kalerkantho


আলোচনা সভায় ফখরুল

কেউ এসে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে দিয়ে যাবে না

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৪ অক্টোবর, ২০১৭ ০২:০০



কেউ এসে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে দিয়ে যাবে না

ফাইল ছবি

অন্য কেউ এসে বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে দিয়ে যাবে-এই নীতিতে বিশ্বাসী নয় বিএনপি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রীর সুষমা স্বরাজের সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বৈঠকের প্রতি ইংগিত করে এরকম মন্তব্য করে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা কারো কাছে দয়া ভিক্ষা করি না।

আমরা একথা বলি না, আমাদের ক্ষমতায় বসিয়ে দাও। আমরা একথা বিশ্বাস করি না, কেউ এসে বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে দিয়ে যাবে।

গতকাল সোমবার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ে গণ-সংস্কৃতি দলের উদ্যোগে প্রয়াত রাজনীতিক অলি আহাদের ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী ও প্রয়াত চলচ্চিত্রকার চাষী নজরুল ইসলামের ৭৬তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় ফখরুল এ কথা বলেন।

ফখরুল বলেন, বাংলাদেশে এখন গণতন্ত্র নাই, গণতন্ত্রের মুখোশে, গণতন্ত্রের লেবাসে যারা আন্তর্জাতিক বিশ্বে গণতন্ত্রের কথা বলছে, তারা মিথ্যা কথা বলছে, আন্তর্জাতিক বিশ্বকে বিভ্রান্ত্র করছে। সেই কারণে আমরা বিভিন্ন নেতাদের সঙ্গে দেখা করি, বাইরের থেকে কেউ আসলে তার সঙ্গে দেখা করি। আমরা তাদেরকে স্পষ্ট বলি, বাংলাদেশে গণতন্ত্র নেই। আমরা এটা বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের মানুষ অতীতে গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছে, লড়াই করেছে বুকের রক্ত দিয়েছে গণতন্ত্রের জন্য, সেই বাংলাদেশের মানুষ কখনো কারো দয়ার উপরে কখনো ভিক্ষা চাইবে না, তারা লড়াই করে গণতন্ত্রের অধিকার আদায় করবে। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য সকলকে ‘উঠে দাঁড়ানোর’ আহবানও জানান বিএনপি মহাসচিব।

তিনি বলেন, আমাদের এখন কঠিন দুঃসময় চলছে।

এই দুঃসময় খালেদা জিয়ার জন্য নয়, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী কিংবা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জন্য নয়। এটা সমগ্র বাংলাদেশের মানুষের জন্য দুঃসময়। আজকে আমাদের অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে, ভোট দিতে যেতে দেয়া হয়, আমাদের কোথাও দাঁড়াতে দেয়া হয় না, সভা করতে দেয়া হয় না। ঘরের মধ্যে মিটিং করতে হয় যেখানে গোয়েন্দা বাহিনীর কত লোক বসে আছে।

বর্তমান ফ্যাসিস্ট সরকারের সঙ্গে আপোস করেননি বলেই খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ৩৯টি মামলা দেয়া হয়েছে মন্তব্য করে বিএনপির এই নেতা বলেন, আমাদের ৭০ হাজার নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা। হাজারের উপরে ছেলেকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে, ৫‘শ ওপর নেতা-কর্মীকে গুম করে ফেলা হয়েছে। এরকম পরিবেশে আপনারা বলছেন নির্বাচন করবেন, চমৎকার পরিবেশ আছে। কোনটাই পরিবর্তন করতে দেবেন না। সেনাবাহিনী নিয়োগ করা যাবে না, সহায়ক সরকার করা যাবে না, সংসদ বিলুপ্ত করা হবে। তাহলে নির্বাচন দরকারটা কী? বলে দেন একদলীয় শাসন ব্যবস্থা। ৭৫ সালে শেখ মুজিবুর রহমান একদলীয় শাসন ব্যবস্থা করেছিলেন এটা ঘোষণা করে দেন।

মিয়ানমার থেকে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র চলছে অভিযোগ করে ফখরুল বলেন, আমাদের রোহিঙ্গা সমস্যা এটা বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা। এটাকে খাটো করে দেখবার কোনো উপায় নেই। ডা. জাফরুল্লাহ সাহেব (উপস্থিত) বলেছেন, এখানে আরেকটা প্যালেস্টাইন তৈরি করবার কাজ শুরু হয়েছে। অর্থাৎ এই ভুখণ্ড থেকেই আরেকটা লড়াই হবে, একটা ব্যাটেল ফিল্ড তৈরি হবে। সেই ব্যাটেল ফিল্ড তৈরির জন্য ষড়যন্ত্র।  

২৫ আগস্ট রোহিঙ্গারা আসার পরে পরেই খালেদা জিয়া বিবৃতি দিয়েছেন এবং তিনি বলেছেন তাদেরকে (রোহিঙ্গা) সাময়িকভাবে আশ্রয় দিতে হবে। কখনই স্থায়ীভাবে তাদেরকে মেনে নেয়া যাবে না। এজন্যেই মিয়ানমার সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করে তাদের ফিরিয়ে নিয়ে যেতে হবে। ১৯৭৮ সালে প্রেসিডেন্ট জিয়া করেছিলেন, ৯২-৯৩ সালে খালেদা জিয়া করেছিলেন। আপনারা (সরকার) কেনো এতো দেরি করলেন। এই বিষয়ে বিএনপি কোনো রাজনীতি করতে চায় না জানিয়ে ফখরুল জাতীয় ঐক্য সৃষ্টির মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের কথা বলেন।

লন্ডনে চিকিৎসাধীন দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে একটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির ঘটনায় তিনি বলেন, তারেক রহমান সাহেব চিকিৎসার জন্য বিদেশে আছেন। এখানে একের পর এক মিথ্যা মামলা, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, নিম্ন আদালতে খালাস দিলেও উচ্চ আদালতে সাজা দেয়া ইত্যাদি অনেক ঘটনা। দিনের পর দিন এভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। ম্যাডামের বিরুদ্ধেও একের পর এক মিথ্যা মামলা। কিভাবে আপনারা এখানে গণতন্ত্রের, ন্যায় বিচারের কথা বলেন। কিভাবে বলেন, আমরা কোনো পক্ষপাত করি না। ওই আদালতকে কুক্ষিগত করবার জন্যই তো এভাবে প্রধান বিচারপতিকে অপমানজনকভাবে দেশ থেকে বের করে দিয়েছেন আপনারা। কোনো প্রতিষ্ঠান আপনারা বাকী রাখেননি।

তিনি আরো বলেন, অত্যন্ত সুপরিকিল্পতভাবে ডাকসুসহ সব ছাত্র সংসদগুলোর নির্বাচন বন্ধ করে রাখা হয়েছে। শুধু এই সরকার নয়, পরম্পরায় দীর্ঘ দিন ধরেই ছাত্র সংসদগুলোর নির্বাচন হচ্ছে না। ফলে নেতৃত্ব তৈরি হচ্ছে না। এই সমাজকে যদি পরিবর্তন করা না যায়, সমাজকে যদি পরিবর্তন করা না যায় তাহলে মাওলানা ভাসানী বলেন, আর অলি আহাদই বলেন, অন্যান্য দিকপাল যারা পৃথিবী বদলে দিয়েছেন তাদের অনুসরণ করা সম্ভব হবে না।

সংগঠনের সভাপতি এস আল আলমের সভাপতিত্বে ও এনডিপি‘র মহাসচিব মঞ্জুর হোসেন ঈসার পরিচালনায় আলোচনা সভায় গণস্বাস্থ্য সংস্থার ট্রাষ্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বিএনপি নেতা বরকতউল্লাহ বুলু, দেওয়ান মো. সালাহউদ্দিন, পিডিপি‘র সাধারণ সম্পাদক এহসানুল হক সেলিম, ডিএল‘র সাধারণ 


মন্তব্য