kalerkantho


গাজীপুরে চার ভুয়া সেনা সদস্য আটক

চাকরি দেওয়ার কথা বলে হাতিয়ে নেন লাখ লাখ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর   

২০ অক্টোবর, ২০১৭ ১৬:৩৪



চাকরি দেওয়ার কথা বলে হাতিয়ে নেন লাখ লাখ টাকা

কেউ ‘মেজর’, কেউ ‘ওয়ারেন্ট অফিসার’, কেউ ‘হাবিলদার’ বা ‘সৈনিক’। এমন চার ভুয়া সেনা সদস্যকে বুধবার রাতে আটক করেছে গাজীপুরের জয়দেবপুর থানার পুলিশ।

পোশাক ও ব্যাজ পরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে চাকরি দেওয়ার কথা বলে তাঁরা মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছিলেন লাখ লাখ টাকা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ গাজীপুরে অভিযান চালিয়ে ওই চারজনকে আটক করে। তাঁদের কাছ থেকে সেনাবাহিনীর পোশাক, মেজর র‌্যাংক ব্যাজ, ভুয়া নিয়োগপত্র, বিভিন্ন সিল, বুট, সেনাবাহিনীর লোগোযুক্ত মোজা উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে তাঁদের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে গাজীপুর আদালতে পাঠানো হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন ময়মনসিংহের গফরগাঁও থানার মহিরখারুয়া গ্রামের মৃত গিয়াস উদ্দিনের ছেলে মেজর পরিচয়দানকারী শাবিক হাসান লিটন ওরফে সাহাজ্জল হোসেন লিটন ওরফে মেজর নাঈম (৪৯), নড়াইলের লোহাগড়া থানার মইশাপাড়া গ্রামের মফিজুল ইসলাম দুলুর ছেলে ওয়ারেন্ট অফিসার পরিচয়দানকারী মো. এমদাদুল ইসলাম ওরফে আকাশ ওরফে এনায়েত (৩৪), মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী থানার আব্দুল্লাহপুর গ্রামের মৃত আকবর খানের ছেলে সেনাবাহিনীর অফিস সহকারী পরিচয়দানকারী মো. আব্দুর রাজ্জাক ওরফে নজরুল ওরফে লাদেন (৪৫) ও দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট থানার বাউপুকুর গ্রামের মো. আব্বাস আলীর ছেলে মেজরের পিএ পরিচয়দানকারী মো. মঞ্জুরুল হোসেন মঞ্জু ওরফে আরিফ হোসেন (৩৬)।

গাজীপুর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ জানান, আটককৃতরা নিজেদের সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে গাজীপুর, মানিকগঞ্জ ও নরসিংদীসহ বিভিন্ন জেলা থেকে সেনাবাহিনীতে বিভিন্ন পদে লোক নিয়োগের কথা বলে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। তাঁরা বিভিন্ন জনকে সেনাবাহিনীতে চাকরির নিয়োগপত্র দিয়েছেন। ডাক্তারি পরীক্ষাও করিয়েছেন। পরে ভুক্তভোগীরা চাকরিতে যোগ দিতে গিয়ে প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারেন।

কয়েকজন ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে জয়দেবপুর থানার এসআই মো. নূূরুল ইসলাম বুধবার রাতে প্রথমে ভুয়া মেজর ও পরে তাঁর দেওয়া তথ্যে অন্যদের আটক করেন। তাঁরা সবাই অপকর্মের কারণে সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত হয়েছিলেন।

এসআই নূরুল ইসলাম জানান, সেনাবাহিনীতে চাকরি দেওয়ার নামে এ চক্রটি মানিকগঞ্জের দৌলতপুর থানার দিঘলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছ থেকে ওই এলাকার আটজনের ৫২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। একই কথা বলে সিরাজগঞ্জের শাহবাজপুর থানার পুটিয়া এলাকার ৯ জনের কাছ থেকে ৫৬ লাখ, গাজীপুরের সবুজ মোল্লার কাছ থেকে এক মাস আগে ছয় লাখ ও আনোয়ার হোসেনের কাছ থেকে সাত লাখ টাকা নিয়ে যান।   

জয়দেবপুর থানার ওসি আমিনুল ইসলাম জানান, প্রতারকচক্রটি ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনের পর র‌্যাব ও গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ পরিচয়ে ছিনতাইও করে আসছিল। চক্রের অন্য হোতাদেরও খোঁজা হচ্ছে।


মন্তব্য