kalerkantho


মশক নিধনে শিগগিরই ক্র্যাশ প্রোগ্রাম

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৬ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১৯:০৩



মশক নিধনে শিগগিরই ক্র্যাশ প্রোগ্রাম

মশার উৎপাত বৃদ্ধি পাওয়ায় রাজধানীতে মশক নিধনে শিগগিরই ক্র্যাশ প্রোগ্রাম পরিচালনা করবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)।  

ডিএসসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. শেখ সালাহউদ্দিন আজ সাংবাদিকদের বলেন, শীতকালে বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় পানির প্রবাহ কম থাকে।

ফলে নর্দমা বা জলাধারে এই সময়ে মশার প্রজনন বেশি হয়। তাই শীত মৌসুমে সাধারণত মশার উৎপাত অন্য সময়ের তুলনায় একটু বেড়ে যায়। মশার উৎপাত থেকে নগরবাসীকে স্বস্তি দিতে মশক নিধনে নিয়মিত ফগিং কার্যক্রমের পাশাপাশি ক্র্যাশ প্রোগ্রাম হাতে নেয়া হয়েছে।  

তিনি জানান, গতমাসে নগরীর ৫টি জোনে একযোগে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম পরিচালিত হয়েছে। এ মাসেও যত শিগগির সম্ভব আরো একটি ক্র্যাশ প্রোগ্রাম চালানো হবে।  

এই লক্ষ্যে পুরো মহানগরীকে অঞ্চলভিত্তিক বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ করে ফগিং কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য প্রতি ওয়ার্ডে ৪ জন করে স্প্রেম্যানদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। অঞ্চলভিত্তিক সিটি কর্পোরেশনের মশক সুপারভাইজার এবং স্থানীয় কাউন্সিলগণ এই কাজ মনিটরিং করছেন বলে তিনি জানান।

শেখ সালাহউদ্দিন বলেন, আগের বছরের তুলনায় এ বছর মশক নিধনে ৩০ থেকে ৪০ ভাগ ওষুধের ব্যবহার বৃদ্ধি করা হয়েছে। তিনি বলেন, মশা নিধনে অতিরিক্ত মাত্রায় ওষুধ ব্যবহার করা হলে সেটা মানুষের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে।

 

রাজধানীর অধিকাংশ এলাকার মানুষ মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ। এখন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বার্ষিক পরীক্ষা চলছে, ফেব্রুয়ারি থেকে এসএসসি পরীক্ষা শুরু হবে। মশার অত্যাচারে পরীক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় মারাত্মক বিঘœ ঘটছে। সন্ধ্যার পর কোথাও একটু বসার উপায় নেই।

নগরীর হাজারীবাগ এলাকার বাসিন্দা নুরুল ইসলাম বলেন, নগরজুড়ে দিন দিন মশার যন্ত্রণা বাড়ছেই। আমরা এখন মশার কাছে অসহায়। বাসাবাড়ি, অফিস-আদালত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মস্থল সর্বত্রই মশার উৎপাত। রাতে তো বটেই, দিনের বেলায়ও মশার অত্যাচার। মশারি টানিয়ে, কয়েল জ্বালিয়ে, ইলেকট্রিক ব্যাট কিংবা মশানাশক ওষুধ স্প্রে করেও মশা থেকে রেহাই মিলছে না।

নগরবাসীর অভিযোগ রয়েছে, ওষুধ স্প্রে করার জন্য প্রতি ওয়ার্ডে ৪ জন করে কর্মী থাকলেও কয়েক মাসেও তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যায় না।  

অভিযোগটি সঠিক নয় উল্লেখ করে প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রতিটি ওয়ার্ডে সপ্তাহ ভাগ করে স্প্রেম্যানদের দায়িত্ব দেয়া হয়। নগরীর একেকটি ওয়ার্ড অনেক বড়। মাত্র ৪ স্প্রেম্যান হওয়ায় কে কোথায় কোন রাস্তা বা ড্রেনে কাজ করছে এটা অনেকের চোখে পড়ার কথা নয়, তাই হয়তো তারা এই অভিযোগটি করছেন। ’ 

চলতি অর্থবছরেও ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে মশক নিধন খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে প্রায় ৩৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এরমধ্যে ডিএসসিসি বরাদ্দ ১৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) বরাদ্দ ২০ কোটি টাকা।  

গত কয়েক বছরের বাজেট পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে মশক নিধন কার্যক্রমে বাজেট বরাদ্দ রাখা হয়েছে ডিএসসিসির ১১ কোটি ৫০ হাজার টাকা ও ডিএনসিসির ২৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ডিএসসিসিতে বাজেট ছিল ১২ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং ডিএনসিসির এ খাতে বরাদ্দ ছিল ১৪ কোটি টাকা। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে নগরীর মশক নিধনে বরাদ্দ রাখা হয় ডিএসসিসির ১০ কোটি ৫০ লাখ টাকা। ডিএনসিসির ৮ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। এছাড়া ২০১২-১৩ অর্থবছরে বরাদ্দ রাখা হয়েছিল ১৭ কোটি টাকা। ২০১১-১২ অর্থবছরে ১৪ কোটি টাকা।  

অভিজাত এলাকাগুলোর বেশিরভাগ ফ্ল্যাট বাড়িতে জানালা-দরজায় নেট লাগানো সত্ত্বেও যেন রেহাই নেই মশার অত্যাচার থেকে। নিচতলা থেকে শুরু করে ২০ তলা পর্যন্ত সর্বত্রই মশার সমান উপদ্রব।

অভিযোগ রয়েছে, মশার ওষুধ ছিটানো হয় স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও সিটি কর্পোরেশন কর্মকর্তাদের পছন্দের এলাকায়। কোথাও কোথাও ছয় মাসেও একবার দেখা যায় না আবার কোথাও মাসে দুই থেকে তিনবারও ওষুধ ছিটানো হয়।
সিটি কর্পোরেশন সূত্র জানায়, ডিএসসিসির মশক নিধন বিভাগে স্প্রেম্যান রয়েছে ১৮৩ জন, ক্রু ১৫১ জন এবং সুপারভাইজার ১০ জন। মশা নিধনের জন্য ৩৮৭টি ফগার মেশিন, ৪৩৮টি হস্তচালিত মেশিন, ৩৬টি হুইল ব্যারো মেশিন, ২টি ইউএলভি মেশিন, ৫টি পাওয়ার স্পেয়ার এবং একটি ন্যাপসেক পাওয়ার রয়েছে।  

ডিএনসিসির মশক নিধন কর্মী রয়েছেন ৩০৯ জন। এর মধ্যে ১২০ জন স্প্রেম্যান এবং ১৮৯ জন ক্রুম্যান। সুপারভাইজার রয়েছেন ৮ জন। এছাড়া ২১৭টি ফগার মেশিন, ২৮৭টি হস্তচালিত মেশিন এবং একটি হুইল ব্যারো মেশিন রয়েছে।


মন্তব্য