kalerkantho


রাজস্ব ফাঁকি ও অর্থ পাচার ঠেকাতে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানোর নির্দেশ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৩ আগস্ট, ২০১৭ ১৯:১৬



রাজস্ব ফাঁকি ও অর্থ পাচার ঠেকাতে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানোর নির্দেশ

রাজস্ব ফাঁকি রোধ ও অর্থ পাচার ঠেকাতে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানোর জন্য রাজস্ব কর্মকর্তাদের ৮ দফা নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।  

এসব নির্দেশনা পালনের মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকি রোধ, অর্থ পাচার বন্ধ এবং রাজস্ব আয় বাড়ানো সম্ভব হবে বলে আশা করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

রবিবার কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি), শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর এবং ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদফতরের মহাপরিচলকদের সঙ্গে এক বৈঠকে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান এসব নির্দেশনা প্রদান করেন।

বৈঠক শেষে এনবিআরের জনসংযোগ বিভাগের জ্যেষ্ঠ তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ এ মু’মেন এ তথ্য জানান।

৮ দফা নিদের্শনা হলো : অর্থপাচার ঠেকাতে সরকারের সকল পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে মাঠ পর্যায়ে নজরদারি বৃদ্ধি এবং অর্থপাচারকারীদের চিহ্নিত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ। স্থল, নৌ ও বিমানবন্দরগুলো কঠোর নজরদারির আওতায় আনা। একই সঙ্গে এসব বন্দরে চোরাকারবারীরা যেন বিচরণ করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি ভ্যাট ফাঁকি রোধে পণ্যের প্রকৃত উৎপাদন মূল্য এবং এর থেকে নির্দিষ্টহারে ভ্যাট আদায় নিশ্চিত করতে ভ্যাট গোয়েন্দা কার্যক্রম জোরদার করা।

এছাড়া আয়কর, ভ্যাট ও শুল্ক এই তিন খাত থেকে সরকারের প্রাপ্য রাজস্ব আহরণের পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সরকারি কোষাগারে জমা নিশ্চিত করতে হবে। আয়কর, শুল্ক ও ভ্যাট ফাঁকিবাজদের বিরুদ্ধে প্রাপ্ত অভিযোগসমূহ দ্রুত তদন্ত ও পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ; কর ফাঁকিবাজ অসৎ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার পাশাপাশি সৎ ব্যবসায়ীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

রাজস্ব ফাঁকি রোধে মাঠ পর্যায়ে যেকোনো অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল, শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর এবং ভ্যাট গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

প্রয়োজনে যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করতে হবে।  

বৈঠকে এনবিআরের গোয়েন্দা মহাপরিচালকগণ তাঁদের নিজ নিজ অধিক্ষেত্রের আওতাধীন রাজস্ব ফাঁকির তদন্ত কার্যক্রমের বিস্তারিত তুলে ধরেন। তদন্ত কার্যক্রম আরো গতিশীল ও কার্যকর করার বিষয়ে আলোচনা হয়।

এ সময় নজিবুর রহমান বলেন, রাজস্ব আহরণের ক্ষেত্রে এনবিআর সঠিকভাবে কর প্রদানকারী ব্যবসায়ীদের সর্বোচ্চ প্রণোদনা এবং কর খেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর নীতি অনুসরণ করছে। তিনি বলেন, ‘দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালন’ নীতিই আমরা অনুসরণ করছি।

তিনি গোয়েন্দা কার্যক্রম বাড়ানোর মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকি রোধ ও অর্থপাচার বন্ধ করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
বৈঠকে অংশগ্রহণকারী তিন গোয়েন্দা মহাপরিচালক হলেন- সিআইসির মো. বেলাল উদ্দিন, শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের ড. মইনুল খান এবং ভ্যাট গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের ড. মো. আল-আমিন প্রামানিক।


মন্তব্য