kalerkantho


জাতীয় কমিটির সভায় বিশিষ্টজনরা

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে দরকার সমন্বিত গণপরিবহন ব্যবস্থা

নিজস্ব প্রতিবেদক    

৫ জানুয়ারি, ২০১৮ ১৭:৪৮



সড়ক দুর্ঘটনা রোধে দরকার সমন্বিত গণপরিবহন ব্যবস্থা

সড়ক দুর্ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাজনীতিবিদ, আইনজীবীসহ বিশিষ্ট নাগরিকরা। তাঁরা বলেছেন, গণপরিবহন খাতের নৈরাজ্য ও শ্রমিক অসন্তোষ দূর করা না গেলে সড়ক দুর্ঘটনা কমানো যাবে না। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে দরকার নৌপথ, সড়কপথ ও রেলপথের মধ্যে সমন্বয় করে একটি সমন্বিত গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা। এ জন্য সুপরিকল্পিত প্রকল্প প্রণয়ন ও তা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।

আজ শুক্রবার রাজধানীর পুরানা পল্টন কমরেড মণি সিংহ সড়কস্থ মুক্তি ভবনে নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটি আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন বক্তারা।

'সড়ক দুর্ঘটনা, প্রাণহানি ও প্রতিকার' শীর্ষক এই সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় কমিটির সভাপতি হাজী মোহাম্মদ শহীদ মিয়া। সভায় প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আশীষ কুমার দে। বক্তব্য দেন সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য নুরুর রহমান সেলিম, সিপিবির কেন্দ্রীয় সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, বুয়েটের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মীর তারেক আলী, প্রকৌশলী ম. ইনামুল হক, মানবাধিকারকর্মী ব্যারিস্টার সাদিয়া আরমান, বিএফইউজে'র সাবেক মহাসচিব আবদুল জলিল ভূঁইয়া, সাংবাদিক রাজন ভট্টাচার্য, মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী তাসলিমা পারভীন কল্পনা, সংস্কৃতিকর্মী বিপুল মোল্লা, পরিবেশকর্মী ইফমা হুসেইন এবং আয়োজক সংগঠনের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সম্পাদক মুর্শিকুল ইসলাম শিমুল এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হীরক পাশা চৌধুরী।

বক্তারা বলেন, সাধারণ মালিকদের হয়রানি বন্ধ ও শ্রমিক-কর্মচারীদের ন্যায্য মজুরি-ভাতা দেওয়া না হলে এ খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা মোটেও সম্ভব নয়। এ জন্য ঢাকাসহ সারা দেশের বাস-ট্রাক টার্মিনালগুলোকে চাঁদাবাজিমুক্ত এবং চালক ও সহকারীসহ সব ধরনের পরিবহনকর্মীদের নিয়োগপত্র দিতে হবে।

সভায় উত্থাপিত প্রবন্ধে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ১৪ দফা সুপারিশ উত্থাপন করা হয়। সেখানে বলা হয়, ড্রাইভিং লাইসেন্সপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি পাশ বাধ্যতামূলক করতে হবে। পরিবহনকর্মীদের নিয়োগপত্র ও শ্রম আইন মেনে মজুরি-ভাতা প্রদান ও তাদের শ্রমঘণ্টা নির্ধারণ করতে হবে। সকল বাস ও ট্রাক টার্মিনাল এবং টেম্পোস্ট্যান্ড ও দূরপাল্লার রুটে অবৈধ চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। বেসরকারি উদ্যোগে বাস আমদানি উৎসাহী করতে বিভিন্ন পর্যায়ে হয়রানি ও চাঁদাবাজি বন্ধ এবং রুট পারমিটপ্রাপ্তি সহজ করতে হবে। ত্রুটিপূর্ণ গাড়ি ও লাইসেন্সবিহীন চালকদের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে সারা বছর বিআরটিএ'র অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে হবে। ত্রুটিপূর্ণ গাড়ি চালানোর দায়ে চালক, সুপারভাইজার ও সহকারীর সঙ্গে মালিককেও আইনের আওতায় আনতে হবে। দুর্ঘটনায় প্রাণহানির জন্য দায়ী চালকের মৃত্যুদণ্ড, সহকারীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও আহতের ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং হতাহত পরিবারকে মালিকের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদানে আইন প্রণয়ন করতে হবে।

এতে আরো বলা হয়, সড়ক, মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কগুলো নিয়মিত সংস্কার, ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকগুলো চিহ্নিতকরণ এবং সতর্ক সংকেত স্থাপন করতে হবে। ট্রাফিক আইন অমান্যকারী চালক ও সহকারীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। নছিমন- করিমনসহ স্থানীয়ভাবে তৈরি ক্ষুদ্র যানবাহন ও অটোটেম্পো, হিউম্যান হলার চলাচলের ওপর নজরদারি বাড়ানো এবং ওইসব যানবাহনের চালক ও সহকারীর লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করতে হবে।

রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ রুটসহ দেশের সকল আন্তঃজেলা রুটে বিআরটিসির সার্ভিস চালু করতে হবে। বিআরটিসির বাস ব্যক্তি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে ইজারা প্রদানের প্রথা বাতিল ও বিআরটিসির বাস চলাচলে বাধা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। চালকসহ পরিবহন শ্রমিকদের সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। এ ছাড়া সকল যানবাহনে 'যাত্রীবিমা' এবং চালক, সুপারভাইজার ও সহকারীদের জীবনবিমা বাধ্যতামূলক করতে হবে।

সভায় মূল প্রবন্ধে সড়ক দুর্ঘটনার গত তিন বছরের মাসভিত্তিক পরিসংখ্যান ও পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়। সেখানে বলা হয়, ২০১৭ সালে সারা দেশে তিন হাজার ৪৭২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫১৬ নারী ও ৫৩৯ শিশুসহ মোট চার হাজার ২৮৪ জন নিহত এবং ৯ হাজার ১১২ জন আহত হয়েছেন। আগের বছর ২০১৬ সালে দুই হাজার ৯৯৮টি দুর্ঘটনায় ৪৭০ নারী ও ৪৫৩ শিশুসহ তিন হাজার ৪১২ জন নিহত এবং আট হাজার ৫৭২ জন আহত হন। সড়ক দুর্ঘটনায় বার্ষিক ক্ষতির পরিমাণ ৩৪ হাজার কোটি টাকা বা জিডিপির দুই শতাংশ বলে জানানো হয়।


মন্তব্য