবার কিশোরগঞ্জের ইটনা থেকে র‌্যাব ১৪, কিশোরগঞ্জের ক্যাম্পের সদস্যরা তাকে গ্রেপ্তার করেন।

গ্রেপ্তার হাফিজ উদ্দিন জেলার করিমগঞ্জ উপজেলার খুদিরজঙ্গল গ্রামের বাসিন্দা। র‌্যাব ১৪ কিশোরগঞ্জ ক্যাম্পের কম্পানি  অধিনায়ক  মো. হাসান মোস্তফা স্বপন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার বাদলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. গনি ভূঁঞা জানান, ‘দুপুর আড়াইটার দিকে বর্শিকোণা গ্রাম থেকে পলাতক রাজাকার হাফিজ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। ’ তিনি বলেন, ‘ওই গ্রামে রাজাকার হাফিজ উদ্দিন তার মেয়েকে বিয়ে দিয়েছিলেন। মেয়ের বাড়ির পাশের একটি বাড়িতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে ছিলেন। ’

হাফিজ উদ্দিন একাত্তরে রাজাকার বাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন। তাকে স্বাধীনতাবিরোধী কর্মকাণ্ডসহ করিমগঞ্জে অপহরণ, নির্যাতন, হত্যা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এর আগে থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন।

জানা গেছে, ২০১৬ সালের ৩ মে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিচারপতি আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল করিমগঞ্জের রাজাকার কমান্ডার গাজী আবদুল মান্নান, রাজাকার হাফিজ উদ্দিনসহ চার রাজাকারকে মৃত্যুদণ্ড দেন।

তাদের বিরুদ্ধে একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে ২০১০ সালের ২ মে উপজেলার আয়লা গ্রামের মিয়া হোসেনের ছেলে গোলাপ মিয়া কিশোরগঞ্জের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৬ আদালতে একটি মামলা করেন। পরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মামালটি তদন্ত করে।

তদন্ত শেষে ২০১৪ সালের ২৬ নভেম্বর গাজী আবদুল মান্নান, ক্যাপ্টেন এ টি এম নাছির, তার ভাই অ্যাডভোকেট শামছুদ্দিন আহমেদ ও অন্য দুই রাজাকার হাফিজ উদ্দিন ও আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা মো. আতাউর রহমান। ২০১৫ সালের ২৭ নভেম্বর পাঁচ রাজাকারের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত অন্য তিন রাজাকার হলেন- উপজেলার মধ্যপাড়া গ্রামের অ্যাডভোকেট এ টি এম শামসুদ্দিন আহমেদ ও তার ভাই সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন এ টি এম নাসির উদ্দিন আহমেদ ও খুদির জঙ্গল গ্রামের হাফিজ উদ্দিন। আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া আসামি হলেন-  হাইদনখালি গ্রামের আজহারুল ইসলাম। এদের মধ্যে বর্তমানে শামসুদ্দিন আহমেদ কারাগারে আটক রয়েছেন। আজ শনিবার হাফিজ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। বাকি দুই রাজাকার এ টি এম নাসির উদ্দিন ও আজহারুল ইসলাম পলাতক রয়েছেন।

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত রাজাকার কমান্ডার আব্দুল মান্নান পলাতক অবস্থায় গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জের  কাঁচপুর এলাকার একটি বাড়িতে মৃত্যুবরণ করেন।

দণ্ডপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের সময় অপহরণ, নির্যাতন, হত্যা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের সাতটি ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয় আদালতে। এর মধ্যে রয়েছে একাত্তরের ২৭ অক্টোবর করিমগঞ্জের আয়লা গ্রামে আটজনকে গুলি করে হত্যা, ২৩ আগস্ট উপজেলা ডাকবাংলোতে শান্তি কমিটির কার্যালয়ে একজনকে অপহরণ করে নির্যাতন ও হত্যা, ২৫ আগস্ট পূর্ব নবাইদ কালিপুর গ্রামের এক নারীসহ দুইজনকে অপহরণ করে নির্যাতন ও হত্যা, ৭ সেপ্টেম্বর রামনগর গ্রামে এক সংখ্যালঘুকে আটক করে নির্যাতন চালিয়ে হত্যা, ১৫ সেপ্টেম্বর আতকাপাড়া গ্রামের ২০-২৫টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, ২৬ সেপ্টেম্বর খুদির জঙ্গলে একজনকে অপহরণ ও হত্যা এবং ১৩ নভেম্বর আয়লা গ্রামের একজনকে অপহরণ ও হত্যা।


মন্তব্য