kalerkantho


বই উৎসব আজ : নতুন বই নতুন আশা

► বিতরণ হবে ৩৫ কোটি বই
► ৯ বছরে বিতরণ ২৬০ কোটি

শরীফুল আলম সুমন   

১ জানুয়ারি, ২০১৮ ০২:২৭



বই উৎসব আজ : নতুন বই নতুন আশা

ফাইল ছবি

আজ নতুন বছরের শুরুর দিনটিতে বই উৎসব। কেন্দ্রীয়ভাবে রাজধানীর দুটি স্থানে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।
তবে দেশের লক্ষাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিটিতেই উৎসবের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হবে নতুন বই। ২০০৯ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে এ উৎসব উদ্‌যাপনের ফলে এটা এখন সর্বজনীন উৎসবের রূপ পেয়েছে।

অনেক স্কুলেই নতুন বইয়ের সেট মিলিয়ে ফিতা দিয়ে বেঁধে আকর্ষণীয়ভাবে শিশুদের হাতে তুলে দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। শিশুরাও নতুন আশা নিয়ে নতুন বই হাতে নিতে অধীর অপেক্ষায় রয়েছে। বছরের প্রথম দিনে শীতের পরশমাখা স্নিগ্ধ সকালে এ নতুন বই শিশুদের জন্য অনবদ্য এক উপহার হয়ে উঠবে।    

এবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় পৃথকভাবে বই উৎসবের আয়োজন করেছে। আজ সোমবার সকাল ১০টায় আজিমপুর গভর্নমেন্ট গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যপুস্তক উৎসবের উদ্বোধন করবেন। রাজধানীর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এতে যোগ দেবে। একই দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে প্রাথমিক স্তরের পাঠ্যপুস্তক উৎসবের উদ্বোধন করবেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান।

টানা নবমবারের মতো প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের সব শিক্ষার্থীর মাঝে বিনা মূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণের সব প্রস্তুতি ইতিমধ্যে শেষ করেছে। চার কোটি ৪২ লাখ চার হাজার ১৯৭ জন শিক্ষার্থীর হাতে তুলে দেওয়া হবে ৩৫ কোটি ৪২ লাখ ৯০ হাজার ১৬২টি বই। এর আগে গত আট বছরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ২২৫ কোটি ৪৫ লাখ ১১ হাজার ৭৫০টি বই ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করেছে সরকার। অর্থাৎ গত ৯ বছরে ২৬০ কোটি ৮৫ লাখ ৯১ হাজার ২৯০ কপি বই দেওয়া হয় শিক্ষার্থী, যা বিশ্বেও এক বিরল দৃষ্টান্ত, অনন্য নজির। এবার মাধ্যমিক স্তরে দেওয়া হচ্ছে ২৪ কোটি ৩৬ লাখ ৮৪ হাজার ৪২৮টি এবং প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের দেওয়া হচ্ছে ১১ কোটি ছয় লাখ এক হাজার ৫২১টি বই।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র সাহা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘শতভাগ বই পৌঁছে গেছে। তবে গত কয়েক দিন কুয়াশার কারণে ট্রাক চলাচলে সামান্য বাধার সৃষ্টি হয়েছে। সেসব উপেক্ষা করেই যথাসময়ে বই পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এই ৩৫ কোটি বই ছাপানো ও যথাসময়ে পৌঁছে দেওয়াটা একটা মহাযজ্ঞ। শিক্ষামন্ত্রী মহোদয় সার্বক্ষণিক এ ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়েছেন। সকলের প্রচেষ্টায়ই আমরা সফলভাবে আমাদের কাজ শেষ করতে পেরেছি। ’

এনসিটিবি সূত্র জানায়, দ্বিতীয়বারের মতো নিজেদের ভাষায় বই পাচ্ছে চাকমা, মারমা, সাদ্রী, গারো ও ত্রিপুরা নৃগোষ্ঠীর শিশুরা। এ ছাড়া এত দিন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরাও ছিল অবহেলিত। অনেকেরই পড়ার আগ্রহ থাকলেও বই জোগাড় করা সম্ভব হতো না। তাই ২০১৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে তাদেরও দেওয়া হচ্ছে বিনা মূল্যের ব্রেইল বই।

সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ রাজধানীর কয়েকটি ছাপাখানা পরিদর্শন শেষে বইয়ের মান নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘গত বছরের চেয়ে এবার ১০ লাখ ৭০ হাজার ৯৬৬ জন শিক্ষার্থী বেড়েছে। বই বেশি ছাপা হয়েছে ৭১ লাখ ৯৩ হাজার ৩৬৯টি। এবারের বইগুলো ভালো মানের কাগজে ছাপা হয়েছে। বইগুলো আকর্ষণীয় ও রঙিন। নবম-দশম শ্রেণির ১২টি সুখপাঠ্য বই দামি কাগজে রঙিন ছবিসহ ছাপা হয়েছে।’


মন্তব্য