kalerkantho


প্যারাডাইস পেপারসে আবদুল আউয়াল মিন্টুসহ আরও কয়েকজনের নাম

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৯ নভেম্বর, ২০১৭ ১২:৪৭



প্যারাডাইস পেপারসে আবদুল আউয়াল মিন্টুসহ আরও কয়েকজনের নাম

ছবি অনলাইন

প্যারাডাইস পেপারস কেলেঙ্কারিতে বাংলাদেশের ব্যবসায়ী আবদুল আউয়াল মিন্টু, তাঁর স্ত্রী নাসরিন ফাতেমা আউয়াল ও তিন ছেলে তাফসির এম আউয়াল, তাজওয়ার এম আউয়াল ও মো. তাবিথ আউয়ালের নাম এসেছে। করস্বর্গ হিসেবে পরিচিত বারমুডায় ১৯৯৯ সালে নিবন্ধিত এনএফএম এনার্জি লিমিটেডের অংশীদার হিসেবে তাঁদের নাম এসেছে।

তবে মিন্টুর পরিবার ছাড়াও প্যারাডাইস পেপারসে বাংলাদেশের হিসেবে সামির আহমেদ, ফারিদা ওয়াই মগুল, শহীদ উল্লাহ, ফয়সাল চৌধুরী এবং মহাখালীর ব্রুমার অ্যান্ড পার্টনারস অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট (বাংলাদেশ) লিমিটেডের নাম এসেছে।

প্যারাডাইস পেপারস কেলেঙ্কারিতে এবার প্রিন্স চার্লসের নাম

এর মধ্যে ফয়সাল চৌধুরী বিদেশে গ্লোবেলেক এশিয়া লিমিটেড নামে একটি কম্পানিতে বিনিয়োগ করেন এবং তিনি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ও ভাইস প্রেসিডেন্ট বলে প্যারাডাইস পেপারস জানিয়েছে। দুটি ঠিকানা পাওয়া যায় তাঁর প্রতিষ্ঠানের তথ্যে : মেঘনা ঘাট পাওয়ার লিমিটেড, বারানগর, মেঘনা ঘাট, সোনারগাঁ, নারায়ণগঞ্জ এবং বাড়ি-২৩, সড়ক-২৩, বনানী, ঢাকা। সামির আহমেদ ড্রাগন কেমিক্যাল ক্লিন ডেভেলপমেন্ট ইনভেস্টমেন্ট নামের একটি কম্পানির শেয়ারহোল্ডার হয়েছেন। ঠিকানা দেওয়া হয়েছে : অ্যাপার্টমেন্ট ৪বি, ১৫ জাতিসংঘ রোড, বারিধারা, ঢাকা। ব্রুমার অ্যান্ড পার্টনারস অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট (বাংলাদেশ) লিমিটেড এবং বারমুডায় ফ্রন্টিয়ার ফান্ড (বারমুডা) লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করে তার মালিকানার অংশীদার হয়েছে। একটি ঠিকানা পাওয়া যায় নথিতে : ৫০ মহাখালী বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা।

প্যারাডাইস পেপারসের নথি এলো যেভাবে

অ্যাংকর ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের ফারিদা ওয়াই মগুলের প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা দেখা যায় যুক্তরাষ্ট্রের জ্যামাইকায়। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী শহীদ উল্লাহ নামের এক বাংলাদেশির প্রতিষ্ঠান হিসেবে ওয়েস্টার্ন অ্যাটলাস লিমিটেড ও র‌্যামসর্ন গ্লোবাল এনার্জির নাম পাওয়া যায়।


বিদেশি কম্পানির মালিকানায় নিজের ও পরিবারের সদস্যদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে জানতে চাইলে গতকাল শনিবার আবদুল আউয়াল মিন্টু কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি ১৯৭১ থেকে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত বিদেশে ছিলাম। ওই সময় আমি বিদেশে ব্যবসা-বাণিজ্য করেছি। যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলাম। ’

অর্থপাচারের তথ্য ফাঁস

দেশের বিশিষ্ট এই ব্যবসায়ী আরো বলেন, ‘প্যারাডাইস পেপারসে কী আছে, তা আমি এখনো জানি না। সেখানে লাখ লাখ মানুষের কথা বলা আছে। বিষয়টি সম্পর্কে জানতে আমি আজ (শনিবার) যুক্তরাষ্ট্রে টেলিফোন করেছিলাম। সে দেশে ছুটি থাকায় আমি বিস্তারিত কিছু জানতে পারিনি। তবে আমি খোঁজখবর নেওয়ার চেষ্টা করছি। বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানার পরই আমি ব্যাখ্যা দেব। এখন এর বেশি কিছু বলতে পারছি না। ’

আবদুল আউয়াল মিন্টু মাল্টিমোড গ্রুপের চেয়ারম্যান। তাঁর স্ত্রী নাসরিন আউয়াল, ছেলে তাবিথ আউয়াল, তাফসির আউয়াল ও তাজওয়ার আউয়াল এ গ্রুপের পরিচালক। সরাসরি পণ্য বিক্রির বাণিজ্য ছাড়াও তাঁর গ্রুপ বিদেশি বিভিন্ন কম্পানির সঙ্গে কমিশন বাণিজ্যও করে থাকে।

আবদুল আউয়াল মিন্টু বাংলাদেশের অন্যতম রাজনৈতিক দল বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি—উভয় সরকারের আমলেই তিনি দেশের ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি নির্বাচিত হন দুইবার। তাঁর ছেলে তাবিথ আউয়াল বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য। গত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ঢাকা উত্তর থেকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন তিনি।

এর আগে পানামা পেপারস ও অফশোর লিকসেও বাংলাদেশের অনেকের নাম এসেছে। প্যারাডাইস পেপারসসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যাঁদের নাম এসেছে তাঁদের কেউ দেশ থেকে অবৈধভাবে বিদেশে অর্থপাচার করে থাকতে পারেন। আবার বিদেশে উপার্জিত অর্থ দেশে না এনে করস্বর্গ হিসেবে পরিচিত কোনো দেশে রেখে দিতে পারেন।  

করস্বর্গ হিসেবে পরিচিত ভূখণ্ডের মধ্যে বারমুডা অন্যতম এবং প্যারাডাইস পেপারসে নাম আসা সবার অর্থ বারমুডায় রাখা। করস্বর্গের কোনো দেশে অর্থ রাখলে তার উৎস সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয় না। কোনো কর দিতে হয় না। টাকার মালিকের পরিচয় প্রকাশ করা হয় না। এ কারণেই কেবল বাংলাদেশই নয়, ইউরোপ, আমেরিকা, আফ্রিকা, এশিয়াসহ সারা বিশ্বের সম্পদশালীরা এসব দেশে আইন বহির্ভূতভাবে গোপনে বিপুল অঙ্কের অর্থ জমা করে রাখে।

বিশ্বব্যাপী অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের একটি গ্রুপ বিশ্বের সম্পদশালীদের অর্থ বিনিয়োগের এসব নথি ফাঁস করেছে। আশপাশের দেশগুলোর মধ্যে ভারত ও পাকিস্তানের সাংবাদিকরা এই কনসোর্টিয়ামে রয়েছেন। বাংলাদেশের কোনো গণমাধ্যম এই গ্রুপে নেই।


মন্তব্য